বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল কেন ‘কিনমেমাই প্রিমিয়াম’ ?

বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল কেন ‘কিনমেমাই প্রিমিয়াম’ ?

ইসরাত জাহান পুষ্পিতা: বিশ্বের জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি হচ্ছে চাল। বিশ্বের ৩৫০ কোটির বেশি মানুষের নিত্যদিনের আহার সিদ্ধ চাল।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বিশ্বের সবচেয়ে দামি চালের তালিকায় নাম লেখা রয়েছে কিনমেমাই প্রিমিয়াম চালের। চালটির জন্মস্থান জাপান।

কিনমেমাই প্রিমিয়ামের প্রতি কেজি কিনতে খরচ করতে হয় ১০৯ ডলার বা প্রায় সাড়ে নয় হাজার টাকা!

জাপানের বিখ্যাত খাদ্যশস্য কোম্পানি টয়ো রাইস করপোরেশনের হাত ধরে কিনমেমাই প্রিমিয়াম বাজারে এসেছে।

২০১৬ সালের ৩০ জুন বিশ্বের সর্বোচ্চ দামে বিক্রীত চালের খেতাব পায় খাদ্যপণ্যটি।

২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল কনটেস্ট অন রাইস ইভলিউশনে চালটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট চাল’ হিসেবে স্বর্ণপদক অর্জন করে।

এর বিশেষ উৎপাদন পদ্ধতি চালটিকে করে তুলেছে স্বাদে অতুলনীয় ও পুষ্টিগুণে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পাশাপাশি চালটিকে এতটা দামি করে তুলেছে।

রান্নার আগে চালটি ধোয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আধা ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রেখে পরিমিত পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নিলেই চলে।

রান্নার পরও চালটির জ্বলজ্বলে ভাব অক্ষুণ্ন থাকে। এটি খেতে অনন্য মিষ্টি কোমল স্বাদ।

এটা তুলতুলে, সঠিক মাত্রায় আঠালো ও জিহ্বায় দীর্ঘক্ষণ একটা রেশ ধরে রাখতে সক্ষম।

জাপানের শীর্ষ মানের কয়েকটি শস্য ব্র্যান্ডের মিশ্রণ থেকে কিনমেমাই প্রিমিয়াম চালাটি তৈরি করা হয়।

এর মধ্যে নিগাতা অঞ্চলের বিখ্যাত কশিহিকারি ও কুমান্ত অঞ্চলের নিকোমারু চাল অন্যতম।

প্রত্যাশিত স্বাদ ও পূর্ণ পরিপক্বতা লাভের জন্য ছয় মাস বয়সের আগে ধান ভাঙা হয় না।

এরপর টয়ো রাইসের বিশেষায়িত প্রযুক্তিতে ধান ভেঙে চাল তৈরি করে।

পেটেন্টযুক্ত প্রযুক্তিটি ধানের কেবল অপাচ্য আবরণটুকু সরিয়ে ফেলে ও যথাযথভাবে পলিশ করে।

ফলে চালগুলো দেখতে যেমন নিখুঁত আকার ধারণ করে, তেমনি পুষ্টি উপাদানও সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন থাকে।

প্রক্রিয়াজাত কিনমেমাই প্রিমিয়াম ভিটামিন বি-১, বি-৬, ই, বি-৩ ও ফলিড এসিডে পরিপূর্ণ।

একই সঙ্গে সাধারণ জাতের তুলনায় ছয় গুণ বেশি লিপোপলিস্যাকারাইড (এলপিএস) ধারণ করে চালটি।

লিপিড ও পলিস্যাকারাইডের মিশ্রণ শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধির আশঙ্কা হ্রাস করে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল ও সিএনবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *