শীতকালে বিয়ে করার যত সুবিধা

বিয়ে নিয়ে নানান জনের রয়েছে নানান মত। কেউ বিয়েকে জীবনের পরম পাওয়া বলছেন। বিয়ের আগে পর্যন্ত একজন জানতেন না সত্যিকারের সুখ কাকে বলে যখন জানলেন তখন বড্ড দেরি হয়ে গেছে।

মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন এর মতে বিবাহ স্বর্গ বা নরক কোনটাই নয়, এটি কেবল শোধনের ব্যবস্থা।

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, মানুষের একটা বয়স আছে যখন সে চিন্তা না করিয়াও বিবাহ করিতে পারে। সে বয়স পেরোলে বিবাহ করিতে দুঃসাহসিকতার দরকার হয়

বিয়ে নিয়ে দার্শনিক স্যামুয়েল জনসন এর মত হচ্ছে, বিয়ে হচ্ছে বুদ্ধির কাছে কল্পনার জয় আর দ্বিতীয় বিয়ে হচ্ছে অভিজ্ঞতার কাছে আশার জয়।

কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর মতে, যাকে তাকে গছিয়ে দেওয়ার নামই বিয়ে নয়! মনের মিল না হলে বিয়ে করাই ভুল।

বিয়ে নিয়ে প্রচলিত কথা হচ্ছে, দিল্লির লাড্ডু-খেলেও পস্তায়, না খেলেও পস্তায়। মানে বিয়ে করলে পস্তাতে হয়, না করলেও তাই হয়। তবে যে মহাজন এ প্রবচনটি চালু করেছিলেন, তিনি এর গূঢ়তত্ত্ব ফাঁস করেননি। আর গূঢ়তত্ত্ব ফাঁস না করাতেই এর পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে দুইটি মতাতমত ও যুক্তি।

তবে বিয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু হিসাব-নিকাশ। অনেকেই বলে থাকেন, শীত আর বিয়ের সঙ্গে মুধুর একটা সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। বুদ্ধিমানরা শীতেই বিয়ে করে! তাই যদি হয়, তাহলে শীতে বিয়ে করার কিছু সুবিধার বিষয় জেনে নেয়া যাক-

শীত এলেই অনেকের ঠোঁট ফাটার সমস্যা হয়, আবার কারো বাতের সমস্যা থাকলে, তাও প্রকট হয়। অনেকের প্রেসারও আপ-ডাউন শুরু হয় আর সে কারণে অনেকেই বেশি খেতে পারে না। আর বেশি খেতে না পারলেই বাজারের বাজেট কিছুটা সাশ্রয় হয়।

গরম কালের মতো শীতে আম, লিচুর ফলন খুব একটা নেই, তাই ফল কেনার ঝামেলাও নেই। একান্ত দরকার হলে ফল নয় বরং বাম্পার সবজি ফুলকপি নেয়া যায় শ্বশুরবাড়ি। এত বড় সাইজের ফুল পেয়ে কার না মন ভালো হয়? আর পছন্দ না হলেও সমস্যা নেই, রান্না করে খাওয়া তো যাবেই।

শীতকালে ফ্যান চালাতে হয় না। আবার নতুন বউ ঘরে থাকলে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর একটা তাড়া থাকে বলে গুজব আছে। তাই সব লাইট-টিভিও তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। এতে মাসিক বিদ্যুৎ বিল এক্কেবারেই কম হবে।

ঘরের অনেক কাজ করলেও অনেকেই মশারি টানানো বাড়তি ঝামেলা মনে করেন। অলসতা বা অন্য কোনো কারণই হোক না কেন শীতে মশারি টানানো নিয়ে আপনার কোনো টেনশন নেই। কারণ কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমালে মশা কামড়ানোর কোনো চান্স নেই।

দাওয়াত, খাওয়া-দাওয়া, প্যান্ডেল- কতো কাজই না করতে হয় বিয়েতে! ৪ থেকে ৫ দিনের ধকল। সবাই মিলে হাত লাগিয়ে সারতে হয়। রাত জাগা, প্রভৃতি উৎপাতে এনার্জি খরচ হয় বিস্তর। তাই শীতই পারফেক্ট সময়। শীতে অনেক কাজ করলেও এনার্জিতে ঘাটতি দেখা যায় না।

এ দেশের যা আবহাওয়া, শীত বাদে বাকি সময়টায় মেকআপ লাগিয়ে সাজলে বিপদ। একটু বেশি ঘামলেই গলে গলে পড়ে সব সাজ। তাই কনের সাজ হোক বা বরের, শীতে যেমন খুশি তেমন সাজো অনেকটা নো টেনশন ডু ফুর্তির মতো! তাই বর-কনে বাদে বাকিরাও বিয়ে বাড়ির সাজের আনন্দ নিতে পারে সানন্দে।

শীতকালে কৃত্রিম ফুলের প্রয়োজনও হয় না। ডালিম, রজনীগন্ধা, অর্কিড, গাঁদা, গোলাপ, জুঁই এর মতো সব তরতাজা ও টাটকা ফুল পাওয়া যায় প্রায় অর্ধেক মূল্যে।

শীতে বিয়ের পর খুব বেড়ানো যায়, রোদের তাপ নেই, ক্লান্তি নেই। বরের হাত ধরে নতুনের স্বাদটা ভালোই উপভোগ করা যায় শীতে। একেবারে ষোলোকলা পূর্ণ এক হানিমুন পাওয়া যায় শীতে!

তাই নিজের জন্য শীত থাকতেই বিয়ে করার মতো পাত্রী খুজেন অনেকেই। আবার অনেকে আগে থেকেই নিজের পছন্দের পাত্রী ঠিক করে রাখেন। নিজের পছন্দের পাত্রীর সাথে তাই শীতে পরিণয় থেক প্রণয় হয়।

আরো দেখুন

Leave a Comment