দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায় কার?

দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায় কার?

ইসরাত উপমা: দেশে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। তবে মার্চ থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ যেমন বেশি তীব্র, একইসাথে গুরুতর এবং মৃত্যুর সংখ্যাও প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় অনেক বেশি এমনটাই বলছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান।

করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স গবেষকরা বলছেন, সংক্রমণ যখন নিম্নমুখী হয়েছিল, তখন সবার মাঝে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। সেজন্য সব ক্ষেত্রে ঢিলেঢালাভাব থাকার কারণে এবার সংক্রমণের তীব্রতার অন্যতম কারণ।

বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত সব জায়গাতেই মানুষের বিচরণ ছিলো। যার কারণে ভাইরাস খুবই যথেচ্ছভাবে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাস যখন শরীরে আসে, তখন সে মাল্টিপ্লাই ( সংখ্যাবৃদ্ধি ) করে এবং এর মধ্যে মিউটেশনগুলো হয়। একইভাবে বিস্তারও ঘটে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সব জায়গায় ঘুরে বেড়ানোই সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মত দেন গবেষকরা

বাংলাদেশে ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভেরিয়েন্ট এসেছে। এগুলোর বিস্তার হয়েছে সব জায়গায়। সব কিছু মিলিয়েই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি য়েছে। এর বাইরেও আরও কারণ থাকতে পারে। সেগুলো চিহ্নিত করে গভীর গবেষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন গবেষকরা।

এ বিষয়ে আইইডিসিআর- এর কর্মকর্তারাও তাদের গবেষণায় একই ধরনের কারণ দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। গবেষণায় ঘাটতির কারণেও সংক্রমণ তীব্রতার কারণ বুঝতে বিলম্ব হয়েছে। গবেষণা করার মতো প্রতিষ্ঠানের অভাব, গবেষণাগুলোর উপরও সাধারণ মানুষ ও নীতি নির্ধারকরা অনেক সময় পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না ফলে নতুন যে ভেরিয়েন্ট এসেছে- এটাও দুই তিন মাস পর জানা যায়।

এদিকে, ভারতে পরিস্থিতি যে খারাপ হচ্ছে, সে ব্যাপারেও বাংলাদেশের নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বিশ্লেষকরা। ভারত ও পাকিস্তানসহ এই উপমহাদেশেই বড় আকারে একটা ঢেউ এসেছে। ভারতে সংক্রমণের ধরন নিয়ে বিশ্লেষণ করে এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মনে করেন গবেষকরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর দুই সপ্তাহের লকডাউন দেয়া হয়। জীবন ও জীবিকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার তা শিথিলও করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *