এখনো জীবিত নিউটনের সেই আপেল গাছটি, ভিড় জমান দর্শনার্থীরা

এখনো জীবিত নিউটনের সেই আপেল গাছটি, ভিড় জমান দর্শনার্থীরা

জগত খ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন মাধ্যাকর্ষণ থিওরির জনক। মূলত আপেল গাছ থেকেই এই সূত্রটি তিনি আবিষ্কার করেছেন। বাড়ির উঠানে একটি আপেল গাছের নিচে বসা অবস্থায় ছিলেন নিউটন। ওই সময় ঐ গাছ থেকে একটি আপেল এসে নিউটনের মাথায় পড়ে।

আপেলটি নিয়ে শুরু হয় তার নানান প্রশ্ন ও কৌতুহল। আপেলটি অন্য কেন দিকে না গিয়ে নিচের দিকেই বরাবর কেন এলো। আশপাশেও তো যেতে পারতো। এমন চিন্তা থেকেই মাধ্যাকর্ষণ ধারণা পান নিউটন।

তবে মজার বিষয় হলো কালাতীত ও যুগাতীও ওই আপেল গাছটি এখনও জীবিত আছে। ১৬৬৬ সালের কালজয়ী ও ঘটনার সাক্ষী আপেল গাছটি দেখতে দর্শনার্থিরা এখনো ব্রিটেনের লিংকন শায়রের উলসথর্প মানর গ্রাম পরিদর্শনে আসেন।

পদার্থ বিজ্ঞানী নিউটনের মাথায় আপেল পড়ার বিষয়টি অষ্টাদশ শতাব্দির এক পান্ডুলিপিতে লেখা রয়েছে। লেখক উইলিয়াম স্টুকিল এটি লিখেছিলেন। নিউটনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন তিনি।

পান্ডুলিপি থেকে জানা যায়, নিউটন লেখকে বলেছিলেন আপেল গাছের নিচে গভীর চিন্তামগ্ন অবস্থায় ছিলেন নিউটন। এ সময় আপেলটি মাথার উপর পড়ায় বিষয়টি নিয়ে ভাবতে ভাবতেই বের হয় হালের মাধ্যাকর্ষ সূত্র। নিউটন এই বিষয়টি তার শিক্ষার্থীদেরও একাধিক বার বলেছেন।

ওই পান্ডুলিপির মাধ্যমে আরো জানা যায়, পদার্থবিদ আইজ্যাক নিউটন এ লেখককে নিয়ে ওই আপেল গাছের নিচে বসে চা পান করতে করতে বলেছেন, তুমি কি জানো কি তরুণ বয়সে এ গাছের নিচে বসা অবস্থায় মাধ্যাকর্ষের ধারণা পেয়েছি। লেখক নিউটনের কথাটিকে ঠাট্টা ও রসিকতা হিসেবেই নেন। তবে কথাটি নিউটন যখন তার শিক্ষার্থীদের একাধিকবার বলেন ওই সময় বুঝতে পারেন কথাটি মোটেও রসিকতা বা ঠাট্টা ছিল না। সত্যি ছিল।

নিউটনের বাড়ির উঠানের ওই গাছটির আপেলও গুণ মানে অসাধারণ। ফলটি বিরল এক প্রজাতির ছিল। ‘ফ্লাওয়ার অফ কেন্ট’ নাম ছিল। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে নানা সময়ে নিউটনের স্মৃতির জন্য আপেল গাছের চারা রোপন করা হয়। গাছটির বয়স নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি কেউ। আপেল গাছটির চার শ বছর বলে গবেষকরা ধারণা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *