ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানেন না যারা

প্রযুক্তির উপর ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। এগিয়ে যাচ্ছে মানব সভ্যতা। সকালে ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পযন্ত প্রযুক্তি বড় ধরনের অবদান রেখে যাচ্ছে। প্রযুক্তির সুবাধে মানুষের জীবন যাত্রা অনেক সহজ হয়ে গেছে। সহজ হয়ে গেছে কাজের ধরণও।

ইন্টারনেটের এই যুগে তরুণদের কাছে এক জনপ্রিয় পেশা ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিং হল এক ধরনের স্বাধীন পেশা। যারা চাকরীর ধরা বাধা নিয়ম পছন্দ করেননা, তাদের জন্য উপার্জনের এক চমৎকার মাধ্যম ফ্রিল্যান্সিং। বর্তমানে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে।

স্বাধীন পেশা ফ্রিল্যান্সিংয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে এ আয়োজন।

ফ্রিল্যান্সিং হলো এক ধরনের চুক্তিভিত্তিক কাজ। তবে কোনো একক কাজকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয় না। বলতে গেলে একটি পেশার পরিচালনার এক বিশেষ ধরণ। কোনো প্রতিষ্টানের অধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং।

আর যারা এ ধরনের কাজ করেন তাদেরকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার। বাংলা যাকে বলা যায় স্বাধীন পেশাজীবী। ফ্রিল্যান্সিংয়ের সাথে ওতোঁপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আরেকটি শব্দ তা হলো আউটসোর্সিং। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার নিয়মিত কর্মীদের বাইরে চুক্তিভিত্তিক কাজ করালে তাকে বলা হয় আউটসোসিং।

উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, আপনি যদি আপনার ব্যবসার জন্য একটি ওয়েবসাইট খুলতে চান কিন্তু আমাপনার প্রতিষ্ঠানে কোনো ওয়েব ডেভলপার নেই আবার একটি কাজের জন্য একজন কর্মী নিয়োগ দেওয়াও অনেক ব্যয় সাপেক্ষ তখন আপনার জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় হবে একজন ফ্রিল্যান্সারকে কাজ দেওয়া।

ফ্রিল্যান্সিং হল কোন প্রতিষ্ঠানে পার্মানেন্ট চুক্তিবদ্ধ না হয়ে বরং প্রজেক্ট বেসিসে কাজ করা। ফ্রিল্যান্সিং করে আসছে মানুষ শত বছর ধরে। যেমন একজন রিক্সাওয়ালাও ফ্রিল্যান্সার, কারণ সে অন্যের রিক্সা চালায়, ইচ্ছা হলে প্যাসেঞ্জার নেয়, নাহলে নেয় না। তার ফ্রিডম আছে।

ইদানিং ফটোগ্রাফাররাও ফ্রিল্যান্সার, কারণ তারা কোথাও ফটোগ্রাফার হিসাবে চাকরি না করে বরং অনুষ্ঠান বেসিসে শুট করে আর পারিশ্রমিক নেয়। সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজ নয়, কাজ করার ধরণ মাত্র।

এক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক যে কাজটি করিয়ে নেওয়া হবে সেটি হবে আউটসোর্সিং বিভিন্ন ধরনের আউটসোর্সিংয়ের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করাই হলো ফ্রিল্যান্সিং

সাধারণ চাকরিজীবীদের মতো ফ্রিল্যান্সারদের নির্ধারিত বেতন নেই। কাজের ধরণ ও চুক্তির উপর নির্ভর করে একজন ফ্রিল্যান্সার কত টাকা আয় করবে।

জনপ্রিয় কয়েকটি ফ্রিল্যান্সিং কাজের ধরণ হলো-

  • ওয়েব ডেভলপমেন্ট
  • গ্রাফিক ডিজাইন  
  • ডাটা এন্ট্রি
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • ভিডিও এডিটিং
  • অ্যাপ ডেভলপমেন্ট ইত্যাদি

এসব কাজের বাইরেও চাহিদা সম্পন্ন যে কোনো কাজের দক্ষতা অর্জন করে যে কেউ ফ্রিল্যান্সার হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কোথায় গেলে আপনি এ সকল কাজ পাবেন বা আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী কোথায় খুঁজবেন? এর উত্তর হলো মার্কেট প্লেস।

মার্কেট প্লেস হলো কাজের বাজার। ফ্রিল্যান্সার ও তাদের ক্লায়েন্টদের মধ্যে কাজ আদান-প্রদানের জায়গাকে বলা হয় মার্কেট প্লেস। যেখানে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় কাজ অন্যকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারবেন।

আবার কর্মসন্ধানী যে কেউ  সেখান থেকে আপনার কাজটি করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন। অর্থাৎ যে প্ল্যাটফর্মে কাজ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের সকল ধরনের লেনদেন হয় তাকে বলে মার্কেট প্লেস।

ইন্টারনেটে বহু মার্কেট প্লেস আছে। সব মার্কেট প্লেসের উদ্দেশ্য এক হলেও তাদের কাজের ধরনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।  আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লেসগুলোতে বাংলাদেশের  ফ্রিল্যান্সাররা বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিংয়ে যারা নতুন তাদের বেশ কিছু সমস্যা হয়ে থাকে।

যেমন- একেক জন ফ্রিল্যান্সারের কাজের দক্ষতার উপর ভিত্তি করে তার রেটিং পয়েন্টে থাকে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় তাদের কাজ পেতে বেশ অসুবিধা হয়।  আরেকটি বড় অসুবিধা হলো কাজের পারিশ্রমীক পাওয়ার বিষয়টি।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সকল ধরনের মেথড না থাকায় অনেকে বিদেশি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসগুলোতে কাজ করতে পারে না। অথবা কাজ শেষে টাকা পেতে নানা রকম সমস্যায় পড়তে হয়।

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এ ধরনের সমস্যা অতীতে থাকলেও এখন তা নেই। আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লেসে ফ্রিল্যান্সারদের সহযোগিতায় সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে অনেক বেসরকারি ব্যাংকও।

এগুলোতে একাউন্ট খোলার মাধ্যমে আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজ নিতে পারবেন। এছাড়া আপনি চাইলে এখান থেকে অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে আপনার প্রয়োজনীয় কাজ করার ব্যবস্থাও আছে।

কাজ শেষে যে কোনো বাংলাদেশি ব্যাংক অথবা পে পালের মাধ্যমে আপনার ফ্রিল্যান্সদের পারিশ্রমিক দিতে পারবেন দিতে পারবেন।  এবং ফ্রিল্যান্সারাও সহজে বিকাশসহ বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারবেন

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে দুটি কথা

বাংলাদেশের মত দেশ যেখানে চাকরির বাজার বেশ নাজুক অবস্থায় আছে, যেখানে ৪৭% শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বেকার, পর্যাপ্ত চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হয় না, সেখানে বিকল্প পেশা হিসেবে সম্মানজনক অবস্থায় আছে ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্তপেশা, আরও বিস্তরভাবে বলতে গেলে অনলাইন প্রফেশন। অনেক গুলো অনলাইন প্রফেশনের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং একটি।

ফ্রিল্যান্সিং খাতে বাংলাদেশ বেশ ভাল অবস্থানে আছে, বিশ্বে বাংলাদেশের দক্ষ পেশাদারদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে শত কোটি টাকার। হিসেব মতে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার আছে ৫ লাখের বেশি।

ফ্রিল্যান্সিং যেমন সম্ভাবনা, তেমনি এ নিয়ে আছে প্রচুর ভুল ধারণা, আবার ভুল ধারণাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদ।

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মানে হল, যে কাজ ক্লায়েন্ট অনলাইনের মাধ্যমে আপনাকে দেবে, আপনি সে কাজে চুক্তিবদ্ধ হবেন, নিজের দক্ষতা দিয়ে কাজটা করবেন, আর সেটা অনলাইনের মাধ্যমেই ক্লায়েন্টকে ডেলিভার করবেন, আর ক্লায়েন্ট অনলাইনের মাধ্যমেই আপনাকে পেমেন্ট করবে।

এখানে অনলাইনে কাজ করেননি, কাজ আপনার দক্ষতা দিয়েই করেছেন, শুধু মাধ্যমটা অনলাইন, যোগাযোগের মাধ্যম। যেমন ফোনে কোন কাজের ডিল হলে নিশ্চয়ই আপনি এটাকে ফোনে আয় করা বলেন না, তেমনি এটাও অনলাইনে ইনকাম নয়।

এখন একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝাই ফ্রিল্যান্সার, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সার, আউটসোর্সিং কি।

ধরুন আপনি ভাল একাউন্টিং করেন। আমেরিকার এক ক্লায়েন্টের কোম্পানির ১৫ দিনের একাউন্ট অডিট করতে হবে। সে অনলাইনে একটা প্ল্যাটফর্মে অফার করল। অনেকের মত আপনি অ্যাপ্লাই করলেন। আপনি কাজটা পেলেন। একটা এমাউন্ট পেমেন্টে চুক্তিবদ্ধ হলেন। কাজটা আপনি আপনার দক্ষতা দিয়ে সম্পন্ন করলেন, অনালাইনের মাধ্যমে আপনি সেটা ডেলিভার করলেন, ক্লায়েন্ট আপনাকে পেমেন্ট অনলাইনের মাধ্যমে দিল।

তাহলে,

ফ্রিল্যান্স কাজ কে করল? আপনি!

ফ্রিল্যান্সার কে? আপনি!

ফ্রিল্যান্সিং কে করল? আপনি!

আউটসোর্স কে করল? ক্লায়েন্ট!

আউটসোর্সার কে? ক্লায়েন্ট

আউটসোর্সিং কে করল? ক্লায়েন্ট!

অর্থাৎ আপনি কখনই আউটসোর্সিং করছেন না। সেটা করছে ক্লায়েন্ট! কেউ যদি ক্লেইম করে সে আউটসোর্সিং শেখাবে, তাকে প্রতারক বলে গণ্য করুন, কারণ সে নিজেই জানে না আউটসোর্সিং কি। সে প্রতারণা করছে।

যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং কোনো কাজ না, কেউ যদি ক্লেইম করে সে ফ্রিল্যান্সিং শেখাবে, সে ক্ষেত্রে সে-ও প্রতারক। যে খাতই বেশ ভাল করছে, সে খাতের নাম ব্যবহার করে কিছু প্রতারক প্রতারণা করা শুরু করে।

তেমনি এখন বেশ জমজমাট আউটসোর্সিং-ফ্রিল্যান্সিং এর নামে ট্রেইনিং প্রতারণা। বেশিরভাগ ট্রেনিং সেন্টার গুগল-ইউটিউব বা অন্যান্য ভাল মেন্টরের লেখা পড়ে মুখস্থ করে সেটা শেখানোর জন্য ট্রেনিং খুলে বসে।

একটু ভাবুন, আপনাকে সফল হওয়ার মেন্টরশিপ সে-ই দিতে পারবে, যে ঐ কাজে নিজে সফল। কিন্তু যে নিজেই কাজ করেনা বা করেনি, সে কি করে আপনাকে ট্রেইনিং দিতে পারবে?

আর যে দক্ষ, যে নিজে সফল, অনেক টাকা আয় করে, অনেক রেপুটেশন, সে কেন ট্রেনিং ব্যবসা করে ৫-১০ হাজার ইনকাম করতে আসবে? সে আরেকজনকে সফল করার মূল-মন্ত্র দিতে পারলে সে নিজে তো লক্ষ-লক্ষ আয় করার কথা। তার এত সময় কোথায়?

এসব ট্রেনিং সেন্টারের মালিক / ট্রেইনারদের ব্যাকগ্রাউন্ড খোঁজ নিলে দেখবেন, তারা নিজেরা অন্য ট্রেনিং সেন্টারে কোর্স করেছিল, নিজেরা ঐ কাজে দক্ষ হতে পারেনি, সফল হতে পারেনি। তো কি করবে?

যা শিখেছে তা অন্যকে শিখিয়ে অনেক টাকা ইনকাম করা যায়, আর ট্রেনিং করার জন্য অর্থলোভী মানুষের তো দেশে অভাব নেই। ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় যে গুণটা দরকার, তা হল নিজ থেকে বুঝে নেয়ার ক্ষমতা!

সহজেই শিখে ফেলুন মার্কেটিং-এর খুঁটিনাটি:

ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মার্কেটিং-এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বলে রাখা ভাল, ফেসবুক গ্রুপ, ব্লগ, ইউটিউব এবং অনেক ক্ষেত্রে ফ্রি ট্রেনিং এর মাধ্যমে অনেক সফল ব্যক্তিরাই ফ্রি-মেন্টরিং করছে বাংলাদেশে। যা শিখে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বিশ্ব বাজারে কাজ করা যাবে।

আরেকদল আরও এক ধাপ এগিয়ে। তারা অবৈধ-সাইবারক্রাইমকে ফ্রিল্যান্সিং বলে চালিয়ে দেয়, আর এ সম্পর্কে জানেনা এমন ছেলেমেয়েদের কাজ করায় তাদের প্রতিষ্ঠানে।

CAPTCHA এন্ট্রি, ফেসবুক ফেইক লাইক, পিটিসি (Clicksense, trafficmonsoon), আর এখন নতুন যুক্ত হয়েছে Bet365.

এগুলো পিওর সাইবারক্রাইম এবং অবৈধ। এগুলোর সাথে ফ্রিল্যান্সিং এর কোন যোগসূত্র নেই। বছর কয়েক আগে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং এর নামে এসব অবৈধ কাজ হচ্ছে বলে বিশ্বের নামকরা কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রতিবেদনও আসে।

যাদের জন্য এ পেশা:

  • যাদের অতিরিক্ত লোভ নেই।
  • যারা কাজ শেখার ধৈর্য রাখে।
  • যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার মত কমিউনিকেশন জানে।
  • যারা শর্টকাটে টাকা আয় করতে চায় না।
  • যাদের জীবনে কিছু করার প্রবল ইচ্ছে আছে।
  • যারা সৎ পথে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়।
  • যাদের শেখার প্রবণতা আছে।

যাদের জন্য এ পেশা নয়:

  • যারা কাজের চেয়ে টাকাকে মূল্যায়ন করেন।
  • যারা সহজে আয়ের পথ খুঁজছেন।

. যারা চাকরির বা অন্য পেশার পাশাপাশি সাইড ইনকাম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং কে ভাবছেন।

  • যারা মনে করছেন শেখা শুরুর ১৫দিন – ১ মাসের মধ্যেই কারিকারি টাকা আয় করবেন।
  • যারা ফ্রিল্যান্সিং ট্রেইনিং সেন্টারের চটকদার বিজ্ঞাপন ‘ঘরে বসে লাখ টাকা’ দেখে এই পেশার জন্য আগ্রহী হয়েছেন।
  • যারা ফ্রিল্যান্সিং কে খুব সহজ ভাবেন।

যেভাবে আসবেন এ পথে:

  • আগে জানুন এ খাতে কোন কোন ফিল্ড আছে।
  • তারপর ভেবে দেখুন আপনার এখন যে ব্যাকগ্রাউন্ড, স্কিল এবং ইন্টারেস্ট; সেটার সাথে কোন ফিল্ড মিলে যায়।
  • বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে ওই ফিল্ডগুলোর এখন পোস্ট করা জবগুলো ঘেঁটে দেখুন, বুঝার চেষ্টা করুন এ ধরণের কাজে কি কি স্কিল লাগে।
  • ঠিক করার পর এবার চেষ্টা করুন কোথা থেকে শেখা যায়, অনলাইনেই শেখা যায় ধৈর্য থাকলে। এদেশে প্রথম সারির ফ্রিল্যান্সাররা নিজে নিজেই শিখে সফল।
  • কারও কাছ থেকে পরামর্শ নেবেন এই সময়ে এসে, স্কিল্ড হওয়ার পর পরামর্শ নিন কিভাবে ফিল্ডে নামা যায়। প্রথমেই ‘ভাই, ইনকাম করার সহজ পথ বলেন’ বলে কাউকে ইরিটেট করবেন না।
  • চেষ্টা করতে থাকেন, ফেইল করলে ভুল গুলো শুধরে আবার ট্রাই করেন। যে কাজে আপনাকে এক্সেপ্ট করেনি, সে কাজ নিজেই করুন, সেম্পল প্রজেক্ট হিসেবে প্র্যাক্টিসও হবে, পোর্টফোলিও হবে।
  • ধৈর্য ধরে নিজেকে আরও স্কিল্ড বানানোর জন্যে নতুন নতুন কিছু স্টাডি করুন।

কিছু ভুল ধারণাঃ

  • ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং শেখা যায়!
  • ৫ হাজার টাকা দিয়ে ২ মাস কোর্স করলেই হাজার টাকা আয় করা যায়!
  • ট্রেইনিং সেন্টারে গেলেই সফল হওয়া যায়!
  • CAPTCHA এন্ট্রি, ফেইক লাইক, পিটিসি, BET365 এগুলো ফ্রিল্যান্সিং!
  • ফ্রিল্যান্সিং করা খুব সহজ, দিনে ২ ঘন্টা সময় দিলেই হাজার টাকা!
  • ফ্রিল্যান্সিং মানে SEO.
  • ফ্রিল্যান্সিং আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য, বিজনেস, নন-আইটি বা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছেলে মেয়েদের জন্য না।
  • ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আইটি ওরিয়েন্টেড ফিল্ডে কাজ করতে হবে।

কিছু পরামর্শঃ

  • ট্রেইনিং সেন্টার থেকে দূরে থাকুন, নিজে শেখার চেষ্টা করুন।
  • ট্রেইনিং সেন্টারে যদি যেতেই হয়, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড, ট্রেক রেকর্ড চেক করুন। প্রয়োজনে এই খাতে সফল কারও পরামর্শ নিন।
  • অল্প দিনে অনেক টাকা আয় করার কথা যারা বলে তাদের থেকে দূরে থাকুন।
  • পুরোদমে ফ্রিল্যান্সিং করবেন, তবে ৩ বছরের বেশি না, এর পর উদ্যোক্তা হবার চেষ্টা করবেন।

হয়ে যান দক্ষ ভিডিও এডিটর:

  • কোন ভিডিওকে নিজের পছন্দমত এডিট করার জন্যে অনেক মজার এবং সবচাইতে জনপ্রিয় একটা সফটওয়্যার প্রিমিয়ার প্রো।
  • প্রিমিয়ার প্রো-এর সাহায্যে ভিডিও এডিটিং শিখতে এক্ষুনি চলে যাও ১০ মিনিট স্কুলের এই প্লে-লিস্টটিতে ?

ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণঃ

ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় যে গুণটা দরকার, তা হল নিজ থেকে বুঝে নেয়ার ক্ষমতা, কাউকে জিজ্ঞাসা করার আগে নিজে সময় দিয়ে মাথা খাটিয়ে নেট ঘেঁটে শিখে নেয়ার চেষ্টা।  কারণ যে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারবে, অবশ্যই সে নিজে অনেক ব্যস্ত, তাকে ছোট খাটো সব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তাকে বিরক্ত করা ছাড়া কোন কাজ হবে না।

তবে আপনি যদি নেট ঘেঁটে কিছু শেখার-জানার দক্ষতা রাখেন, আপনি যে কোন ফিল্ড নিয়ে কাজ শুরু করে নিমিষেই সফল হতে পারবেন। সফল হওয়ার জন্য নিজে নিজে শেখার জুড়ি মেলা ভাড়।

আরো দেখুন

Leave a Comment