মহামারি করোনা ভাইরাসের গন্তব্য কতদূর?

করোনা

আবারি ফেরদৌসী: চীনের উহানে উৎপত্তির প্রায় আড়াই মাস পর বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা করোনাভাইরাসাকে COVID -19 নামে  ডাোর নিদের্শনা দিয়েছে। এবার প্রকাশ পেল এ ভাইরাসের মাইক্রোস্কোপিক ছবি।

সম্প্রতি প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস- এনআইএআইডি।

সংস্থাটির বিজ্ঞানিরা গবেষণাগারে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন। ভাইরাসটি নিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালাচ্ছেন তারা।

হ্যামিল্টনের রকি পর্বতমালার ল্যাবে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন স্ক্যানিং অ্যান্ড ট্রান্সমিশন ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে তারা করোনাভাইরাসের ছবি ধারণ করে তা গণমাধ্যমে সরবরাহ করেছেন।

বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর লালা সংগ্রহ করে টেস্টটিউবে দিলে স্ক্যানিং অ্যান্ড ট্রান্সমিশন ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপে জীবাণু ধরা পরে। করোনার ছবি ধারণ করে ল্যাবের ভিজ্যুয়াল মেডিকেল আর্ট বিভাগ ওই ছবি রঙিন করা হয়। ছবি দেখে আশ্চর্য হন ল্যাবের বিজ্ঞানীরা।

কারণ করোনাভাইরাসের আণবিক চিত্রটি ২০০২ সালের আতঙ্ক সার্স ও ২০১২ সালের মার্স ভাইরাসের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। এনআইএআইডির ব্লগে একটি ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, এ ধরনের দ্রুত সংক্রমণযোগ্য ভাইরাসগুলো মাইক্রোস্কোপে প্রায় একই রকম দেখা যায়।

ভাইরাসটির উপরিভাগ কাঁটাযুক্ত করোনাভাইরাস পরিবারের বলে ভাইরাসের ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আগেই প্রকাশিত হয়। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরাই প্রথম করোনাভাইরাসের ছবি প্রকাশ করল।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো ধরা পড়ার পর তা দ্রুত সংক্রমিত হয়ে বিশ্বের অন্তত ২৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫২৬ জন। আর বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজারেরও বেশি।

এতদিন বেজিংয়ের কাছে চীনের রাজবংশের প্রাচীন প্রসাদ কে বলা হতো নিষিদ্ধ নগরী। করোনার প্রভাবে এখন চীনের ১০টির বেশি শহর নিষিদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়েছে।

মাইক্রোস্কপে যেমন দেখতে করোনাভাইরাস

উহানের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার লি প্রথম করোনার উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন। ইতোমধ্যে তিনি মারা গেছেন। ভাইরাস আক্রমণের কথা বলায় তিনি চীনা গোয়েন্দাদের তোপের মুখে পড়েছিলেন।

করোনাভাইরাস চীন সরকারের আত্মবিশ্বাসকে শেষ করে দিয়েছে। হলে কি চীনের অসুখ বিশ্বের ভয়াবহ মহামারীতে রূপ নিতে চলেছে। একাধিক মহাদেশের ছড়িয়ে পড়া মহামারী কে ইংরেজিতে বলে pandemic.করোনাভাইরাস কি প্যানডেমিক হয়ে উঠতে পারে?

পশ্চিমা দেশগুলো তেমনি আশঙ্কা করছে, যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও ঘোষণা করেনি। ৫ কোটি নাগরিককে গৃহবন্দি করেও ভাইরাসটিকে আটকাতে পারেনি বিশ্বের বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ চীন।

চীনের বাইরে ২৭টি দেশে করোনা আক্রান্ত মানুষ রয়েছে। যদিও মৃতের সংখ্যা মাত্র চার। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ফ্রান্স।

১৫ ফেব্রয়ারি ফ্রান্সে করোনায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপে প্রথম কোনো ব্যক্তি করোনায় নিহত হলো। তবে তিনি চীনের নাগরিক। ফ্রান্সে বেড়াতে আসছিলেন।

এর আগে হংকং, জাপান ও ফিলিপাইনে একজন করে করোনায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এছাড়া সিঙ্গাপুরে অনেকে করোনা ভাইরানে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশিও রয়েছে।

দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো যেসব দেশে রয়েছে সেখানে করোনাভাইরাস ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতিহাস বলছে, ১০০ বছরের ব্যবধানে ফিরে আসে এমনই একটি মহামারী। নিচে এর ধারা বর্ণনা দেওয়া হলো।

১৭২০ সালে প্লেগে বিশ্বজুড়ে মারা গেছে অন্তত ২০ কোটি মানুষ।

১৮২০ সালে ভারত ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় কলেরার বলি হন কয়েক লাখ মানুষ।

আর সর্বশেষ ১৯২০ সালে স্প্যানিশ ফ্লুতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।

১৬৫ খ্রিস্টাব্দে এশিয়া মাইনর অঞ্চলে প্লেগে মারা যান ৫০ লাখ মানুষ।

৫৪১ খ্রিস্টাব্দে জাস্টিনিয়ান প্লেগে মারা যান ইউরোপের আড়াই কোটি মানুষ।

১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ব্লাক ডেথ প্লেগে তিন মহাদেশে ১০ কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

১৮৫২ সালের কলেরায় ভারত, ইউরোপ, আমেরিকা ও উত্তর আফ্রিকায় ১০ লাখ মানুষ মারা যায়।

১৮৮৯ সালের রাশিয়ান ফ্লুতে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

১৯১১ সালের কলেরায় চার মহাদেশের ৮ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়।

১৯৫৬ সালের এশিয়ান ফ্লুতে মারা যান চীন, সিঙ্গাপুর ও আমেরিকার ২০ লাখ মানুষ।

১৯৬৮ সালের হংকং ফ্লুতে এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা ১০ লাখ মানুষ মারা যায়।

এই ক্ষেত্রে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চান না বিশ্ববাসী। এর আগে যেভাবে প্রতিষেধক আবিস্কার করা হয়েছে এবারও বিজ্ঞানীরা প্রতিষেধক আবিস্কার করবে বলে আশাবাদী মানুষজন।

আরো দেখুন

Leave a Comment