শিয়া সুন্নিদের বিভাজন শুরু হয় যেভাবে

Shia and Sunni Clash

পঞ্জিকা অনুসারে ১০ মুহাররম ৬১ হিজরী, ১০ অক্টোবর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার প্রান্তরে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা) এর নাতি হোসাইন (রা) এর সঙ্গে ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিলো। ইসলামে এটি কারবালার যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে হোসাইন তার সকল সমর্থক শহীদ হন।

তবে এই কারবালার যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়েই মুসলিম সমাজ শিয়া ও সুন্নি নামের দুটি মাযহাবে বিভক্ত হয়ে পরে। তবে আলেম ওলামাদের মতে দুই মাযহাব আগে থেকেই ছিলো। কিন্তু কারাবালার যুদ্ধের পর তা বিরোধীতায় পরিনত হয়। কারবালার ঘটনাকে শিয়ারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি। তারা হোসেন এর পুত্র জয়নালকে খলিফা নির্বাচন করে ইয়াজিদের বিদ্রোহ চালিয়ে যেতে থাকে। অন্যদিকে সুন্নিরা ইয়াজিদের শাসন মেনে না নিলেও নতুন করে যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যায়। এইখান থেকেই শুরু হয় দুই সম্প্রদায়ের বিরোধ।

“শিয়া” হল ঐতিহাসিক বাক্য “শিয়াতু আলি’এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যার অর্থ “আলি অনুগামীরা”বা “আলির দল। শিয়া মতবাদের মূল ভিত্তি হলো, আলি এবং ফাতিমার বংশের মাধ্যমে নবি পরিবারের লোকেরাই ইমামত বা নেতৃত্বের প্রধান দাবীদার।

শিয়াদের মতে আবু বকর ছিলেন বনু তাইম গোত্রের, উমর বনু আদি গোত্রের, উসমান বনু উমাইয়া গোত্রের কিন্তু একমাত্র আলিই ছিলেন মুহাম্মদের হাশেমি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া আলি একাধারে রাসুলের চাচাতো ভাই, রাসুলের জামাতা, রাসুলের দৌহিত্র হাসান ও হোসেনের পিতা ও রাসুলের সেনাপতি ছিলেন। রাসুলের কোনো পুত্রসন্তান ছিলনা এবং দৌহিত্রা (হাসান, হোসেন) শিশু ছিলেন। এসবদিক বিবেচনায় রাসুলের ইন্তেকালের পর আলিই নেতৃত্বের সর্বাধিক যোগ্য বলে শিয়া মুসলিমগণ মনে করেন।

ইয়াজিদের সেনাবাহিনী আলির পুত্র ঈমাম হোসেনকে হত্যা করলে শিয়া মুসলিমরা খিলাফতের প্রতি পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং হোসেনপুত্র জয়নুল আবেদিনের মাধ্যমে আলি ও ইসলামের রাসুলের বংশধরদের মধ্যে থেকে ইমামতের নীতি অনুসরণ করতে থাকে।

শিয়া মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, শুধুমাত্র আল্লাহই ইসলাম, কুরআন এবং শরিয়াত রক্ষা করার জন্য একজন প্রতিনিধি (নবী এবং ইমাম) নির্বাচন করতে পারেন। সাধারণ মুসলমানরা পারে না। যার কারণে তারা আবু বকর, উমর এবং উসমানকে খলিফা হিসেবে অনুসরণ করে না। এই জন্যই শিয়ারা আলিকে চতুর্থ খলিফা হিসেবে বিবেচনা করে না, বরং প্রথম ইমাম হিসেবে বিবেচনা করেন।

আরো দেখুন

Leave a Comment