যে হাসপাতালে মানবদেহের অঙ্গ আমদানি করা হয়

Skeleton of Human body

বিশ্বের বিজ্ঞান গবেষণার কেন্দ্র নাসা আর স্পোর্টস চিকিৎসা জগতের কেন্দ্র অ্যাসপেটার। বিশ্ববিখ্যাত অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, নেইমার, মোহাম্মদ ফারাহ, ওয়েলশ রাগবি ইউনিয়নের খেলোয়াড় ওয়ার বার্টনের মতো খেলোয়াড়রা চিকিৎসার জন্য অ্যাসপেটারে যান।

প্রতি বছর ৩৫ হাজারের বেশি অ্যাথলেট অ্যাসপেটারে চিকিৎসা নেন। ইনজুরি প্রতিরোধ এবং খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২০১৪ সালে অ্যাসপেটারকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

২০১৬ সালে যেটাকে পৃথিবীর প্রথম স্পোর্টস সার্জন বিশেষজ্ঞ তৈরির ‘কারখানা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা- ফিফা ১০ বছর আগে এটিকে শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে।

কাতারের রাজধানী দোহাতে অ্যাসপেটারের আলাদা উপস্থিতি রয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো- এটা এমন একটি জায়গা যেখানে মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ আমদানি করা হয়। যার মধ্যে অধিকাংশই কাঁধ, হাঁটু ও গোড়ালি।

এগুলোর বেশিরভাগই আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মানব শরীর আমদানি আমলাতান্ত্রিক অত্যন্ত জাটিল প্রক্রিয়া হওয়ায় ছয়টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে অ্যাসপেটার। সেগুলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা এখানে শরীরের ক্রিয়াকলাপের আগে ও পরে হার্টবিট রেট এবং রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করেন । ২০০৭ সালে অ্যাসপেটার প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য ছিল স্পোর্টস চিকিৎসা জগতের কেন্দ্র হয়ে উঠা। এক দশকের মধ্যেই সেই লক্ষ্যে তারা পৌঁছে যায়। প্রতিবছর এখান থেকে ১৫০টির অধিক পর্যালোচনামূলক গবেষণা প্রকাশিত হচ্ছে।

তারা নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে আবির্ভূত হচ্ছে। এমনই একটি হলো- মধ্যাকর্ষণ বলবিরোধী ট্রেডমিল। নব্বইয়ের দশকে নাসায় এটি প্রথম তৈরি করা হয়। এটি একটি চলমান মেশিন যা কোনও ব্যক্তির ৯০ শতাংশ পর্যন্ত শরীরের ওজন উহ্য রাখে। অ্যাথলেটদের গোড়ালি বা হাঁটুর চোট থাকালে এই ট্রেডমিলে অনুশীলন করা যায়। যা ফিটনেসের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

হাসপাতালের আরেকটি অংশে রয়েছে হলিউডের ব্লকবাস্টারে মোশন ক্যাপচারের জন্য তৈরি সিজিআই স্টুডিও। এখানে রোগীর দেহে কয়েক ডজন সেন্সর সংযুক্ত করে শারীরিক কাজ সম্পাদন করতে বলা হয়। এর ফলে চিকিৎসকরা তার পেশীর স্থিতিস্থাপকতা, সহনশীলতা এবং শক্তি রেকর্ড ও সংরক্ষণ করে একটি থ্রিডি ম্যাপ তৈরি করেন। ক্রীড়াবিদরা এখানে শিখে, শেয়ার করে, আরোগ্য লাভ করে এবং আবার ফিরে আসে।

আরো দেখুন

Leave a Comment