১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস কেন পালন করা হয়?  

১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস কেন পালন করা হয়?  

শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বছরে একাধিকবার বিভিন্ন নামে শিশু দিবস পালন করা হয়। এর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো করে পালন করে জাতীয় শিশু দিবস।

আন্তর্জাতিকভাবে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ পালন করা হয়। এছাড়া ১১ অক্টোবর সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়। শিশুদের জন্য এমন আরও কয়েকটি দিবস রয়েছে।

এর বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোন দিনকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। জুনের দ্বিতীয় রবিবার আমেরিকায়, ১ জুলাই পাকিস্তানে, ৪ এপ্রিল চীনে জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয়।

অন্যদিকে ব্রিটেনে ৩০ আগস্ট, জাপানে ৫ মে, পশ্চিম জার্মানিতে ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়। এদিকে ভারতে জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয় ১৪ নভেম্বর। দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর জন্মদিন ১৪ নভেম্বর।

তবে সব দেশেই শিশু দিবস পালনের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের শিশুদের অধিকার ও তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ফের একবার সচেতনতার বার্তা দেওয়া।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বা বিশ্ব শিশু দিবস পালন হলেও জাতীয় শিশু দিবস ছিল না। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন মন্ত্রিসভা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চকে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করে। ১৯৯৭ সাল থেকেই দিবসটি পালন শুরু হয়। এ দিনটিকে সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মদিন পালন করতেন না। তিনি শিশুদের খুবই ভালোবাসতেন। তার জন্মদিনটি তিনি শিশুদের সঙ্গে কাটাতে পছন্দ করতেন।

ওইদিন শিশুরা দল বেঁধে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যেত। শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর দরদ ছিল অপরিসীম। তাই তার জন্মদিনকে শিশুদের জন্য উৎসর্গ করে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করা হয়।

২০০১ সালে তৎকালীন সরকার শিশু দিবস পালন ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দিবসটি পালিত হয়নি।

পরবর্তীতে নবম জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সরকার আবারও প্রতিবছর জাতীয় পর্যায়ে আয়োজনের মাধ্যমেই শিশু দিবস পালন পালন করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *