স্কুলের রেজাল্ট নিয়ে বিশ্বের ৫ সফল ব্যক্তির মতামত

স্কুলের রেজাল্ট নিয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের মতামত

আমেরিকার বিখ্যাত উদ্যোক্তা, অ্যানিমেটর, কণ্ঠশিল্পী ও ফিল্ম প্রডিউসার ওয়াল্ট ডিজনি। বৈদ্যুতিক বাল্বের আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসন, বিশিষ্ট বক্তা, কূটনীতিক ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, জগত বিখ্যাত মোনালিসার সৃষ্টিকর্তা লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি লেখাপড়ার রেজাল্ট বাজে ছিল। তারা সবসময় ছকের বাইরে চিন্তা করতেন। প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে ব্যর্থ ও অদক্ষ হিসেবে নাম লেখানো এ ব্যক্তিরাই জীবনে এমন সফল ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন যাদের জন্য আমরা গর্ববোধ করি।

আলবার্ট আইনস্টাইন:

প্রাতিষ্ঠানিক রেজাল্ট নিয়ে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের মত, জ্ঞানের চেয়ে কল্পনাশক্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যারা মাত্রাতিরিক্ত প্রাতিষ্ঠানিক বই পড়েন ও নিজের মস্তিষ্ককে কম কাজে লাগান তাদের চিন্তা-ভাবনার অভ্যাসে অলসতা চলে আসে। কিছু মানুষ আছে যারা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বই ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না। তারা পাঠ্য-পুস্তকেই সবসময় মাথা ডুবিয়ে রাখেন। এরা আসলে বাস্তব জগৎ থেকে অনেকটা দূরে।

পড়াশোনা ও জ্ঞান আহরণের মাঝে পার্থক্য বুঝতে হবে। আর সেই জ্ঞান দিয়ে কী করে পরের উপকার করা যায় তা বের করার চেষ্টা করতে হবে। স্কুলের বই পড়ে যেটুকু জানা যাবে বাস্তবিক অনুশীলনে তার চেয়ে অধিক গুণ বেশি জানা যাবে। সব সময় ছক ভাঙার চেষ্টায় নিয়োজিত থাকতে হবে। কেননা স্কুলের ধরাবাঁধা নিয়মের ভেতরে তাদের অনুভূতি ও চিন্তাগুলো ডানা মেলতে পারে না বলে মত আইনস্টাইনের।

বিল গেটস:

প্রাতিষ্ঠানিক রেজাল্ট নিয়ে মাইক্রেসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেন, ‘আমি স্কুলের পরীক্ষায় কিছু বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলাম এবং আমার এক বন্ধু সব বিষয়েই কৃতকার্য হয়েছিল। এখন আমার সেই বন্ধুটি মাইক্রোসফটের একজন প্রকৌশলী এবং আমি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা। যারা জীবনে সফল হয়েছেন এবং পৃথিবীর জন্য ভালো কিছু করে গেছেন তাদের বেশিরভাগেরই প্রাতিষ্ঠানিক রেজাল্ট ভালো ছিল না। তাদের কাছে সফলতা হলো আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান, সংকল্প এবং জ্ঞানালোকের মিশ্রণ। তারা ঝুঁকি গ্রহণকারী।

জিম রোহান:

প্রাতিষ্ঠানিক রেজাল্ট নিয়ে আমেরিকার উদ্যোক্তা, লেখক ও মেটিভেশনাল স্পিকার জিম রোহানের মত , ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হয়ত তোমাকে জীবিকা দেবে আর আত্ম শিক্ষা তোমাকে একটি ভাগ্য দেবে। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পরামর্শ নেবে তবে আদেশ নয়। স্কুলকে পরম শিক্ষার স্থান মনে করার চেয়ে আত্ম-শিক্ষণ পদ্ধতিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। স্কুলের নির্দিষ্ট সিলেবাস কোনো বিষয়ের নির্দিষ্ট অংশই শেখায় কিন্তু আত্ম-শিক্ষণের কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। তাই সফল হওয়ার জন্য ইচ্ছামতো শিখার পরামর্শ দেন জিম রোহান।

চাক গ্র্যাসলে:

প্রাতিষ্ঠানিক রেজাল্ট নিয়ে মার্কিন সিনেটর চাক গ্র্যাসলে বলেন, ‘স্কুলের ভালো গ্রেড দিয়েই বোঝা যায় না যে একটা শিশু কতটা প্রতিভা-সম্পন্ন এবং মেধাবী। বিশ্বের বুকে নিজের নাম রেখে যেতে চাইলে বহুল প্রচলিত এই গ্রেডিং সিস্টেমের নিয়মের ভিন্নতা আনতে হবে। নিজের যোগ্যতাকে যাচাই করতে পড়াশোনা করতে হবে জানার জন্য, ক্লাসের সর্বোচ্চ নম্বরধারী ছাত্র হওয়ার জন্য নয়।

আজিম প্রেমজি:

প্রাতিষ্ঠানিক রেজাল্ট নিয়ে ভারতের বিখ্যাত ব্যবসায়ী পুঁজিপতি, বিনিয়োগকারী ও বিশ্বপ্রেমিক আজিম প্রেমজি বলেন, যদি তোমার লক্ষ্য দেখে কেউ না হাসে তাহলে বুঝবে তোমার লক্ষ্য অনেক অনেক ছোট। নিজের অভিধানে ‘নিরাপদ কাজ’এই শব্দটি রাখা যাবে না। স্বপ্নবাজ হতে হবে। সফলরা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন। আবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবেও পূরণ করেন। আর সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ছুটতে স্কুলের নিয়মগুলো মানতে ভুলে যান। ফলে স্কুলের সেরা ছাত্রটি হতে পারেন না। তবেই আত্ম-ত্যাগী ও ঝুঁকি গ্রহণ করতে জানায় ভয় কাটিয়ে বিশ্বকে জয় করেন।

আরো দেখুন

Leave a Comment