মানুষ ও প্রকৃতির এক অনন্য ঐকতান; মাটির নিচে ১৮ তলা হোটেল

চীন। বিশ্বের একটি বৃহৎ শক্তিশালী দেশ। এশিয়া মহাদেশেরও প্রধান আঞ্চলিক শক্তি। চীনের ভূমিরূপ বিশাল ও বৈচিত্রময়। দেশটির অনুর্বর উত্তরাংশে অরণ্য স্টেপ তৃণভূমি এবং গোবি আর তাকলামাকান মরুভূমি যেমন আছে, তেমনি এর আর্দ্র দক্ষিণাংশে আছে উপক্রান্তীয় অরণ্যসমূহ। হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালা, পামির মালভূমি ও থিয়েন শান পর্বতশ্রেণী ভৌগলিকভাবে আলাদা রুপ দিয়েছে চীনকে। প্রাকৃতিকভাবে চীন যেমন রুপ বৈচিত্রময় তেমনি কৃত্রিমত্তার কারিশমা দেখিয়েও বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়ে যাচ্ছে দিন দিন।

কখনো উঁচু দালান নির্মাণ, কখনো হাজার হাজার ফুট উপরে কাঁচের সেতু নির্মাণ কখনো বা প্রযুক্তির বড় বড় উদ্ভাবন করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়ে নেয় চাইনিজরা। এবার পরিত্যাক্ত একটি জলপ্রপাতকে বিলাসবহুল হোটেলে পরিণত করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চীনের স্থপতিরা। বিশ্বের অন্যতম একটি হোটেল হিসেবে প্রকৃতি ও মানুষের ঐকতানে পরিণত হয়েছে হোটেলটি। চারপাশে সবুজ ও মনোরম কারুকার্যে গড়া হোটেলটি যে কাউকেই চোখের শীতলতা এনে দেবে।

বিশ্বের সর্বপ্রথম আন্ডারগ্রাউন্ড হোটেল

অব্যবহৃত বিশালাকার গর্তের মধ্যে ১৮ তলা বিশিষ্ট হোটেলটির নাম “ইন্টার কন্টিনেন্টাল সাংহাই ওয়ান্ডারল্যান্ড”। হোটেলটি উদ্বোধন করা হয় ১৫ নভেম্বর ২০১৮ সালে। ৩৩৬ রুমের ৫ তারকা মানের এই বিশাল হোটেলটি ৮৮ মিটার বা ২৯০ ফুট গভীর। থিম পার্ক সমন্বিত এই হোটেলটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। হোটেলটি ‘আর্থ-স্ক্র্যাপার’ ও ‘শিমাও কুয়ারি’ নামেও পরিচিত। এটি বিশ্বে সর্বপ্রথম আন্ডারগ্রাউন্ড হোটেল।

বিশ্বের সর্বপ্রথম আন্ডারগ্রাউন্ড হোটেল

রাত্রী যাপনে খরচাপাতি

এই হোটেলটি চীনে সাহসী স্থাপত্য নকশাগুলোর ক্রমবর্ধমান সংখ্যাগুলোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। জলপ্রপাতের খাদের মধ্যে এই হোটেলের একটি দিক গাঁথা রয়েছে খাদের দেয়ালে, আর অপর দিকটি জলপ্রপাতের দিকে উন্মক্ত। ১৮ তলা বিশিষ্ট এই হোটেল সাংহাই থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সড়কপথে যেতে লাগে ২০-৩০ মিনিট। এই হোটেলে রাত্রি যাপনের জন্য দৈনিক গুণতে হবে ৪৮৯ থেকে ৫৪৬ ডলার পর্যন্ত। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা।

পরিবেশগত ভাবনা

শেশান মাউন্টেন রেঞ্জ, শেশান ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক ও চেনশান বোটানিক গার্ডেনের কাছে অবস্থিত ৬১ হাজার বর্গমিটার দৈর্ঘ্যের রিসোর্টটি পরিবেশবাদী ভ্রমণকারীদের প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশের ওপর যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেভাবেই হোটেলটির স্থাপত্যের পরিকল্পনা করা হয়। তাই বেশিরভাগ নির্মাণকাজ হয়েছে পরিত্যক্ত খাদের ভেতর। নিজস্ব ভূ-তাপীয় ও সৌরশক্তি থেকে হোটেলটিতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়

একেবারেই ব্যতিক্রম

পাঁচ তারকা এ হোটেলটির মাঝখানে রয়েছে কৃত্রিম জলপ্রপাত। এছাড়া, নিচের দুটি তলা তৈরি করা হয়েছে পানির একবারেই নিচে। যার বাইরেরটা দেখে মনে হবে বিশাল এক বিশাল অ্যাকুরিয়াম। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে খাদের চারদিকে নির্মাণ করা হয়েছে বাঁধ। পানির স্তর নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে পাম্প হাউস। হোটেলটিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হলেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

অব্যবহৃত বিশালাকার গর্তের হোটেলটির একাংশ

হোটেলটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে ১০ বছর। দুই ভাগে বিভক্ত হোটেলটিতে রয়েছে রেস্টুরেন্ট, খেলাধুলার স্থান, বিনোদন আর সাঁতার কাটার সুইমিংপুল তো রয়েছেই। হোটেলটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয়। এ হোটেল বানিয়ে বিশ্বব্যাপি হইচই ফেলে দিয়েছে চীন! ১৫ নভেম্বর ২০১৮ সালে হোটেলের উদ্বোধন হলেও বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যবহার শুরু হয় ১ ডিসেম্বর ২০১৮ সাল থেকে। হোটেলটির স্থপতি বলছেন, হোটেলটি ‘একবারেই ব্যতিক্রম’। কিন্তু কেন? হোটেলটি স্বাভাবিক কোনো স্থানে তৈরি হয়নি। এটি তৈরি করা হয়েছে জলপ্রপাতের পরিত্যক্ত একটি কূপে। দীর্ঘদিন ধরে এই কূপ পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

চ্যানের ভাষ্য

হোটেলটি নির্মাণে মুনশিয়ানা দেখিয়েছে সংশ্লিষ্ট স্থপতিরা। এই রির্সোটটির নির্মাণের দায়িত্বে ছিল চীনের অন্যতম বৃহৎ রিয়েল এস্টেট কোম্পানি শিমাও প্রোপার্টি। শিমাওর প্রধান প্রকৌশলী চ্যান জিয়াওজিয়াং হোটেল সম্পর্কে জানান, এটি এমন এক প্রকল্প যা একেবারেই নতুন ছিলো। এ ধরনের কাজ আগে করার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকার ফলে নির্মাণের ক্ষেত্রে যেসব বাধা এসেছে তা মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা ছিল না। মাটির নিচে এতো বৃহৎ ইমারত নির্মাণের দৃষ্টান্ত না থাকায় কারও কাছ থেকেও কিছু শিখা সম্ভব হয়নি।

চ্যানের ভাষ্য, ২০১৩ সালে যখন তাঁরা এই ইমারতের কাজ শুরু করেছিল তখনই বড় বাঁধার মুখে পড়তে হয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে পাশের নদীর পানি খাদেও ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে অর্ধেক খাদ টইটুম্বুর হয়ে যায়। যদি নির্মাণ শেষে এমন কিছু ঘটত তাহলে ভয়ংকর ব্যাপার হতো। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য খাদের চারদিকে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। পানির বৃদ্ধি ঠেকাতে সেচ ব্যবস্থাও নির্মাণ করা হয়েছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করবে। বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে যেন ভেতরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে সে দিকটি খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বন্যা ও ভূমিধস থেকে হোটেলটিকে সুরক্ষায় নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থাও।’

মার্টিন জসম্যান এর সম্পৃক্ততা

অ্যাটকিন্সের কর্মী মার্টিন জসম্যান এর নেতৃত্বে এই নকশা করা হয়। এই হোটেল নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি মার্টিন জসম্যান। ইমারত নির্মাণের জন্য অ্যাটকিন্স বিশ্বব্যাপি পরিচিত। দুবাইয়ের বুর্জ আল আরব হোটেল নির্মাণ করেছে অ্যাটকিন্স। ইন্টারকন্টিন্যান্টাল সাংহাই ওয়ান্ডারল্যান্ড হোটেলের প্রধান স্থপতি মার্টিন জচম্যান জানিয়েছেন, কোয়ারি হোটেল প্রজেক্টের তুলনায় পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। কারণ এটি একটি এমন প্রকল্প যা পুরোপুরি নতুন, এমন একটি প্রকল্প যা আমরা আগে কখনও সম্মুখীন হইনি। ভুলে যাওয়া, অব্যবহৃত কোনও সাইটে নতুন কী এমন করা যায় এবং একে নতুন জীবন দিতে কীভাবে কী করা যায় তা ঠিক করার ধারণাটাই অনবদ্য।

চারপাশে সবুজ ও মনোরম কারুকার্যে গড়া

এই প্রকল্প শুরু হয় এক যুগ আগে। শুরু থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এ ব্রিটিশ স্থপতি। এটি নির্মাণের ধারণা ছিল সম্পূর্ণ নতুন। তিনি কখনো বিশ্বাস হারাননি। বিশ্বাস ছিল একদিন এর শুভ সমাপ্তি ঘটবেই। উদ্বোধনের পর এখন তিনি উত্তেজিত ও বিস্মিত। এটি একটি এমন প্রকল্প যা পুরোপুরি নতুন, এমন একটি প্রকল্প আগে কখনো যার সম্মুখীন হননি। সকল সমস্যার সমাধান করার জন্য কোনো রেফারেন্স কেস বা অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্মাণ কাজ শেষ করতে হয়েছে।

নানান প্রতিকূলতা

স্বাভাবিকভাবেই কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। ২০১৩ সালে নির্মাণ শুরু হওয়ার আগে, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নিকটবর্তী নদীটি খাদের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল, যার ফলে খাদ অর্ধেক পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। হোটেলটির একপাশ গাঁথা আছে খাদের দেয়ালে। আর অপর দিকটি জলপ্রপাতের দিকে উন্মক্ত থাকায় পানির নিচের দুইটি তলা থেকে খাদের গভীরতা সরাসরি দেখা যায় না। কারণ জানালাগুলো বিশালাকারের ফিশ ট্যাংক দিয়ে ঢাকা।

রোমাঞ্চের ব্যবস্থা

অভিযাত্রিকদের জন্য এই হোটেলে রয়েছে রোমাঞ্চের ব্যবস্থা। তারা এখানে পাথরের পর্বত আরোহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সকল পর্যটকের জন্য রয়েছে জলপ্রপাতের মুগ্ধতাও। তবে চীনের জন্য ব্যতিক্রম নির্মাণকাজ করা নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায়ই তারা এ ধরনের কাজ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। এইতো চলতি বছর দক্ষিণ চীনের নির্মিত হয়েছে গগণচুম্বী এক ইমারত। যার একপাশে প্রবহমান আছে ১০৮ মিটারের জলপ্রপাত।

চীনে তৈরি বিশ্বের প্রথম ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ এ হোটেলটি ‘তিয়ানা পিট হোটেল’ নামেও পরিচিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘ইন্টার কন্টিনেন্টাল সাংহাই ওয়ান্ডারন্যান্ড হোটেল’ নামে পরিচিত।

পর্যটকদের ভীড়

হোটেলটির উদ্বোধনের পর থেকেই সেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভীড় লেগে আছে। প্রাকৃতিক দৃশ্য, বৃহদাকার ভাস্কার্য, গøাসের পথ ধরে মনোরম দৃশ্য মনকে শিহরণ দেয়। শেশান পাহাড়ের কোল ঘেষে নির্মাণ করা হয়েছে। হোটেলটি গতানুতিক আকাশচুম্বি করে নির্মাণ করা হয়নি। হোটেলটির প্রবেশপথে বৃহৎ আকারের ড্রাগন আকৃতির একটি ভাস্কর্য বসানো হয়েছে। যা হোটেলটিকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে হোটেলটির দুটি ফ্লোর ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে না। সম্পূর্ণ পানির নিচে ডুবন্ত থাকায় দুটি ফ্লোর ক্যামেরার ধরা পড়ে না।

হোটেলটির ভেতরের ও বাইরের দৃশ্য

প্রকৃতির শোভা

হোটেলে আসা অতিথিদের জন্য ৩৩৬ কক্ষ ও স্যুইটের যে কোনো একটি নিলেই প্রকৃতির শোভা খুঁেজ পাবেন অতিথিরা। প্রতিটি কক্ষ নীল ওয়াল ও আকারের নীলকান্তমণি বেষ্টিত। প্রতিটি গেস্ট রুমের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর ক্লাসিক রুমেও। ৫৫ ইঞ্চি এলসিডি টেলিভিশন, বোস সাউন্ড সিস্টেম, ডাইসান হেয়ার ড্রেসার, হাই স্পিড ইন্টারনেট, নেসেপ্রেসো কফির মেশিন রয়েছে। হোটেলে আসা অতিথিদের ডাইনিং পছন্দ করার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।

রেস্টুরেন্ট ও সুসজ্জিত লাউঞ্জ

হোটেলের অতিথির জন্য বিকল্প ডাইনিং থাকায় নিজেদের পছন্দ মতো খাবারের স্থান বাছাই করতে বেগ পেতে হয় না অতিথিদের। হোটেলের বারের পরিবেশনায়ও রয়েছে ভিন্নতা। প্রচলিত বরফের বাইরে পাথর আকারের বরফ পরিবেশন করা হয় অতিথিদের সেবায়। হোটেলটিতে রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে সজ্জিত লাউঞ্জে রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। খাবারের জন্য ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন স্থান রয়েছে। সেখানে বুফে-স্টাইলের খাবারসহ সব ধরনের খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও শিশুদের খেলা করার জায়গা রয়েছে। রয়েছে পাখির কল কাকলিতে মুখরিত কাই ফেং লুও ব্যবস্থাও। ভোজসহ পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য কয়েকটি মনোরম স্থান রয়েছে যা ভিন্ন মাত্রা দেওয়া হয়েছে হোটেলে।

বৈচিত্রময় ফিশ ট্যাংক

হোটেলটির একেবারে নিচের ফ্লোরে মাছের বিশেষ রেস্টুরেন্ট রয়েছে। পরিবেশনের আগে অতিথিরা নিজের পছন্দের খাবারের মাছটি দেখার সুযোগ পান। ফিশ ট্যাংক থেকে মাছ ধরে অতিথিদের সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি ফিশ ট্যাংকের গভীরতা প্রায় ৩২ ফুট। মাছের এ্যাকুরিয়ামে প্রতি সিজনের মাছ রাখা হয়েছে। সিজনাল ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ পাওয়া। জাপান, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক মাছের খাবার সরবরাহেরও ব্যবস্থা রয়েছে অহরহ।

আকাশছোঁয়ার স্বাদ

হোটেলের বাইরে রয়েছে নয়নাভিরাম আকাশছোঁয়া কাঁচের পথ। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় নিজেকে গগনে ভেসে বেড়ানোর মতো মনে হবে। যাদের উঁচু ভীতি রয়েছে তাদের জন্য এই কাঁচের পথে হাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জের। কাঁচের পথ ধরে হাটার সময় গুল্ম আবহ পাওয়া যায়। গুল্মের মধ্যে সুগন্ধী গাছের সাথে সখ্যতার সুযোগ রয়েছে। সুগন্ধী গাছের সাথে প্রবাহমান পানি ও পর্বতের দৃশ্যটি দেখতে অনন্য লাগে। মেঘের মধ্য দিয়ে হাটার স্বাদ পাইয়ে দেয়।

মানুষ ও প্রকৃতির ঐকতান

হোটেলটি আসা পর্যটকরা মানুষ ও প্রকৃতির ঐকতান খুঁজে পাবে। আর হোটেলে আসা পর্যটকরা পাবেন মাথার উপর দিয়ে উড়ার অভিজ্ঞতা। কারণ অতিথিরা এখানে এসে বন-বনানী ও বৃহৎ পানির প্রবাহে নিজেদের পানি ও বনাঞ্চলের খনিতে অবস্থান করছেন বলে মনে হবে। প্রকৃতি প্রেমীরা হোটেলের স্পা ও ইনডোর স্যুইমিং পুল ব্যবহার করে দারুণভাবে উপভোগ করতে পারেন। গøাস স্কাইওয়াকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রকৃতির সানিধ্যে মনোরম দৃশ্যেও অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।

হোটেলের নিকটেই দেখার মতো রয়েছে আরো প্রাকৃতিক মনোরম নানান দৃশ্য। পর্যটকদের আকর্ষণীয় অনেক বিনোদমূলক কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিসান ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক, চেনসান বোটানিক্যাল গার্ডেন, তিয়ানমা কান্ট্রি ক্লাব, গোয়াংফুলিন পার্ক, সাংহাই স্কালপচার পার্ক ও সাংহাই হ্যাপি ভ্যালি।

বিভিন্ন রকম আলোকচ্ছটায় রাতে হোটেলটির অন্যরকম দৃশ্যে পরিণত হয়। লিফটের সিঁড়িগুলো কাঁচের তৈরি হওয়ায় রাতের বেলায় পুরো হোটেলটি জ্বলমল করে।

তথ্যসূত্র: আরটি নিউজ, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, এনডিটিভি, এএফপি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

লেখক: মোহাম্মদ রবিউল্লাহ

starrabiul@gmail.com

আরো দেখুন

Leave a Comment