নোবেল পুরস্কার ‍নিয়ে ঘটনার ঘনঘটা একেবারে কম নয়

Medal of Noble Prize

নোবেল পৃরষ্কারকেই বিশ্বের সবচেয়ে নামীদামি ও কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কাঙ্খিত পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয় ভাবনা মুশকিল। আপাত দৃষ্টিতে বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হলেও এমন ঘটনাও বিশ্ববাসী দেখেছে।

শুধু তাই নয় পুরস্কার নিয়েও পুরস্কারের অর্থমূল্য নেননি এমন ঘটনাও বিরল নয়। এক কথায় নোবেল নিয়ে ঘটনার ঘনঘটা একেবারে কম নয়, যা ঘটেছে তা সত্যই অবাক করার মতো ব্যাপার।

এ পর্যন্ত দুইজন নিজের ইচ্ছায় নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করার সাহস দেখিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন জাঁ পল সার্ত্রে। পল ১৯৬৪ সালে সাহিত্য ক্যাটাগরিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। আনুষ্ঠানিক সম্মানের প্রতি অনীহা থাকায় একই বছর নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেননি ফরাসি অস্তিত্ববাদী দার্শনিক, নাট্যকার, সাহিত্যিক ও সমালোচক পল। অত্যন্ত প্রভাবশালী দার্শনিকদের মধ্যে জাঁ পল সার্ত্রে একজন।

একই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করা অপরজন ভিয়েতনামের লে ডাক থো। ১৯৭৪ সালে আমেরিকান কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে যৌথভাবে ভিয়েতনামে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্ততার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। তবে দেশে চূড়ান্তভাবে শান্তি ফিরে না আসায় নোবেল প্রত্যাখ্যান করেন লে ডাক থো।

১৯৬৯ সালে আইরিশ লেখক স্যামুয়েল বেকেটকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।এ বছর ঘটে আরেকটি ঘটনার ঘনঘটা। মজার ব্যাপার হলো স্যামুয়েল শুরুতে পুরস্কার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেও তার সহধর্মীনী বুঝাতে সক্ষম হন, আয়ারল্যান্ডের জন্য হলেও নোবলে পুরস্কার গ্রহণ করা দরকার। এতে ব্যক্তির চেয়ে দেশেরও গৌরব ও সম্মান দুটোই বাড়বে।

স্ত্রীর কথা মেনে নিয়ে স্যামুয়ের পুরস্কার গ্রহণ করলেও প্রাপ্ত অর্থ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তার মতে, ” অর্থ বৃদ্ধদের জন্য ব্যবহার করলে উত্তম হবে। যাদের বাসস্থান নেই, ঠিক মতো আহার করতে পারে না এই অর্থ তাদের।

আবার ব্যতিক্রম বিষয়ে দেখা যায় নোবলে নিয়ে। ব্যক্তি বিশেষ আগ্রহী হলেও বাধা প্রদান করেছে দেশ। তিন জন নোবেল লরিয়েট রাষ্ট্রীয় বাধার শিকার হয়েছেন। জার্মানির অ্যাডলফ হিটলারের আমলে তিন জনকে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য করা হয়। রিচার্ড কুন, এডলফ বুটেনান্ডট এবং গার্হাড ডোম্যাক এ তিন জন পরে নোবেল প্রাইজ ডিপ্লোমা ও মেডেল গ্রহণ করলেও পুরস্কারের অর্থ পাননি।

আরো দেখুন

Leave a Comment