মানসিক চাপ অনুভব করছে ৮০ % জাপানি

মানসিক চাপ অনুভব করছে ৮০ % জাপানি

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ জাপান। শান্তি ও বিনয়ী দেশ হিসেবে সারা বিশ্বে জাপানের সুনাম রয়েছে। সেই জাপানের নাগরিকরাও মানসিক চাপে রয়েছে বলে সম্প্রতি এক সমীক্ষায় ওঠে এসেছে।

করোনা মহামারীর ফলে দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ লোক মানসিক চাপ অনুভব করছে বলে জাপানের সুুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত এক গবেষণা সমীক্ষায় বলা হয়েছে।

সমীক্ষায় জাপানের নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের করোনা ভাইরাসে সংক্রামণ , মহামারীতে ঘরে থাকার কারণে প্রতিদিনের জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টির কথা সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়েছে বলে জানায় গবেষকরা।

সম্প্রতি অনলাইন এ সমীক্ষাটি চালানো হয়। সমীক্ষায় জাপানের প্রায় ৭, ০০০ নাগরিকের প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা হয়। যেখানে তারা তাদের জীবনযাপন ও সমস্যার কথা জানান।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনার কারণে ৩৮.৩ % এবং ৪১ % যথাক্রমে “খুব” এবং “কিছুটা” মানসিক চাপ অনুভব করছে।

মানসিক চাপ সম্পর্কে ইউনিভার্সিটি অফ সুকুবার অধ্যাপক ও গবেষণা দলের প্রধান হিরোকাজু তাচিকাওয়া বলেন, স্বাভাবিক সময়ও জাপানিদের মধ্যে মানসিক চাপ লক্ষ্য করা যায়।

স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ৫০% মানসিক চাপ অনুভব করতে থাকে। তবে কারোনাকালে মানসিক চাপের সংখ্যা ৮০% যা স্বাভাবিকর তুলনায় অনেক বেশি বলে জানান এ অধ্যাপক।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাপানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে কী অভিজ্ঞতা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে জবাবে ২,৬৩৫ জন জানান যে তারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে ছিলেন।

আর ২,২৫৬ জন জানিয়েছেন যে স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা তাদের বাড়িতে অবস্থান করতে হয়েছিল করোনাকালে। অপরদিকে ২,১৮৪ জন পরিবারের সদস্যদের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকিতে ছিলেন বলে জানান।

এদিকে, জাপানের ২,০৭৪ জন নাগরিক জানিয়েছেন যে করোনার তীব্র সংক্রমণের সময় তারা তাদের জীবনযাপনে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। মহামারী করোনা তাদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তারা এখন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করছেন।

আবার অনেকে বলেছেন, তারা বাড়িতে থাকাকালীন সময়টি বেশ ভালোভাবে উপভোগ করার চেষ্টা করেছেন। বাড়িতে থেকে পর্যাপ্ত ঘুমসহ করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা হিসেবে পত্রিকা ও টেলিভিশন দেখেছেন।

গবেষণা দলটি তাদের গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, করোনা ভাইরাস মহামারীজনিত মানসিক চাপ ও এর পরবর্তী মানসিক চাপের মধ্যে সংযোগ বিশ্লেষণ করা হবে।

তথ্যসূত্র: জাপান টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *