যে মসজিদের দানবাক্স খুললেই পাওয়া যায় কোটি টাকা

নাম শুনলে হয়তো অনেকের ভ্রু চরকগাছে উঠবে। এই মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে ধর্মীয় উপাসণালয়ের সমূহের সংস্কার ছাড়াও দরিদ্র মানুষজনের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। বলছিলাম পাগলা মসজিদের কথা।

কিশোরগঞ্জ শহরের হারওয়া এলাকায় চোখ ধাঁধাঁনো এক মসজিদের নাম পাগলা মসজিদ। নরসুন্ধা নদীর তীরে এই মসজিদটি অবস্থিত। এই মসজিদকে ঘিরে আছে নানান জনশ্রুতি।

স্থানীয় লোকগাঁথার তথ্য মতে, প্রায় ২ শত বছর আগে প্রমত্তা নরসুন্ধা নদের বুকে একজন পাগল ব্যাশি সাধকের আর্বিভাব ঘটে। তার কল্যাণে নদীর বুকে চর জেগে উঠে। তিনি মারা যাওয়ার পর তার কবরের পাশে প্রতিষ্ঠা করা হয় এ মসজিদ।

স্থানীয়দের বিশ্বাস এই মসজিদে দান করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অনেকেই এখানে দান করেন।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের অক্টোবরে দানবাক্স খুলে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। শুধু টাকা নয় মসজিদের বানবাক্সে স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে। পাগলা মসজিদে মানত করার একটি বিশেষ কারণের কথা জানা যায় স্থানীয়দের কাছে।

পাগলা মসজিদ

স্থানীয়রা বিশ্বাস করে আসল নিয়তে যদি কেউ দান করে তবে তার মনের ইচ্ছা পূর্ণ হয়। তাই সব ধর্মের মানুষই মসজিদের দানবাক্সে দান করেন। তিন মাস অন্তর অন্তর দান বাক্স খোলা হয় আর সেখানে প্রতিবারই পাওয়া যায় কোটি টাকা। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছাড়াও গরু, ছাগল ও মুরগি মানত করেন অনেকেই।

৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গার ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদে নারীদের রয়েছে নামাজের আলাদা ব্যবস্থা। পাশেই রয়েছে বিশাল এতিমখানা। সরাসরি জেলা প্রশাসন আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ কিশোরগঞ্জের প্রাচীণ মসজিদ সমূহের সংস্কার কাজ ছাড়াও অভাবী মানুষজনের পড়ালেখা, চিকিৎসা ও বিয়ের ব্যবস্থা করা হয় দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা থেকে।

আরো দেখুন

Leave a Comment