যা থাকছে মেট্রো রেলের স্টেশনে

যা থাকছে মেট্রো রেলের স্টেশনে

জাহিন জাহান: ঢাকাবাসীর অধীর আগ্রহের জন্য অপেক্ষা দেশের প্রথম উড়াল মেট্রো রেল বা এক্সপ্রেসওয়ে কবে চালু হবে তা দেখার জন্য। কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে মেট্রো রেলের ট্রায়াল রান।

২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রো রেলে থাকছে ১৬টি স্টেশন। কেমন দেখতে হবে স্টেশনগুলো? কী সুযোগ-সুবিধা থাকবে তাতে? স্টেশনগুলো কি শুধুই যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য থাকবে? স্টেশনগুলো নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে এবারের আয়োজন।

  • টিকিটের জন্য থাকছে Smart card based MRT Pass
  • এই কার্ডটি বার বার রিচার্জের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন যাত্রীরা
  • কার্ড ছাড়াও স্টেশনগুলোতে থাকছে টিকিট কেনার ব্যবস্থা
  • উত্তরা নর্থ স্টেশনটি তিনতলা বিশিষ্ট
  • দোতলায় থাকছে টিকিট কাউন্টার ওয়েটিং রুম অন্যান্য অফিস ব্যবস্থাপনা
  • দোতলার ছোট ছোট রুমেই থাকছে টিকিট কাইন্টারসহ আনুসাঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা
  • স্টেশনে থাকছে চলন্ত সিড়ির ব্যবস্থা যা ব্যবহার করে যাত্রীরা দোতলা থেকে তিন তলায় যাবেন
  • তিনতলা থেকে যাত্রীরা স্বপ্নের মেট্রোরেলে চড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাবেন
  • এছাড়াও থাকছে ক্যাপসুল লিফ্ট আর পা চলার সিড়ি তো থাকছেই
  • তিন ধরনের সিড়ির যে কোনো একটি ব্যবহার করতে পারবেন যাত্রীরা।
  • যাত্রীদের জন্য স্টেশনগুলোতে থাকছে রিটেইলস শপ
  • শারীরিক প্রতিবন্দিদের জন্য থাকছে টিকিট কেনার আলাদা বুথ
  • সেই সাথে থাকছে ট্রেনের ভেতরে আলাদা বসার ব্যবস্থা
  • এমন ১৬টি স্টেশন নিয়ে উত্তরা থেকে মনিতঝিল পর্যন্ত হচ্ছে ২০ কিলোমিটারের মেট্রোরেল
  • এর মধ্যে ৫ টি স্টেশনের কাজ অনেক দূরে অগ্রসর হয়ে গেছে
  • ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের স্বপ্নের মেট্রো রেলের প্রকল্প বাস্তবায়নে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন সংশিস্টরা।

উত্তরা থেকে মতিঝিল, মেট্রো রেল সময় নেবে ৩৮ মিনিট:

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে মেট্রো রেলের এমআরটি লাইন-৬। এর মাধ্যমে ৩৮ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিল যাওয়া যাবে।  এ ট্রেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরোটাই বিদ্যুতের মাধ্যমে চলবে।

এমআরটি লাইন-৬-এর মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। এসব স্টেশনে গড়ে ৪৫ সেকেন্ড করে থামবে ট্রেন। ট্রেনের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার।

তবে এই গতিতে চলবে না ট্রেন। প্রতিটি স্টেশনে থামা, বিভিন্ন বাঁকে কম গতিতে চলাসহ সবমিলিয়ে দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেনটির যেতে সময় লাগবে ৩৮ মিনিট।

মেট্রো রেলে প্রচলিত ইঞ্জিন থাকছে না। ইঞ্জিন বলতে যা বোঝায়, তেল দিতে হয়, এরকম নয়। কিন্তু একটা কিছু ঘোরাতে হলে মোটর লাগবে। সেজন্য কোচের নিচে চাকার কাছে মোটর লাগানো থাকবে। বিদ্যুতে মোটর ঘুরবে, তারপর ট্রেন সামনে যাবে। শতভাগ বিদ্যুতের মাধ্যমে ট্রেন চলবে।

ট্রেন ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে না। তাকে গতি কমিয়ে চলতে হবে। এগুলো ট্রায়াল রানের মাধ্যমে সিস্টেমটাকে ফিক্সড করা হবে, স্থায়ী করা হবে। তারপরই এটা অটো চলা শুরু করবে।  ট্রায়াল রান করার জন্য তিনটা স্টেশনের প্রয়োজন হয়। তবে পাঁচটা স্টেশনে ট্রায়াল রান করবে কর্তৃপক্ষ।

অনেকগুলো সিস্টেমের সমন্বয় হলো মেট্রো রেল। সবগুলো জিনিস যেগুলো ফিক্সড করা হয়েছে, যেগুলোর এর সঙ্গে সিনক্রোনাইজ হবে। দেখা হবে, সবগুলো জিনিস ঠিক আছে কি-না।

উদাহরণ স্বরুপ, ট্রেন যখন উত্তরা থেকে ছাড়বে, এখানে হয়তো ৩০ সেকেন্ড থামবে। তারপর যখন একটা বড় স্টেশনে যাবে, যেমন মিরপুর-১০, সেখানে কিন্তু অনেক মানুষ উঠবে। সেখানে ৩০ সেকেন্ড দিলে হবে না। সেখানে দিতে হবে ৪৫ সেকেন্ড বা ১ মিনিট।

এ বিষয়গুলোর সঙ্গে সিনক্রোনাইজ হতে হবে। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলবে। ভেতরে ঘোষণা হবে কোন স্টেশনে আসছে, তারপর একটা সিকিউরিটি গেট আছে সেটা খুলবে। এই সবকিছু সিনক্রোনাইজ করতে হবে। এই সিনক্রোনাইজ একটা খুবই সফিস্টিকেটেড, যা সম্পর্কে দেশের প্রকৌশলীদের আগে ধারণা ছিল না। এখন ধারণা হয়েছে।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রেললাইন দিয়ে বিদ্যুতে ট্রেন চলার জন্য ১৫০০ ভল্টের প্রয়োজন হবে।  জাতীয় গ্রিড থেকে এখানে রিসিভিং সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ আসবে।

তাছাড়া নিজস্ব জেনারেটরও থাকবে। ট্রেন চলাচল করবে, তার মাধ্যমেও বিদ্যুৎ জেনারেট (উৎপাদন) হবে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মেট্রো রেল পরিপূর্ণভাবে চালু হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *