দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূল্যবান যেসব স্মৃতি নিলামে উঠেছিল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূল্যবান যেসব স্মৃতি নিলামে উঠেছিল

বিশ্বের বুকে বেদনা আর রহস্যের আধার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তবে এখানেও খুঁজে পাওয়া যায় মানবতা, আবেগ, আশা, সাহস ও বীরত্বের গল্প।

যুদ্ধ শেষে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হয় যুদ্ধে ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্র যা বহন করছে যুদ্ধেরদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূল্যবান যেসব স্মৃতি নিলামে উঠেছিল স্মৃতি। পরবর্তীতে এগুলো চড়ামূল্যে নিলামে বিক্রি করা হয়।

১. চার্চিলের স্নাফবক্স-

লন্ডনে জার্মানদের ঝটিকা অভিযান চলাকালে উইন্সটন চার্চিল হাউজ অব কমন্সের দারোয়ানকে তার স্নাফবক্সটি দেন।

ছোট অলঙ্কৃত স্নাফবক্সটিতে সুগন্ধময় তামাক ছিল। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে ২৪ হাজার ডলারে নিলামে বিক্রি করে আমেরিকান বহুজাতিক কর্পোরেশন সথবি’স।

২. মুসোলিনির পদক-

বেনিতো মুসোলিনি নিজ প্রশাসনের মাধ্যমে বরখাস্ত হওয়ার পর ১৯৪৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন তার সম্পত্তিও নিয়ে নেওয়া হয়। তার সম্পদের মধ্যে ছিল তার কর্ম সাহসিকতার একটি পদকও।

যুদ্ধে পদকটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরবর্তীতে, ২০১২ সালের মার্চ মাসে নিলামদার লা গ্যালারি নুমিসম্যাটিক তা এক লাখ ২৩ হাজার ডলারে বিক্রি করে।

৩. পিটারের আর্কাইভ

স্কটল্যান্ডের রয়েল আর্মির পদাতিক প্লাটুন নেতা পিটার হোয়াইট যুদ্ধ চলাকালে দৈনিক ঘটনাগুলো ডায়েরিতে লিখে রেখেছিলেন। সেখানে লিপিবদ্ধ ছিল ১ জানুয়ারী, ১৯৩৮ থেকে থেকে ১০ আগস্ট, ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত সব ঘটনা।

ডায়েরিতে সংযুক্ত ছিল আঁকা ছবি, স্কেচ ও কয়েকটি নিউজ ক্লিপ। পরবর্তীতে, ৫০ হাজার ডলার মূল্যে এই ডায়েরির সঙ্গে আরও বিক্রি হয়েছে ৪ টি পদক, একটি কোডাক ক্যামেরা ও এই ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত সব ছবি।

৪. অ্যানা ফ্র্যাঙ্কের চিঠি-

যুদ্ধের পর উদ্ধার করা হয়েছিল অ্যানা ফ্র্যাঙ্কের স্মৃতি বহনকারী দুটি চিঠি। যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে একটি পোস্টকার্ড ও দুটি পাসপোর্ট আকারের ফটোগ্রাফও।

চিঠিগুলো যে অ্যামস্টারডামের তা অ্যানা ফ্র্যাঙ্ক সেন্টারের পরিচালক প্রমাণ করেন। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক সোয়ান অকশন গ্যালারি চিঠিগুলো এক লাখ ৬৬ হাজার ডলারে চিঠি দুটি নিলামে তোলে।

৫. হিটলারের রাইটিং ডেস্ক-

এটি সেই ডেস্ক, যেখানে অ্যাডলফ হিটলার মিউনিখ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। ডেস্কে খোদাই করা ছিল হিটলারের আদ্যক্ষর এএইচ ও এতে সংযুক্ত ছিল একটি কালির দোয়াত।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের নিলামদার আলেকজান্ডার অটোগ্রাফের নিলামে তোলা হয় এটি। বিক্রি হয় চার লাখ ২২ হাজার ডলারে।

৬. হিটলারের গাড়ি-

গাড়িটির সঙ্গে হিটলারের ঐতিহাসিক একটি ছবির মিল পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে গাড়িটি অ্যাডলফ হিটলারের।

জার্মান গাড়ি ব্যবসায়ী মাইকেল ফ্রোহলিচ হিটলারের মার্সিডিজ বেঞ্জ ৭৭০কে একজন রাশিয়ান ধনকুবেরের কাছে ১০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *