মেটাল কাটিং ডেকোরেশন কী ও দাম কেমন?

মেটাল কাটিং ডেকোরেশন কী ও দাম কেমন?

মানুষের চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন নকশা। শিল্পমনা ব্যক্তিরা বাসস্থান ও কর্মস্থান দুটোকেই নিজের পছন্দসই সাজসজ্জা করেন। যুগের প্রয়োজনে ও মানুষের চাহিদার কারণে বর্তমানে ইন্টেরিয়র ডিজাইন শব্দটি সারা বিশ্বে শোনা যাচ্ছে।

দেশে ও বিদেশে গৃহনির্মাণ প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট ফার্ম, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, আর্কিটেকচার ডেভেলপার ফার্ম থ্রিডি অ্যানিমেশন, থ্রিডি মডেলিং, অটোক্যাড ড্রইং, রেন্ডারিং, ফটোগ্রাফিক্সের কাজও আজকাল বেশ চোখে পড়ছে।

এর বাইরে সৌন্দর্য বর্ধনে নতুন ফ্লোর, সিলিং, ওয়াল পেইন্ট/স্টিকার, নতুন ওয়াল, নতুন দরজা সেটাপসহ ২ডি এবং থ্রিডি ডিজাইন, ফ্লোরিং (কার্পেট), লাইটিং এবং সিলিং, ওয়ার্কস্টেশন, রিসিপশন ফার্নিচার, ওয়াল পেইন্ট, ব্র্যান্ডিং (এলইডি সাইন) কিচেন কেবিনেট, বেডরুম কেবিনেট, ডাইনিং ওয়াগন, বেসিন কেবিনেট, ওয়াল প্যানেলিং, সিলিং, লাইটিং ইত্যাদিও পাশাপাশি হালে মেটাল কাটিং ডেকোরেশনের নাম শোনা যাচ্ছে।

সজ্জাসামগ্রী মেটাল কাটিং ডেকোরেশন এর নান্দনিকতা নিয়ে আজকের আয়োজন-

মেটাল কাটিং ডেকোরেশন:

মেটাল কাটিং ডেকোরেশন হচ্ছে দালান ও অট্টালিকার সৌন্দয্য বর্ধনে অভ্যন্তরে ও বাইরে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ধরনের মেটাল কেটে এগুলো বের করা হয়। এগুলো অনেকটা বড় আকৃতির সো পিচের মতো। নানান ধরনের মেটালের সুন্দর সুন্দর কাজ করা হয়।

মেটাল কাটিং ডিজাইন:

বিভিন্ন ধরনের মেটাল থেকে লেজার মেশিন ও সিএনসি দিয়ে কাটিং করে ডিজাইন করা হয়। লেজারে কেটে সুন্দর নকশা করে পরে তা বাসা বাড়ি, অফিস ও রেস্টুরেন্টের সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয়।

ব্যবহার:

লেজার মেশিনের মাধ্যমে কেটে এগুলো তৈরি করা হয়। আসবাবপত্রের শিল্পের চেয়ে বেশি সুন্দর হয় বলে বিশ্বের নানান দেশে মেটাল কাটিং এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে।

নিচে মটাল কাটিং ডেকোরেশনের ব্যবহার তুলে ধরা হলো-

 বাসা

 ফ্ল্যাট

 অফিস

 হোটেল লবি

 রিসোট

 রেস্তোরা

 শোরুম

 ক্লাব

 বার

 উদ্যান

 হাসপাতাল

 ক্লিনিক

 বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল সব জায়াগাতেই আজকাল মেটাল কাটিং ডেকোরেশন দেখা যাচ্ছে।

প্রকারভেদ:

নানান ধরনের মেটালের কাটিং ডেকোরেশন রয়েছে বাজারে। এসেস, এমএস, এমডিএড বোর্ড, এলুমেনিয়াম, ফাইবারে ও এক্রেলিকে লেজার মেশিন ও সিএনসি মেশিনের মাধ্যমে বাহারি ডিজাইন করা যায়। এর মধ্যে লাইট সংযুক্ত করা যায়। আবার লাইট ছাড়াও করা যায়। তবে অধিকাংশ মেটাল কাটিং ডেকোরেশনে লাইটই ব্যবহার করা হয়।

দরদাম:

ডিজাইন কেমন হবে তার ওপর দাম নির্ভর করে থাকে। এক বর্গফুটে একটি লেটার করা যায় আবার ১০০ লেটারও করা যায়। ছোট ছোট কাটিং হলে দাম বেশি হয় আর বড় বড় কাটিং হলে দাম কম হয়। ০.৬ এমএম থেকে শুরু করে ১এমএম, ২এমএম, ৩ এমএম ও ৬ এমএম পর্যন্ত মেটাল কাটিং হয়।

থিকনেসের উপরও এর দাম নির্ভর করে। যেমন- ০.৬ এমএম থেকে শুরু করে ১এমএম, ২এমএম, ৩ এমএম থিকনেসের মেটাল প্রতি বর্গফুট ২০০-৪০০ টাকায় কাটা হয়। আবার ৩ থেকে ৬ এমএম এর মেটাল ৫০০-১০০০ টাকায় কাটা হয়। প্রতি বর্গফুট ফাইবার ১০০-৪০০ টাকায় কাটা হয়। সাধারণত লেটার ১ ইঞ্চি, ২ ইঞ্চি, ১ ফিট ও ২ ফিট পর্যন্ত হয়।

নিচে কয়েকটি মেটাল কাটিং ডেকোরেশনের নাম ও দাম দেয়া হলো-

এসেস:

এসেস মেটালের কাটিং ডেকোরেশন বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। এসেসের মধ্যে নানান ধরনের ডিজাইন করে অফিস বা রেস্তোরা বা আবাসিকে ব্যবহার করা হয়। শুধু এসেস ও পিতল কালার এসেস এ দুই ধরনের মেটাল কাটিং ডোকোরেশন রয়েছে বাজারে। নিচে এর দাম দেয়া হলো-

ক্রমিক __মেটাল __ধরণ __দাম (প্রতি বর্গফুট)

১_ এসেস __শুধু এসেস __১০০০-১২০০ টাকা

২_ এসেস __পিতল কালার এসেস __১২০০-১৭০০ টাকা

এক্রেলিক:

এক্রেলিকের মেটালে দুইভাবে কাটিং করা যা। একটি হচ্ছে লাইটসহ আরেকটি হচ্ছে লাইট ছাড়া। অফিসের বাইরে বড় বড় অক্ষর দিয়ে সাজানো যায়। যা দূর থেকে অনেক সুন্দর লাগে।

ক্রমিক __মেটাল__ ধরণ__ দাম(প্রতি ফুট)

১ __এক্রেলিক __লাইটসহ __১২০০-১৫০০ টাকা

২ __এক্রেলিক __লাইট ছাড়া __৮০০-১২০০ টাকা

মোল্ডিং লেটার:

মোল্ডিং লেটার নামে এক ধরনের মেটাল রয়েছে। যেখানে নিজের পছন্দ মতো লেটার যুক্ত করে হোটেল লবি, রেস্তারা ও উদ্যানে যুক্ত করা যা। মোল্ডিং লেটার লাইটসহ ও লাইট ছাড়া দুই ধরনেরই বাজারে পাওয়া যায়।

ক্রমিক __মেটাল __ধরণ __দাম (প্রতি বর্গফুট)

১ __মোল্ডিং __লাইটসহ __২০০০-২৫০০ টাকা

২ __মোল্ডিং __লাইট ছাড়া __১৫০০-১৮০০ টাকা

ফ্রন্টসাইড নেম প্লেট:

মেটালের কাটিং ডেকোরেশনের মধ্যে ফ্রন্টসাইড নেম প্লেট বানানো যায়। এটি সাধারণত ১ বাই ১ ফুট প্লেটের ওপর নকশা করতে হয়। এটিতে গ্লাস ব্যবহার করা হয় নামের অক্ষর লিখতে। প্রতি বর্গফুট গ্লাসের ওপর নকশা করলে দাম পরবে ৩০০০ টাকা।

এছাড়া স্টিকারেও প্রিন্ট করা যায় গ্লাসের ওপর এক্ষেত্রে দাম নির্ভর করবে ডিজাইনের ওপর। ৩০০০-৩৫০০ টাকায় ফ্রন্টসাইড নেম প্লেট বানানো যায়।

নকশা করা যায় গ্লাসেও:

মেটালের ওপর ছাড়াও গ্লাস ও কাঠের ওপরও বিভিন্ন ধরনের নকশা করে তা ঘর ও অফিস সজ্জায় ব্যবহার করা হয়। গ্লাসের ওপর এম্বোস ও স্টিকারের মাধ্যমে নয়নাভিরাম ডিজাইন করা যায়। যা বিভিন্ন অফিসে ও লবিতে সাজাতে দেখা যায়। গ্লাসের ওপর এম্বোস করা। এম্বোস করা গ্লাস বাজারে বিক্রি হয় প্রতি বর্গফুট ৪০০-৮০০ টাকায় আর স্ট্রিকার করা গ্লাস বিক্রি হয় ১০০০-৪০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে এ ক্ষেত্রে দাম পুরোপুরি নির্ভর করে ডিজাইনের উপর।

বাদ যায় না কাঠও:

কাঠে এনগ্রেভিং করে সুন্দর সুন্দর নকশা করে লাইটিং ও রঙের আলপনায় বাসা, অফিস, হোটেল লবি, রিসোর্ট, রেস্তোরা, শোরুম, ক্লাব, বার বা হাসপাতালের সৌন্দয বাড়ানো যায়। সিএনসি মেশিনের মাধ্যমে কাঠের ওপর নকশা করা যায়।

ফুল, পাখি, ঘর-বাড়িসহ নিজের পছন্দ মতো সব ধরনের নকশা তৈরি করা যায়। এটি আজকাল বিভিন্ন অফিস আদালতে সাজসজ্জার কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতি ইঞ্চি হিসেবে এটি বাজারে বিক্রি হয়। ৬ সুতা কেরোসিন কাঠ প্রতি বর্গফুট ২-৫ টাকায় বিক্রি হয়। তবে এটি সিএনপি মেশিনের মাধ্যমে প্রসেসিংসহ খরচ পড়বে ৪-১০ টাকা।

সম্বব অন্যান্য উপাদানেও:

মেলামাইন বোর্ড, প্লাইউড বোর্ড, পিভিসি ও পারটেক্স বোর্ডেও ডোকোরেশন করা যায়। সবগুলো বোর্ড এর পরিমাপ হচ্ছে ৪ ফিট বাই ৮ ফিট। মেলামাইন বোর্ড বিক্রি হয় ৩৫০০-৪০০০ টাকায়, প্লাইউড বোর্ড বিক্রি হয় ৩০০০-৩৫০০ টাকায়, পিভিসি বোর্ড বিক্রি হয় ২০০০-২৫০০ টাকায়। তবে মানের উপর নির্ভও করে ১৮০০ থেকে ৪০০০ হাজার টাকায়ও বিক্রি হয় এগুলো।

ফিটিং চার্জ:

মেটাল কাটিং ডেকোরেশন শুধু ক্রয় করা পর্যন্তই শেষ নয়। এটি বাসা, অফিস, হোটেল লবি, রিসোর্ট, রেস্তোরা, শোরুম, ক্লাব, বার বা হাসপাতাল যেখানেই লাগানো হয় তার জন্য আলাদা ফিটিং চার্জ দিতে হয়। সাধারণত নিচ তলা থেকে দুই তলা পর্যন্ত ফিটিং চার্জ ২০০০ টাকা। এর যত বেশি উপরে লাগাতে হবে তত বেশি চার্জ বাড়বে।

মেটাল কাটিং ডেকোরেশনের বাজার:

মেটাল কাটিং ব্যান্ড ব্লেডস মার্কেটের প্রতিবেদন অনুসারে, মূলত উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা, মধ্য প্রাচ্য এবং আফ্রিকায় এই মেটাল বেশি পাওয়া যায়।

আর মেটাল কাটিং ডেকোরেশনের মূল অঞ্চলগুলো (দেশসমূহ) হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, রাশিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো, ব্রাজিল, তুরস্ক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মেটাল কাটিং ডেকোরেশনের প্রধান প্রধান বিক্রেতা:

  লেনক্স

  স্টারেট

  আমদা

  বাহকো

  উইকাস

  দোল

  সিমন্ডস ইন্টারন্যাশনাল

  এবারল

  রন্টজেন

  বেন্সি টুল

  বিচাম্প

  টিসিজেওয়াই

  ডালিয়ান বি-মেটাল

  ডিএসএসপিসি-স্যান্ডা

মেটালের উপর মার্কিং এবং কাটিং:

লেজার কাটিং, লেজার এনগ্রেভিং ও প্লাজমা মেটাল কাটিং ও সিএনসি মেশিনের মাধ্যমে ২ডি, ৩ডি ও ৪ডি ডিজাইন করা হয়। নিজের প্রয়োজন মোতাবেক ক্যাড ডিজাইন করা যায়।

স্ক্রিনগুলোকে নিদর্শনগুলির সাথে কাস্টমাইজ করা যায়। ডিজাইন ও স্ক্রিনগুলি বাহ্যিক আড়াআড়ি এবং বাইরের থাকার জায়গাগুলিজুড়ে বিভিন্নভাবে স্থাপন করা যায়।

ডিজাইন-সিএনসি লেজার কাটিং:

 ফ্লেম কাটিং

 ডিপ ড্রয়িং বা গভীর অঙ্কন

 স্ট্যাম্পিং গঠন বা বাকাঁনো

 সিএনসি মেশিনে ঢালাই ও প্যাকিং

যন্ত্র ও সরঞ্জামাদী:

  লেজার কাটিং মেশিন

  সিএনসি শিয়ারিং মেশিন

  ফ্ল্যাট বেড স্পট

  ওয়েল্ডার

  ডাই গ্রাইন্ডার

  ইস্পাত প্রসেসিং মেশিন ইত্যাদি।

প্রাপ্তিস্থান:

বনানী চেয়ারম্যান বাড়ী, নয়া বাজার, কাওরান বাজার, মহাখালী, নীলক্ষেত, কাটাবন ও পল্টন

লেখক: মোহাম্মদ রবিউল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *