বিশ্ববাজারে দাপট বাড়ছে বাংলাদেশি ওষুধের

বিশ্ববাজারে দাপট বাড়ছে বাংলাদেশি ওষুধের

স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশে ওষুধশিল্পের বিস্ময়কর বিকাশ ঘটেছে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদনে বিশ্ববাজারে এখন এক নির্ভরতার নাম বাংলাদেশ।

সাধারণ ওষুধের পাশাপাশি দেশি কোম্পানিগুলো এখন ভ্যাকসিন, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ওষুধ, ইনসুলিনসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল ও আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ তৈরি করছে। ইতিমধ্যে দেশের অন্তত ১৪টি কোম্পানি বিভিন্ন দেশে ওষুধ রফতানি করার নিবন্ধন পেয়েছে।

দেশের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধের বাজারের ৯৮ শতাংশই স্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর দখলে। দেশের প্রায় পুরো চাহিদা মিটিয়ে দেড় হাজার কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে প্রতি বছর।

ওষুধশিল্প সমিতির তথ্যানুযায়ী, গত দুই বছরে ১ হাজার ২০০ ধরনের ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের তৈরি ওষুধ এশিয়ার ৪১টি দেশে, দক্ষিণ আমেরিকার ২৩টি দেশে, আফ্রিকার ৩৭টি, উত্তর আমেরিকার ৪টি দেশে, ইউরোপের ৩২টি ও অস্ট্রেলিয়ার ৫টি দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে।

অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মূল্য ও ওষুধের গুণগত মানের কারণে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে গড়ে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে দেশের ওষুধের বাজার। এ অবস্থায় প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বের ওষুধ-বাণিজ্যের অন্তত ৫ শতাংশ দখল করা সম্ভব বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

অনুন্নত বিশ্বের ৪৮ দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের ওষুধ। দেশের ২৫৭টি কোম্পানির কারখানায় বছরে ২৪ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে। এ শিল্পে প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে।

জানা যায়, উন্নত বিশ্বে যে ওষুধের দাম গড়ে ৪২৫ ডলার, বাংলাদেশে এর দাম মাত্র ৩২ ডলার। মানও ভালো। ইউরোপ-আমেরিকায় ওষুধের মতো স্পর্শকাতর বাজারে পণ্য যায় কঠিনভাবে মান যাচাইয়ের পর। সেই মান যাচাইয়ের পরীক্ষায় পাস করেই বাংলাদেশের ওষুধ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, জাতীয় অর্থনীতি (জিডিপি)তে ওষুধ খাতের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। ২০১৮ সালের শুরুতে বিশ্বব্যাপী ওষুধের বাজার ছিল ১ হাজার ২০৫ বিলিয়ন ডলারের, যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে এটা ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *