ভয়াবহ রোগ “ব্ল্যাক ফাঙ্গাস” এর লক্ষণ ও প্রতিকার

ভয়াবহ রোগ “ব্ল্যাক ফাঙ্গাস” এর লক্ষণ ও প্রতিকার

নাদিয়া আফ্রীদা: বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশী ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নতুন রোগ ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণের মধ্যেই মাথাচাড়া দিয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাকের সংক্রমণ।

সম্প্রতি করোনা আক্রান্তদের মধ্যে প্রবল ভাবে ছড়াচ্ছে ছাত্রাকজনিত এই রোগটি।তবে অন্যদেরও হতে পারে এই রোগ।

ভাইরোলজিস্ট মতে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম তাদেরকেই কাবু করতে পারে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। সুস্থদের মানুষের মধ্যে এটি ছড়ায় কম।

করোনার সঙ্গে লড়াই করার জন্য যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, অনেকেরই সেই কারণে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে বেশি সংক্রমিত হচ্ছেন তারা।

এমনিকি কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন এ রোগে।

তবে এই ফাঙ্গাল ইনফেকশন অবহেলা করলে তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন ভাইরোলজিস্টরা।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- নাক বন্ধ হয়ে আসা, নাক থেকে চাপা রক্তের মতো কালো পুঁজ বেরনো।

চোয়ালে বা মুখের একদিকে ব্যাথা, অবশ হয়ে যাওয়া বা ফুলে যাওয়া, নাকের উপর কালচে দাগ, দাঁতে ব্যাথা বা দাঁত আলগা হয়ে আসা।

এছাড়া দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা বা দুটো করে জিনিস দেখা, জ্বর, ত্বকের সমস্যা, বুকে ব্যাথা নিঃস্বাসের সমস্যা বেড়ে যাওয়া, রক্তবমি ইত্যাদি এ রোগের অন্যতম লক্ষণ।

সাধারণত ক্যানসার ও ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগী, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, অত্যধিক স্টেরয়েড গ্রহণ করা, কিডনি বা অন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং চরম অপুষ্টিজনিত রোগীদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ হতে পারে।

এছাড়া চামড়ার গভীর ক্ষত ও পোড়া ঘায়েও এই রোগ হতে দেখা গেছে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস থেকে বাচঁতে কিছু বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকরা-

  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বেরনোর পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে হবে। (এ শর্ত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য থাকবে।)
  • সঠিক পরিমাণে এবং ঠিক সময় স্টেরয়েড নিতে হবে।
  • মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করতে নতুন টুথপেস্ট দিয়ে দিনে দু থেকে তিনবার করে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
  • পরিবারের অন্যদের ব্রাশের সঙ্গে নিজের ব্রাশ রাখা যাবে না।
  • স্ক্র্যাপার দিয়ে নিয়মিত জিহবা পরিষ্কার করতে হবে।
  • অক্সিজেন থেরাপির সময় পরিষ্কার স্টেরিলাইজ করা জল ব্যবহার করতে হবে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টি ফাঙ্গাল ওযুধ খেতে হবে।

উপরোক্ত পরামর্শগুলো মেনে চললেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাকের সংক্রমণ কমবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *