হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে অন্য দিকে ঝুঁকছে ব্যবহারকারীরা

হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে অন্য দিকে ঝুঁকছে ব্যবহারকারীরা

ব্রিটেন ও ইউরোপের দেশগুলোকে বাদ দিয়ে গোটা বিশ্ববাসীর জন্য নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হোয়াটসআপ। সংস্থাটির এমন সিদ্ধান্তের কারণে অনেকে এটি ছেড়ে যোগাযোগের অন্য মাধ্যম বেছে নিচ্ছেন।

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ কল করতে ও ম্যাসেজ আদান-প্রদানের জন্য হোয়াটস্অ্যাপ ব্যবহার করছে। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছে সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ একটি বার্তা পাঠিয়েছে। ব্যবহারকারীদের জন্য সেখানে কিছু শর্ত দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হচ্চে, এসব শর্ত যারা আমলে নিবে না বা গ্রহণ করবে না তারা ৮ ফেব্রুয়ারি পর থেকে আর হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না। এ শর্ত পৃথিবীর সব দেশের জন্য। তবে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না বলেও জানায় হোয়াটসআপ। 

হোয়াইটআপ কি?

হোয়াটসঅ্যাপ হচ্ছে অ্যান্ড টু অ্যান্ড এনক্রিপটেড। এখানে কোন কল বা বার্তা আদান প্রদান করলে সেটি হ্যাক করার সুযোগ নেই। অর্থাৎ যে কারো পাঠানো বার্তা ও কথোপকথন গোপন থাকবে। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের মনে একটি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসব তথ্য দেওয়া হলে গোপনীয়তা বজায় থাকবে কিনা

হোয়াট্সঅ্যাপ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ?

হোয়াটসঅ্যাপ এর মালিক হচ্ছে ফেসবুক। ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের কিছু তথ্য শেয়ার করতে হবে এসব তথ্য শেয়ার না করলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না সেজন্যই ব্যবহারকারীদের তথ্য দিতে বাধ্য করছে হোয়াটসঅ্যাপ। ব্যবহারকারীদের এসব শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ যে চাপ তৈরি করছে সেটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

যে ধরনের তথ্য দিতে হবে:

কি ধরনের তথ্য দিতে হবে সেটি নিয়ে অনেকের মধ্যে নানারকম প্রশ্ন আছে।

যেমন-

১.ব্যবহারকারীদের নাম দিতে হবে

২. তার ফোন নাম্বার দিতে হবে

৩.ফোন সেট সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। যেমন- ধরুন কোন কোম্পানির সেট ও সেটের মডেল কি ইত্যাদি বিষয় তথ্য দিতে হবে।

৪.আইপি অ্যাড্রেস । অর্থাৎ কোন ইন্টারনেট সংযোগ আপনি ব্যবহার করছেন সে সংক্রান্ত তথ্য হোয়াটসঅ্যাপকে দিতে হবে

৫. আর্থিক লেনদেনের তথ্য অর্থাৎ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে কোন আর্থিক লেনদেন তথ্য যদি থাকে সেটি আপনাকে দিতে হবে।

হোয়াটসআপের ভাষ্য:

নতুন প্রাইভেসি পলিসি নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছে। তারা বলছে নতুন নিয়মকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নানান ধরনের গুজব তৈরি হয়েছে। অনেকে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছেন। হোয়াটসঅ্যাপ বলছে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কল করা এবং বার্তা আদান প্রদানের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার কোন সমস্যা হবে না।

হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, তারা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মেসেজ দেখতে পারেন না কিংবা কলের কথাও শুনতে পারেন না। যারা কল করছেন ও মেসেজ আদান প্রদান করছেন তাদের কোনো রেকর্ডও রাখা হয় না এমনটাই জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে যে গ্রুপগুলো করা হয় সেগুলো গোপনীয়ই থাকবে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে মেসেজ মুছে যাওয়ার বিষয়টির ব্যবহারকারীরা সেট করে রাখতে পারবেন তাতে করে নির্দিষ্ট সময় পর অটোমেটিক সেগুলো মুছে যাবে। এছাড়া ব্যবহারকারীদের লোকেশন হোয়াটসঅ্যাপ দেখতে পারবে না বলেও জানিয়েছে।

যে পরিবর্তন হচ্ছে:

এগুলো যদি ঠিক থাকে তাহলে কি ধরনের পরিবর্তন আসছে সেটি বড় বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে যেসব পরিবর্তন আসবে সেগুলো মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যের সংক্রান্ত মেসেজ আদান প্রদানের ক্ষেত্রে হবে।

যেমন- আপনার ফেসবুকে প্রায়শই আপনি দেখবেন বিজ্ঞাপন আসে এসব বিজ্ঞাপনের অনেক জায়গায় দেখবেন কোনো পণ্য ক্রয় করতে হলে আপনি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে মেসেজ পাঠাতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি কোন ধরনের পণ্যের জন্য আগ্রহী সেটি ফেসবুক জানতে পারবে এবং সে অনুযায়ী ফেসবুক আপনাকে বিজ্ঞাপন পাঠাতে পারবে।

ধরুন আপনি বাই-সাইকেলে ক্রয় সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন যদি দেখেন তাহলে সে ধরনের বিজ্ঞাপন আপনার হোমপেজে বেশি আসবে। তবে বন্ধুবান্ধব পরিবার অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আদান-প্রদান করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মেসেজ আদান-প্রদান করা এক কথা নয়।

অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কাস্টমারদের সাথে মেসেজ আদান-প্রদান করেন। এ ধরনের কোনো তথ্য আদান-প্রদান করা হলে ক্রেতাদের আগ্রহ সম্পর্কে জানতে পারবে ফেইসবুক তবে সেই ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের বিষয়টি তারা জানিয়ে রাখবে যে কোন ধরনের তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে।

মানুষ অন্য দিকে ঝুঁকছে:

হোয়াটসঅ্যাপ এর নতুন নিয়ম ঘোষণা করায় উদ্বিগ্ন হয়ে অনেকেই ভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের কথা চিন্তা করছে । সে ক্ষেত্রে সিগনাল ও টেলিগ্রাম অনেকের কাছে পছন্দসই হয়ে উঠেছে। হোয়াটসঅ্যাপ নতুন নিয়ম ঘোষণা করার পর কয়েকদিনের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে সিগনাল ও টেলিগ্রাম ডাউনলোডের হিড়িক পড়ে গেছে।

ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্সর টাওয়ারের হিসেব মতে, হোয়াটসঅ্যাপ নতুন নিয়ম ঘোষণা দেওয়ার আগে সিগনাল ডাউনলোড করা ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার বার তবে এরপর এক সপ্তাহে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে 88 লাখে। সিগনাল সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হয়েছে ভারতে। দেশটিতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২০০০ থেকে বেড়ে ২৭ লাখ হয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হয়েছে টেলিগ্রাম। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি ডাউনলোড হয়েছে ৪৫ লাখ বার। অন্যদিকে এই সময়ের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ ডাউনলোড ২ মিলিয়ন বা ২০ লাখ কমে গেছে। তবে তারপরেও ব্যবহারকারীদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ একটি জনপ্রিয় যোগাযোগের মাধ্যম থাকবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *