দেশে রাইড শেয়ারিং এর সম্ভাবনা

যানজটের নগরী রাজধানী ঢাকা শহরে মানুষের চলাচলের একমাত্র বাহন ছিল বাস। তবে প্রযুক্তির বদৌলতে যুগের পরিবর্তন ঘটেছে। বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনধারা। প্রযুক্তির আর্শিবাদে মানুষ অনায়াতে বিভিন্ন ধরনের রাইড শেয়ারিং সেবা নিচ্ছে। অ্যাপভিত্তিক এ সকল সেবা নগরবাসীর জীবনযাত্রা সহজ করেছে একই সঙ্গে অনেক সাশ্রয় করে দিচ্ছে সময়। সেই সেবা রাজপথ পেরিয়ে এখন অলিতে গলিতে ছড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রানসিস্কো শহরভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার ঢাকায় যাত্রা শুরু করে ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর। অতি দ্রুত এটি জনপ্রিয়তা পায়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে যেখানে মাত্র ১০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়, সেটি মাত্র ১০ মাসের মাথায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে পৌঁছে ৫ লাখে।

শুধু যাত্রীই নয়। দিনদিন বাড়তে থাকে মোটর সাইকেলের সংখ্যাও। ২০১০ সালে যেখানে মোটর সাইকেলের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১০ হাজার সেখানে এপ্রিল ২০১৮-তে তা ৫ লাখে দাঁড়ায়। শুধু ২০১৭ সালেই বিআরটিএ হতে ৭৫ হাজার ২৫১টি মোটর সাইকেল নিবন্ধিত হয়।

উবারের বিস্ময়কর সাফল্য দেখে দেশীয় অনেক প্রতিষ্ঠান এ ব্যবসা শুরু করে। গাড়ির পাশাপাশি এখন মোটরসাইকেল, সিএনজি, অ্যাম্বুলেন্স, ট্রাকসহ সব সেবাই মিলছে নানা ধরনের অ্যাপে। মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ই-ডেলিভারি কার্যক্রম শুরু করে পাঠাও নামক একটি কোম্পানি। এর দেখাদেখি আরো কোম্পানি যাত্রা শুরু করে। ছাত্র ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যে পাঠাও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কর্মসংস্থান হয় বেশ কয়েক লাখ শিক্ষিত-অশিক্ষিত মানুষের।

দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং সেবা হলো পাঠাও। এর পরেই রয়েছে উবার। এছাড়াও সহজ রাইড, ওভাই, স্যাম, ইজি রাইড, বাহন, মুভ, আমার রাইড, চলো অ্যাপে, চালাও, ট্যাক্সিওয়ালা, ওই খালি, পিকমি, লেটস গোসহ আরও কিছু কোম্পানি। আবার নারীদের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান আলাদা অ্যাপ চালু করেও সেবাটি দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে রাইড শেয়ারিং অ্যাপে যুক্ত হয় সিএনজি অটোরিক্সা। এই প্লাটফর্মটিতে এখন হাজারের বেশি সিএনজি অটোরিক্সা যুক্ত রয়েছে।

প্রথম দিকে দেশে রাইড শেয়ারিং নীতিমালা না থাকায় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। পরে সরকার রাইড শেয়ারিং নীতিমালা করে দেয়। ৮ মার্চ, ২০১৮ থেকে নীতিমালাতি কার্যকর হয়েছে।

নীতিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে দেশে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসকে আনুষ্ঠানিক আইনগত ভিত্তি প্রদান করা হলেও এর কাযক্রম ঢাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। পুরো দেশে এই সেবাটি চালু করার তাগিদ দিয়েছেন সংশিষ্ঠরা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক হুসাইন সালমান বলেন, সেবাটি রাজধানীতে যেভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তা গোটা দেশে হলে অনেকগুলো চিত্র বদলে যাবে। প্রথমত রাজধানীর উপর কর্মসংস্থানের যে চাপ তা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে। দ্বিতীয়ত নিজের এলাকায় ইসি বাইকের পরিবর্তে মোটর বাইক ক্রয় করবে। তাতে বিদ্যুতের উপর চাপ কমবে। স্মার্ট পেশা হিসেবে মনে করে এর সঙ্গে শিক্ষিতরাও জড়িত হবে।

আরো দেখুন

Leave a Comment