বিশ্বের বিপজ্জনক ৫ সীমান্ত

বিশ্বের বিপজ্জনক ৫ সীমান্ত

প্রায় সময়ই আমরা সীমান্তে যেতে পছন্দ করি। সীমান্ত যেকোনো দেশের মেলবন্ধন। সীমান্ত যেমন প্রতিবেশীদের কাছে টানে, তেমনি দূরত্বও বাড়ায়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক ৫ সীমান্ত নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো-

বাংলাদেশ-ভারত:

এ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। গত এক দশকে এই সীমানায় ১,০০০ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে ৪১ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে হত্যার শিকার হন। অপহৃত হন ৩৪ জন। বাংলাদেশভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘অধিকার’ তথ্য অনুসারে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভারত-পাকিস্তান:

এ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৩২৩ কিলোমিটার। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই রাষ্ট্র দুটি পরস্পরের সঙ্গে একাধিক সংঘাতে ও যুদ্ধে জড়িয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল এই দুই বছরে ভারতের দাবি, তারা প্রতিপক্ষের ৫৬ থেকে ৬১ জন সেনাকে হত্যা করেছে আর পাকিস্তানের দাবি, তারা ৮৬ থেকে ৯১ জন ভারতীয় সেনাকে হত্যা করেছে।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তান:

এ দু’শের সীমান্তের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৪৩০ কিলোমিটার। প্রায় দেড় হাজার মাইল দীর্ঘ ‘ডুরান্ড লাইন’ নামে পরিচিত সীমান্ত এখনও মেনে নেয়নি আফগানিস্তান৷ এই সীমান্তকে ঘিরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে৷ এটি বিশ্বের অন্যতম বিপদজনক সীমান্ত।

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো:

৩ হাজার ১৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্তের। উন্নত জীবনের আশায় মেক্সিকো থেকে প্রতিবছর অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেন৷ ২০১৯ সালে প্রাণ হারান ৮ শতাধিক মানুষ। মেক্সিকো সীমান্তে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত গত সাড়ে চার বছরে মারা গেছেন ৪০ হাজার ব্যক্তি। এটিও বিপদজনক সীমান্তের একটি।

 

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া:

বিশ্বের সবচেয়ে সামরিক সজ্জায় সজ্জিত সীমান্ত বলা হয় একে৷ ১৯৫৩ সালে কোরিয়া যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রায় দেড়শো মাইল দীর্ঘ এই সীমান্তের দুই পাশ থেকে সৈন্যদের সরিয়ে দেয়া হয়৷ তখন থেকেই দুই দেশের সৈন্যরা এই সীমান্তের দুই পাশে অবস্থান করছে৷

এই সীমান্তগুলোই সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক সীমান্ত। এই সীমান্ত গুলোর মধ্যে প্রায়ই নিহতের ঘটনা ঘটে থাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কয়েকদিন পরপরই নিহতের খবর পাওয়া যায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *