আমাজন এ বিনা পুঁজিতে পার্ট টাইম আয়ের সুযোগ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব, রিলস-এ এখন প্রায়শই টাকা রোজগার করার নানা সহজ উপায়ের কথা বলা হয়। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আয় করতে প্রয়োজন সচেতনতার।

আমাজনের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে সেখান থেকেও চাইলে যে কেউ বাড়তি আয় করতে পারে।

নিজের ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে আমাজান থেকে কিভাবে আয় করা যায় তা হয়তো অনেকের কাছে অজানা।

চলুন দেখি নেই আয় করার পদ্ধতি গুলো কি কি

আমাজনে কম প্রশিক্ষণের কাজের তালিকায় প্রথমেই আসে ডেলিভারির দায়িত্ব। কিন্তু ভয় পাবেন না। সাধারণ ডেলিভারি পার্সনের মতো আপনার সারাদিন এই কাজ না করলেও চলবে।

আমাজন
আমাজন এর সাথে যুক্ত থাকতে একাউন্ট করে নিতে হবে

আপনার এলাকারই ২-৪ কিলোমিটারের মধ্যেই আপনি চাইলে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। আমাজনের ‘I Have Space’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য ডেলিভারি করতে পারেন।

এবার ধরুন কেউ কলেজ পড়ুয়া। উঠতি বয়স। তাছাড়া পড়াশোনার খরচও বাড়ছে। এমন সময়ে চাইলেই আমাজন এর সঙ্গে পার্টটাইম কাজ করার সুযোগ নিতে পারে।

আমাজন এর ‘Flex’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি নিজের সময় মতো, সুবিধা মতো পার্ট টাইম ডেলিভারির কাজ করতে পারেন। একটি সাইকেল বা মোটরবাইক হলেই যথেষ্ট।

যেভাবে শুরু করবেন:

কোনও দালাল চক্রের খপ্পরে পড়বেন না। সরাসরি আমাজন এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই যোগ দেওয়া যেতে পারে।

আমাজান এ বাড়তি আয়
সারাদিন মূল কাজের ফাঁকে আমাজান এ করা যায় বাড়তি আয়

I Have Space-IHS প্রোগ্রামের জন্য আপনার নিজের একটি দোকান থাকতে হবে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের পর আপনার দোকান অথবা বাড়ির ঠিকানায় এসেই আমাজনের প্রতিনিধি প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবে।

এরপর আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড চেকিং হবে। একটি সহজ ট্রেনিংও হবে। এরপরেই আপনি এতে অংশ নিতে পারবেন।

এরপর আপনারই দোকানে আমাজনের প্যাকেজ এসে যাবে। সেগুলো রাখার জন্য কিন্তু আপনার পর্যাপ্ত জায়গার প্রয়োজন হবে। ছোটখাটো একটি ঘর হলে সবচেয়ে ভাল।

এরপর আপনি সেগুলো গ্রাহককে ডেলিভারি দেবেন। যে কয়েকটি প্যাকেজ ডেলিভারি করলেন, তার ভিত্তিতে আপনাকে আমাজন টাকা দেবে। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে।

বাড়তি আয়ের হাতছানি:

‘Flex’ প্রোগ্রাম কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ জনপ্রিয়। অল্পবয়সী তরুণ-তরুণীরাই দ্রুত কিছু টাকার জন্য এই প্রোগ্রামে যোগ দেন।

সাইকেল বা মোটরসাইকেল কিংবা স্কুটার থাকলেই নেমে পড়া যায় এই কাজে আর বাড়তি আয় করে নিজের পকেট ভারি করার সুযোগ রয়েছে।

সহজ করে বললে, আপনার ফুল-টাইম অফিস, বাড়ির কাজ, পড়াশোনার সময়ের পর, আপনার যখন সুবিধা হবে, তখনই বাইক অথবা সাইকেল নিয়ে ডেলিভারি করতে বেরিয়ে যেতে পারবেন।

নারীরাও আজকাল সকলে স্বাবলম্বী হতে চান। অল্প বয়স থেকেই, পড়াশোনার পাশাপাশি কোনও কাজ খোঁজেন। সেক্ষেত্রেও এই ফ্লেক্স বা আই হ্যাভ স্পেস প্রোগ্রাম সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

আমাজন বলছে, নিয়মিত তারা ডেলিভারি পার্টনাররা কোথায় আছেন, কেমন আছেন তার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি পার্টনাররা নিরাপত্তা বিধি মেনে চলছেন কিনা তা লক্ষ্য রাখা হয়।

তাছাড়া এমনভাবে রুট ও প্যাকেজ সাজানো হয়, যাতে ডেলিভারি পার্টনারদের খুব বেশি ঘুরপাক বা ঝুট ঝামেলার মধ্যে না পড়তে হয়।

বড় পরিসরে ব্যবসার হাতছানি:

আবার কেউ যদি আরও একটু বড় পরিসরে কাজ করতে চায় সেই সুযোগও দিচ্ছে আমাজন। সেক্ষেত্রে ‘ডেলিভারি সার্ভিস পার্টনার’ নামেও আমাজনের একটি কাজ রয়েছে।

এখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্ব হবে আমাজনের শেষ মাইলের ডেলিভারি করানো। এ কাজে আমাজন প্রযুক্তি, পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সহায়তা করে থাকে।

এই আয়ের সুযোগ নিতে খুব বেশি ব্যবসায়িক জ্ঞান বা প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজনই নেই। ব্যক্তির আগ্রহটাই সবার আগে প্রয়োজন।

যারা মূল কাজের ফাঁকে বাড়তি আয়ের সুযোগ খুঁজছেন তাদের জন্য উত্তম পন্থা হতে পারে আমাজন এর এই সুযোগ কাজে লাগানো।

Leave a Reply

%d bloggers like this: