সরিষা তেলের এই ৫ গুণ সম্পর্কে কি জানা আছে?

শারীরিক কোনো সমস্যা হলে আগের দিনের মানুষরা প্রাকৃতির উপর নির্ভর করতেন। তখন বিজ্ঞানের এমন রমরমা অবস্থা ছিল না। সবার বাড়িতেই ছিল ঔষধী গাছ ও প্রাকৃতিক ভাবে সেফার অনক উপাদান। তেমনি অসাধারণ এক প্রাকৃতিক উপাদান হচ্ছে সরিষার তেল। সরিষা তেল কম বেশি সবার বাড়িতেই থাকে। এক সময়ের রান্না করার জন্যে অপরিহার্য সরিষার তেলের অনেক গুণাগুণ রয়েছে যা আমরা অনেকেই জানি না।

সরিষা তেলের গুণ রান্নার ক্ষেত্রে যেমন রয়েছে, তেমনি প্রতিদিনের অনেক ছোটখাটো সমস্যাতে এর প্রয়োগ রয়েছে। এবার জেনে নেওয়া যাক সরিষার তেলের অপরিহার্য ৫টি গুণের কথা।

এক, ত্বকের যত্নে:

সরিষার তেলে থাকে প্রোটিন, ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড এবং পরিমাণ মতো ভিটামিন এ। এটি ত্বকের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ত্বকের ব্রণ, ট্যান পড়া সব ক্ষেত্রেই সরিষার তেল কাজে দেয়। অল্প পরিমাণে তেল ভালো করে ম্যাসেজ করে ট্যান পড়া জায়গায় লাগান। তারপর তুলা পানিতে ভিজিয়ে ধীরে ধীরে মুছে নিলে কিছুদিনের মধ্যেই দারুণ কাজে দেয়। এছাড়া মুখের কালো দাগ ও ব্রণের দাগের সহজ সমাধান আছে। দু চামচ সরিষার তেল নিয়ে তার মধ্যে এক চামচ নারকেল তেল মেশান। এর মধ্যে এক চামচ লেবুর রস আর দু চামচ টক দই দিয়ে একটা প্যাক বানিয়ে মুখে মাখুন। ১০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেললে দাগ সরানোর পাশাপাশি মুখের জেল্লা বৃদ্ধি করে।

দুই, আর্থ্রাইটিসের উপশমে:

অনেকেই আর্থ্রাইটিসের ব্যথায় ভোগেন। পেইনকিলার খেয়ে তাৎক্ষনিক ব্যথা সারান। আর্থ্রাইটিসের ব্যথার উপশমে সরিষার তেল ভালো কাজ করে। সরিষার তেল ও আদা এক সাথে প্রদাহজনিত উৎসেচকের ক্রিয়ার গতি কমিয়ে তোলে। ফলে ব্যথার থেকে আরাম পাওয়া যায়। জয়েন্টের ব্যাথা থেকে রক্ষা পেতে সরিষার তেলের জুড়ি মেল ভাড়। পরিমাণ মতো সরিষার তেল কর্পূরের সাথে মিশিয়ে গরম করে ঠান্ডা হওয়ার পর মালিশ করলে আর্থ্রাইটিসের ব্যাথায় অসাধারণ কাজ দেয়।

তিন, হার্টের সুরক্ষায়:

ইদানিং চিকিৎসকেরা তেল কম খেতে আবার অনেক চিকিৎসক তেল খেতে নিষেধ করেন বিশেষ করে যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে। অনেকে বিকল্প হিসেবে নারকেল তেল, সয়াবিন তেল বা অলিভ তেল দিয়ে রান্না করে থাকেন। কিন্তু কম পরিমাণে সরিষার তেল অন্য যে কোনো তেলের চেয়ে ভালো। সরিষার তেলে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা ফলে শরীরের কোলেস্টেরলের পরিমাণ হ্রাসে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখে।

চার, রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা:

সরিষার তেল মানব দেহেরে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখে। বাধা যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখে। ফলে শরীর ঠিক থাকে ও শরীরের সারাদিনের ক্লান্তি ভরা পেশী গুলোকেও উজ্জীবিত ও সবল রাখে। সরিষার তেল কেবল কোলেস্টেরলই হ্রাস করে না, লোহিত রক্ত কণিকাও গঠন করতে দারুণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

পাঁচ, ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা:

শীতের মৌসুমে ছোট বড় প্রায় সবারই ঠান্ডা লেগে যায়। সরিষার তেল এই ঠান্ডা সারাতে চিকিৎসকের কাজ করে থাকে। ঠান্ডার কষ্ট লাঘব করে। এ তেল বুকে ম্যাসেজ করলে বুকের জমে থাকা কফ বেরুবে ও কমতে সহায়তা করে। একই সাথে বন্ধ নাক খোলার জন্যে সরিষার তেলের ভাপ কার্যকরি ভূমিকা রাখে। গরম করা ছাড়াও সরিষা তেল কর্টনবাড দিয়ে নাকের মধ্যে ঘুমানোর আগে দিয়ে রাখলে নাম পরিষ্কার থাকে।

আরো দেখুন

Leave a Comment