ভাসানচরের চিকিৎসা সেবা, জীবিকার ও যোগাযোগের ব্যবস্থা কেমন?

ভাসানচরের চিকিৎসা সেবা, জীবিকার ও যোগাযোগের ব্যবস্থা কেমন?

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক নজরদারিতে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিকল্পিতভাবে ভাসানচরে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় ব্যয়ে একটি মেগা প্রকল্প নির্মাণ করেছে সরকার।

এক লাখ রোহিঙ্গাকে সাময়িকভাবে স্থানান্তরের জন্য এই মেগা প্রকল্পটির নির্মাণ, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। রোহিঙ্গাদের মানসম্মত জীবন নিশ্চিতে সব ধরনের আয়োজন রয়েছে ভাসানচরে।

চিকিৎসা সেবা ও হাসপাতাল:

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় কক্সবাজারে দ্রুত রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া প্রসবকালীন নারীরা কক্সবাজারে তেমন সেবা পান না। অন্যদিকে ভাসানচরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রসবকালীন নারীর জন্য সিজার ও নরমাল ডেলিভারির ব্যবস্থা আছে।

স্বাস্থ্যসেবা দিতে ডাক্তারসহ কয়েক ডজন এনজিওর মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। বিজ্ঞানম্মত ও পরিকল্পিত দুটি হাসপাতাল ও চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ভাসানচরে।

বাসিন্দাদের কারও মৃত্যু হলে সৎকার ও কবর দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রাখা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে অন্য কোথাও নিতে হেলিকপ্টার, জাহাজ ও স্পিডবোটও প্রস্তুত আছে।

জীবিকা নির্বাহের সুযোগ:

কক্সবাজারে পাহাড়ি পরিবেশ হওয়ায় গাছ কাটা ছাড়া তেমন কোনো কাজ নেই। তবে ভাসানচরে মৎস্য চাষ, দুগ্ধ খামার, ধান ও সবজি চাষ, হস্তশিল্প, নারীদের জন্য সেলাই কাজ, ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে।

ইতোমধ্যে বিশাল আকারের লেক তৈরি করে সেখানে রুই, কাতলা, পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়ার চাষ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় মুরগি, টার্কি মুরগি, রাজ হাঁস, দেশি হাঁস, কবুতর, মহিষ ও ভেড়াপালনও করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ১০ হাজার মহিষ ও শতাধিক ভেড়া রয়েছে সেখানে। এসব মহিষ ও ভেড়া মাংস ও দুধ বাজারজাত করা হবে। পাশাপাশি ধান, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ড্রাগনসহ উন্নতজাতের ফল চাষ শুরু হয়েছে ভাসানচরে। এর কোনো একটির সাথে যুক্ত হতে পারবে রোহিঙ্গারা।

অবকাঠাসো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা:

কক্সবাজারে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকলেও ভাসানচরের পরিকল্পিত আবাসন ও উন্নতমানের রাস্তা ধসে পড়ার কোনো সুযোগ নেই। ভাসানচরের যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক ভালো।

রাতের ভাসানচর ঘুরলে মনে হয় যেন এটি ইউরোপের আধুনিক কোনো শহর। দৃষ্টিনন্দন পাকা সড়ক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল, এনজিও কর্মীদের চলাফেরায় অনেকটাই জমে উঠেছে ভাসানচর।

চট্টগ্রাম থেকে ছোট জাহাজ ও ভেসেলসমূহ দিয়ে যেভাবে নিরাপদে সন্দ্বীপ, হাতিয়া, নোয়াখালী, তালপুর, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করা যায় ঠিক একইভাবে ভাসানচরে যাওয়ার জন্য নেভিগেশনাল বয়া স্থাপন করা হয়েছে।

অত্যন্তরীণ নৌপথে চট্টগ্রাম থেকে ছোট জাহাজের সঠিক নেভিগেশনের জন্য ১৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নেভিগেশন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি লাইটহাউজ নির্মাণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *