সাজসজ্জার সঙ্গী পেরেক

অফিস ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের রুম বা ফ্লোর ডেকোরেশন বা সাজসজ্জা করা হালে একটি প্রচলিত ধারায় পরিণত হয়েছে। এই ডেকোরেশনের কাজে সিমেন্টের দেয়ালের সাথে বোর্ড বা কাঠ লাগাতে তারকাটার জুড়িমেলা ভার।

এছাড়াও আসবাবপত্র ও ইমারত নির্মাণের প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয় পেরেক বা তারকাটা। বিশ্বায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে বর্তমানে পেরেক বা তারকাটার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

দিন দিনই পেরেকের চাহিদা বাড়ছে। পেরেকের চাহিদা গ্রামাঞ্চলে ও শহরাঞ্চলে সমান রয়েছে। ভবিশ্যতেও এর চাহিদা আরো বাড়বে। এবারের আয়োজন নানান রকম তারকাটা বা পেরেক নিয়ে-

 

কাঁচামাল:

পেরেক তৈরির কাঁচামাল হিসেবে আয়রণ ওয়্যার বা লোহার তার ব্যবহৃত হয়। এটি ৩০-৩২ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হয়। স্থানীয় বাজারে এসব কাঁচামাল পাওয়া যায়। তাছাড়া অনলাইনেও ও লোহার তার পাওয়া যায়।

পেরেকের রকমফের:

বাজারে অনেক ধরনের পেরেক পাওয়া যায়। উপাদানের ভিত্তিতে পেরেক সাধারনত দুই ধরনের হয়।
১. স্টিলের ও
২. লোহার

 

স্টিলের পেরেক:

স্টিলের পেরেক যথেষ্ট মজবুত হওয়ায় সহজে বেঁকে যায় না। ফলে যে মাধ্যমে পেরেক লাগানো হয় সে মাধ্যমও মজবুত হতে হয়। যেমন- সিমেন্টের দেয়ালে স্টিলের পেরেক ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন অফিস, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের রুম বা ফ্লোর সাজানোর কাজে স্টিলের পেরেক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এই ডেকোরেশনের কাজে সিমেন্টের দেয়ালের সাথে বোর্ড বা কাঠ লাগাতে স্টিলের তারকাটা ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও অফিস বা বাসা-বাড়িতে ছবির ফ্রেম, ওয়ালম্যাট, ওয়াল হ্যাঙ্গার ইত্যাদি দেওয়ালে ঝুঁলানোর কাজে স্টিলের পেরেক ব্যবহৃত হয়। বাজারে পাওয়া ভালোমানের স্টিলের পেরেক চীন থেকে আমদানী করা হয়।

তাছাড়া দেখতে স্টিলের মতো অমসৃণ এক ধরনের পেরেকও বাজারে পাওয় যায়। এর ফিনিশিংটা ভালো না হওয়ায় ব্যবহারের সময় বেঁকে যায়। দামেও এ পেরেক অনেকটাই সাশ্রয়ী। লোহার পেরেকের চেয়ে কিছুটা বেশি এই নকল পেরেকের মূল্যা। নিচে স্টিলের পেরেকের সাইজ ও দাম দেওয়া হলো-

লোহার পেরেক:

বিভিন্ন রকমের লোহার পেরেক বাজারে বিক্রি হয়। যেমন, স্বাভাবিক বা মোটা লোহার পেরেক, চিকন লোহার পেরেক, বোমা কাঁটা বা গোমা কাঁটা লোহার পেরেক।

এছাড়াও গজাল লোহা নামে বাজারে আরেক ধরনের লোহার পেরেক রয়েছে। লোহার পেরেকের বহুবিধ ব্যবহার চারপাশে হয়ে থাকে। কাঠের যে কোন অবকাঠামো যেমন- আসবাবপত্র তৈরি, ঘর তৈরি, ডেকোরেশন ফ্রেম তৈরি, নৌকা, ট্রলার, লঞ্চ, জাহাজ তৈরিতে লোহার পেরেক বহুল ব্যবহৃত হয়। নিচে বিভিন্ন ধরনের লোহার পেরেকের দাম দেওয়া হলো-

 

মোটা পেরেক
পেরেক

বোমা-কাঁটা:

বোমা-কাঁটা বা গোমা-কাঁটা যা জুতা তৈরি ও মেরামতের কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়। সাধারনত জুতার কারখানা, মুচীর দোকান এবং কাঠের আসবাবপত্রে রেকসিন বা চামড়ার ব্যবহারে এই বোমা-কাঁটা বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। নিচে বোমা কাটাঁর সাইজ ও দরদাম দেওয়া হলো-

পেরেক

গজাল লোহা:

অনেক আগে থেকে উপমহাদেশে গজাল লোহার ব্যবহার হয়ে আসছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌ-পথে যাতায়াতের মাধ্যম কাঠের তৈরি নৌকা, মাছ ধরার ট্রলার, লঞ্চ এমনকী বহুযুগ আগেরকার কাঠের তৈরি জাহাজ তৈরিতে ব্যপকভাবে গজাল লোহার ব্যবহার হতো।

ভারী এক বা একাধিক কাঠকে মজবুতভাবে আটকে রাখতে এর জুড়ি নেই। কাঠের ঘরের খুঁটি জোড়া দেওয়া, দৌড়ী ( দরজার নিচের কাঠ), পাইর ( দরজার উপরের কাঠ) ইত্যাদির ভারী কাঠ লাগানোর জন্য গজাল লোহার ব্যবহৃত হয়।

বাজারে পাওয়া প্রচলিত সাইজ ও দাম নিচে দেওয়া হলো।

পেরেক
প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি:

১. ওয়্যার নেল মেকিং মেশিন,
২. ওয়্যার নেল পলিশ মেশিন
৩. ওয়্যার নেল গ্রেন্ডার মেশিন।

পেরেক তৈরি করতে এই তিনধরনের মেশিন লাগে। ওয়্যার নেল মেকিং মেশিন এর সর্বনিম্ন দাম দেড় লাখ টাকা। এছাড়া দুই লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। বাজেট অনুযায়ী এই মেশিন ক্রয় বিক্রি করে থাকেন ব্যবসায়ীরা।

ওয়্যার নেলপলিশ মেশিন এর সর্বনিম্ন দাম ৫০ হাজার টাকা। ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হয় এই মেশিন বাজারে কেনাবেচা হয়। সাধ্য অনুযাই যে যার মতো এই মেশিন ক্রয় করে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন।।

ওয়্যার নেল গ্রেন্ডার মেশিনের সর্বনিম্ন দামও ৫০ হাজার টাকা। দুই তিন লাখ টাকা দামের মেশিনও বাজারে পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা বাজেট অনুযায়ী এই মেশিন ক্রয় করে থাকেন। পেরেক তৈরির কারখানার জন্য ৮০০-১০০০ ফুট জায়গা লাগে। আর প্রয়োজন বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগ।

ওয়্যার নেল মেকিং মেশিন দিয়ে প্রথমে পেরেক তৈরি করা হয় পরে ওয়্যার নেলপলিশ দিয়ে স্বচ্ছ বা পরিষ্কার চকচকে করা হয়। আর গ্রেন্ডার মেশিন দিয়ে বিভিন্ন সাইজের পেরেক বানানো হয়।

 

ক্যাপাসিটি বা উৎপাদন:

১ দিনে ৫০০ কুইন্টাল পেরেক উৎপাদন করা যায়। বিক্রির উপর লাভ নির্ভর করে। পাইকারী দামে যে কোনো দোকানে পেরেক বিক্রি করা হয়। আবার অনেকে ডিলারের মাধ্যমে ও পেরেক বিক্রি করে থাকেন।

আরো দেখুন

Leave a Comment