ভারত চীনকে ছাপিয়ে এশিয়ার ইকোনোমিক টাইগার বাংলাদেশ!

জাইমা ইসলাম নিধি: চীনের সাম্প্রতিক উত্থান ও উদীয়মান অর্থনীতি কারণে বর্তমানে দেশটি নতুন পরাশক্তিতে রুপান্তরিত হয়েছে। সস্তায় শ্রম ও কম দামের কাঁচামাল নিয়ে ধীরে ধীরে বৈশ্বিক বাজারের দখল নিয়ে নিচ্ছে চীন। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ চীনকে দারিদ্র্যমুক্ত ও অর্থনীতি গতিময় করতে সহায়তা করছে।

প্রসংগ বাংলাদেশ: 

এবার বাংলাদেশের দিকে আসা যাক। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অনেকটা নীরবেই অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এশিয়ার কোনো দেশ যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি তা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দেশটির বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ। এটি রুপ কথা নয় বাস্তব চিত্র।

চীন, ভারত ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় ইকোনমিক টাইগারদের ছাড়িয়ে বাংলাদেশ এখন অর্থনীতিতে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।

এই সেই বাংলাদেশ: 

এক সময়ের সামরিক বা সেনা-সমর্থিত সরকারগুলোর কষাঘাতে দরিদ্র্য, দুর্নীতি ও ধর্মীয় মৌলবাদ যে বাংলাদেশে দানা বেধেছিল সেই বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নের রোল মডেল।

এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। ওয়ালমার্ট ও মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কোম্পানিকে পোশাক সরবরাহ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পনি । দেশটির প্রায় ৪ হাজার ৫৬০ গার্মেন্টস কোম্পানি বিশ্বব্যাপি পোশাকের চাহিদা পূরণ করছে।

অর্থনীতির মেরুদণ্ড তৈরি পোশাক:

তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেছে ও চীনের পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড তৈরি পোশাক খাত থেকে প্রতি বছর ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় আসে যা দেশের রফতানি আয়ের ৮০ % এরও বেশি ও যা জিডিপির ১৩ %।

শক্তি যোগাচ্ছে সস্তা শ্রম:

বাংলাদেশ পোশাক শিল্পের এ উন্নতিও হচ্ছে সস্তা শ্রমের কারণে। সস্তা শ্রম দিয়ে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগীদের পরাজিত করে ( বাংলাদেশ এশিয়ায় সর্বনিম্ন শ্রম ব্যয় ১০১ ডলার / মাসে ) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে শূন্য শুল্কে পোশাক রফতানি করে থাকে।অনেক অনুন্নত দেশই এই অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পেয়ে থাকে। এর ফলে এই দেশগুলো তাদের অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত করতে সক্ষমতা অর্জন করছে। তবে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পোশাক রফতানির জন্য ৯-১০ % শুল্ক দিতে হয়।

চীন ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর ফলে দুটি দেশই বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়িয়েছে। যা বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে।

চীন আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধের সুবিধা:

বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পেও ব্যাপকভাবে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। ফলস্বরুপ ক্ষুদ্র ঋণ ও কম্পিউটার সেবা খাতেরও বিকাশ হয়েছে। এ দুই খাত থেকে এখন উল্লেখযোগ্য অনুপাত জিডিপি আসছে বাংলাদেশে।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি পণ্য রফতানি করছে। ২০২১ সালের মধ্যে এ খাতের রপ্তানী ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

সহায়তা করছে ওষুধ শিল্প:

রফতানি আয়ের অন্যতম আরেকটি খাত হচ্ছে ওষুধ শিল্প। বাংলাদেশের ওষুধ রফতানির বাজার ৩ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলোর তৈরি করা উচ্চমানের ক্যান্সরের ওষুধ ১৫১ টি দেশে রফতানি হয়।

চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি:

বাংলাদেশের উত্থানের নেপথ্যে চীন থেকে আসা বিনিয়োগ কাজ করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত করতে চীনা বিনিয়োগ ব্যাপক অবদান রাখছে। বাংলাদেশ- চীন এই দুই দেশ ২০১৬ সালে নিজেদের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিতে রূপান্তরিত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন বিগত কয়েক বছরে অন্য যে কোনও দেশের চেয়ে বেশি অর্থ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে। কেন না চীন বুঝতে পেরেছে যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা সবদিক দিয়ে লাভজনক এবং বাংলাদেশই হবে পরবর্তী এশিয়ার ইকোনোমিক টাইগার।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস এন্ড ইকোনোমি রিপোর্ট

আরো দেখুন

Leave a Comment