ভাসানচরের খেলার মাঠ, সামাজিক মান উন্নয়ন ও আবাসন ব্যবস্থা কেমন?

ভাসানচরের খেলার মাঠ, সামাজিক মান উন্নয়ন ও আবাসন ব্যবস্থা কেমন?

মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান বদলে দেয়ার সব আয়োজন রয়েছে ভাসানচরে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মান বজায় রেখে সেখানে তৈরি করা হয়েছে পরিকল্পিত আবাসন।

খেলার মাঠ, টেকসই আবাসন ও সামাজিক মান উন্নয়নসহ রোহিঙ্গাদের মানসম্মত জীবন নিশ্চিতে সব ধরনের আয়োজন রয়েছে ভাসানচরে।

খেলার মাঠ:

খেলার মাঠসহ শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে সবকিছু। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্যও ভাসানচরে রয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।

রোহিঙ্গা শিশুদের খেলাধুলার জন্য ভাসানচরে রয়েছে দুটি খেলার মাঠ। এর বাইরেও প্রতিটি ক্লাস্টারে স্বল্প পরিসরে খেলাধুলার ব্যবস্থা শিশুদের মনোজগতে ইতিবাচকভাবে সম্প্রসারণের সহায়ক।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব। অথচ ভাসানচরে সবদিক দিয়েই উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। এখানে কাউকে গাদাগাদি করে থাকতে হবে না। উন্নত নাগরিক সুবিধাও রয়েছে।

সামাজিক মান উন্নয়ন:

ভাসানচরের উন্নত আবাসন, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, পর্যাপ্ত সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, জীবিকা নির্বাহের সুযোগ, খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের সুব্যবস্থা রয়েছে যা রোহিঙ্গাদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এছাড়াও ভাসানচরে রয়েছে এতিমখানা, ডে-কেয়ার সেন্টার যা রোহিঙ্গাদের চিন্তার জগৎকে সম্প্রসারিত করবে। ভাসানচরে মানব ও মাদক পাচার বন্ধসহ কাজ করার সুযোগ থাকায় জীবন সহজ হবে রোহিঙ্গাদের।

উন্নত ও টেকসই আবাসন:

কক্সবাজারের চেয়ে ভাসানচরের আবাসন ব্যবস্থা উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত। চারদিকে খোলা জায়গা, নির্মল বাতাস, ঘরগুলোর দরজা ও জানালা দিয়ে বাতাস চলাচল করতে সক্ষম। ব্রিটিশ কোম্পানির ডিজাইনে প্রায় দেড় হাজার পাকা ঘর (ক্লাস্টার হাউজ) ও ১২০ টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিকল্পিত নকশায় ভূমি থেকে প্রতিটি ক্লাস্টার হাউস ৪ ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনার অবকাঠামো বেশ পরিকল্পিত ও মজবুত।

আছে ভেতরে ও বাইরে চলাচলের জন্য প্রশস্ত পাকা রাস্তা। ভাসানচরের রাস্তা দিয়ে হাটাচলা করলে ইউরোপের উন্নত দেশের অনুভূতি পাওয়া যায়। এসব ক্লাস্টার হাউস, শেল্টার স্টেশন বা গুচ্ছগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই আবাসস্থল। যা যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *