যেভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়

‘মহাসেন’ ছিলেন তৃতীয় শতকে শ্রীলংকার রাজা । তার নামানুসারেই জাতিসংঘের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আবহাওয়াবিদদের সংস্থা এস্কেপে এ ঝড়টির নামকরণ করেন। তথ্য সংরক্ষণ ও বোঝানোর সুবিধার্থে আগে থেকেই এ ঝড়ের নাম নির্ধারণ করে রাখা হয়। যেমন- বঙ্গোপসাগরে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘ফাইলিন’।

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ নিয়ে কৌতূহল সবারই। বর্তমানে সহজ নামকরণ করা হয় ঘূর্ণিঝড়ের। নামগুলোর অধিকাংশই নারীদের নামে করা হয়। যেমন- রিটা, ক্যাটরিনা, নার্গিস, সিডর, রেশমী, বিজলী। আমেরিকায় যে প্রলয়ঙ্করী ঝড় আঘাত হেনেছে, সেই স্যান্ডির নামও নারীর।

আগে শুধু নারীদের নামে ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করা হলেও ১৯৭৯ সাল থেকে পুরুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বর্তমান তালিকায় সমানভাবে পর্যায়ক্রমে নারী ও পুরুষের নাম রয়েছে। ঝড় যেহেতু মৃত্যু ও ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত, তাই কোনো নাম দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা হয় না।

অতীতে ঝড়ের নামকরণ করা হতো অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের ওপর ভিত্তি করে। তবে এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। যেমন ৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৭২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ঝড়টি এখন বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে- এটি বলার চেয়ে ‘ঘূর্ণিঝড় মহাসেন ধেয়ে আসছে’ বলা অনেক সহজ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটিই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে থাকে। উত্তর ভারতীয় মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে থাকে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ। বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও ওমানের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার একটি প্যানেল হচ্ছে এস্কেপে।

২০০০ সালে স্কেপের প্রস্তাবানুযায়ী প্রতিটি দেশ থেকে ১০টি নাম জমা নেওয়া হয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করার জন্য। এখান থেকেই পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করা হয়।

এবারের বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র নামটি দিয়েছে পাকিস্তান। ২০০৪ সালে আটটি দেশ মিলে ৬৪টি ঝড়ের নাম প্রস্তাব করেছিলো। সেসব ঝড়ের নামের মধ্যে বুলবুল ঝড়ের নাম পাকিস্তান প্রস্তাব করে। সেই ঝড়গুলোর নামের মধ্যে এখন আর মাত্র ৫টি নাম বাকি রয়েছে।

আরো দেখুন

Leave a Comment