জাপানের রাজপরিবার আর কতদিন টিকবে?

জাপানের রাজপরিবার আর কতদিন টিকবে?

রাফি সরকার: নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ক্রাউন প্রিন্স ফিউমিহিতোর সিংহাসনে আরোহণ উদযাপনের জন্য অনুষ্ঠানের কথা বিবেচনা করছে জাপানের সরকার।

গত এপ্রিলেই জাপানের রাজপরিবারের “রিক্কোশি নো রে” অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন করার কথা ছিল তবে করোরা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তা স্থগিত করা হয়।

গত বছরের মে মাসে তার ভাই সম্রাট নারুহিতো সম্রাট হিসেবে জাপানের সিংহাসনে আরোহণের পরে রাজপরিবারের এই ৫৪ বছর বয়সী পুরুষ সদস্য ক্রাউন প্রিন্সের নতুন মর্যাদা পান।

চলতি মাসের চার দিনের ছুটির পরে করোনা সংক্রমণের বিস্তার পর্যালোচনারা পরে সরকার অনুষ্ঠানের আয়োজন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণের জন্য একটি আহবায়ক প্যানেলের আয়োজন করা হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

আশা করা হচ্ছে তারিখ চূড়ান্ত করার পরে কমপক্ষে এক মাস সময় লাগবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে।

সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর সাথে সাক্ষাতের অনুষ্ঠান:

গত ১৯ এপ্রিল সরকার ক্রাউন প্রিন্স ফুমিহিতোর নতুন মর্যাদা ও সম্রাট এবং সম্রাজ্ঞীর সাথে সাক্ষাতের জন্য “রিক্কোশি সেনমেই নো জি” ও “চোকেন নো জি” নামে দুটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা। তাতে বাধ সাধে করোনা ভাইরাস।

জাপানে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরে প্রথমে সরকার অনুষ্ঠানে অতিথিদের সংখ্যা ৫৫০ থেকে কমিয়ে ৫০ জনে আনার পরিকল্পনা করেছিল পরে অনুষ্ঠান পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া সরকার।

আগস্টের মাঝামাঝি থেকে জাপানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমতে থাকে। জাপান সরকার ধীরে ধীরে বিভিন্ন বিধি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে থাকে।

রাজপরিবারের উত্তরাধিকার নিয়ে ভাবনা:

ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা অনুষ্ঠানের পরে, কীভাবে জাপানের রাজপরিবারের উত্তরাধিকার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায় সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা শুরু করবে জাপান সরকার।

১৯৪৭ সালের ইম্পেরিয়াল হাউস আইনের অধীনে জাপানের রাজপরিবারের আকার হ্রাস করা হয়। ওই আইন অনুযায়ী, কেবল পুরুষ সদস্যরাই জাপানের সিংহাসনে আরোহণ করতে পারবে।

সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকোর এক কন্যা রয়েছে তার নাম প্রিন্সেস আইকো (১৮)।

মে মাসে সম্রাট নারুহিতো জাপানের সিংহাসনে আরোহণ করলে তিনজন উত্তরাধিকার হয় । তারা হলেন ক্রাউন প্রিন্স ফিউমিহিতো, ক্রাউন প্রিন্সের ফিউমিহিতোর পুত্র প্রিন্স হিশাহিতো (১৩) ও সম্রাটের চাচা প্রিন্স হিতাচি (৮৪)।

সম্রাট আকিহিতো সিংহাসন ত্যাগ করলে তাঁর জায়গায় নতুন সম্রাট হন যুবরাজ নারুহিতো। ২০১৮ সালে সম্রাট আকিহিতো সিংহাসন ত্যাগ করেন।

কমছে রাজপরিবারের কলেবর:

জাপানে রাজপরিবারের কলেবর যেভাবে দিনে দিনে কমছে, তাতে কতদিন সেখানে এই পরিবারের বংশধারা টিকিয়ে রাখা যাবে সে প্রশ্ন উঠেছে।

নিয়ম অনুযায়ী কেবলমাত্র রাজপরিবারের পুরুষ সদস্যরাই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। রাজপরিবারের মেয়েরা যখন কোন সাধারণ নাগরিককে বিয়ে করেন, তখন তারাও সাধারণ নাগরিকে পরিণত হন, রাজপরিবারের অংশ থাকেন না।

সম্রাট আকিহিতোর দুই ছেলে, যুবরাজ নারুহিতো ও যুবরাজ ফুমিহিতো। যুবরাজ নারুহিতো এখন জাপানের সম্রাট। তার দুই কন্যা সন্তান। কাজেই তাদের কারও রাজসিংহাসনে বসার সুযোগ নেই।

একমাত্র ভরসা হিসাহিতো:

নারুহিতোর পর কাজেই রাজ সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হবেন ফুমিহিতোর দশ বছর বয়সী ছেলে হিসাহিতো। তিনিই রাজপরিবারের বংশলতিকা টিকিয়ে রাখার জন্য একমাত্র ভরসা।

দুই বছর আগে সম্রাট আকিহিতোর নাতনি রাজকুমারী মাকো বিয়ে করছেন একটি ল ফার্মে কর্মরত এক সাধারণ নাগরিককে।

এর ফলে রাজকুমারী মাকোকে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সাধারণ নাগরিকের জীবন বেছে নিতে হয়। তার ছেলে-মেয়েরাও আর রাজপরিবারের কেউ বলে বিবেচিত হবে না।

রাজপরিবারের কলেবর যেহেতু কমছে, তাই রাজকুমারীদেরও রাজপরিবারের ভেতরে বিয়ের সম্ভাবনা কমছে। তারা অনেকেই সাধারণ নাগরিকদেরই বেছে নিচ্ছেন জীবনসঙ্গী হিসেবে।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে কতদিন আর জাপানের রাজপরিবার টিকিয়ে রাখা যাবে।

সংসদে পূর্ণ বিতর্ক তুলবেন প্রধানমন্ত্রী:

জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদ সুগা প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব এর দায়িত্ব পালনকালে গত ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিলেন সংসদীয় প্যানেল রাজপরিবারের উত্তরাধিকার বিষয়ে পূর্ণ বিতর্ক করার পরিকল্পনা করছে।

এখন সুগা জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজপরিবারের উত্তরাধিকারের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানের সম্রাটদের প্রশাসনিক কোন ক্ষমতা না থাকলেও সম্মানের দিক দিয়ে তারা দেশটির সবচেয়ে উপরে অবস্থান করে।

শত বছর ধরে সম্রাটদের সম্মান করে আসছে জাপানের নাগরিক সহ আশেপাশের দেশের সরকার ও সাধারণ নাগরিকরা।

তথ্যসূত্র: কায়ডো নিউজ ও বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *