দেখতে হরিণের মতো তবে ইঁদুর, এটা আবার কী ধরনের প্রাণী !

দেখতে হরিণের মতো তবে ইঁদুর, এটা আবার কী ধরনের প্রাণী !

একটি বিলুপ্ত প্রজাতির ছোট্ট হরিণের মতো প্রাণীর দেখা মিলেছে ভিয়েতনামের উত্তর-পশ্চিম দিকের বনাঞ্চলে। দেখতে অনেকটা হরিণ এর মতো তবে ঠিক হরিণ নয়। আবার খরগোশের আকারের এ প্রাণীটিকে কিছুটা ইঁদুরের মতোও দেখায়। ছোট্ট ও অদ্ভুত প্রাণীটিকে প্রাণী বিজ্ঞানীরা ‘ইঁদুর-হরিণ’ নাম দিয়েছেন।

প্রাণী বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রায় ৩০ বছর পরপর দেখা দেয় বিরল প্রাণী ইঁদুর-হরিণ। ১৯৯০ সালে একবার দেখা যায়। এরপর ৮০ বছর অতিবাহিত হয়ে যায়। এই কয়েক যুগের মধ্যে কোনো আলোচনাতেই আসেনি প্রাণীটি। একে কেউ দেখেওনি।

‘নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভলিউশন’ সম্প্রতি এ প্রাণীকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে প্রাণীটিকে বিশেষজ্ঞরা একটি রুপালি পিঠের শেভ্রোটাইন বা মাউস ডিয়ার (ইঁদুর-হরিণ) নাম দিয়েছেন।

ইঁদুরটি অনেকটা হরিণের মতো দেখতে বলে এমন নাম। মাউস ডিয়ার প্রথম দেখা মেলে ভিয়েতনামে। ১৯১০ সালে প্রথমবার হো চি মিন সিটি থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে নেহ ট্র্যাংয়ের কাছে। তবে ১৯৯০ সালের পর এর আর দেখা মেলেনি। চোরা শিকারীদের কারণেই প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে ভিয়েতনামের দুই প্রাণী বিজ্ঞানী এই মাউস ডিয়ারের সন্ধান পান। তারা জঙ্গলের কিছু অধিবাসীদের কাছে জানতে পারেন এই ইদুর হরিণের অস্তিত্ব দেখলেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রাণীটির অস্তিত্ব প্রমাণ করতে ওই এলাকায় ৩০টি মোশান-অ্যাক্টিভ ক্যামেরা বাসানো হয়। তাতেই ধরা পড়ছে এই মাউস ডিয়ারের ছবি।

ইঁদুর হরিণ

প্রাণীটির ভিডিও ধারণ করেছেন বন কর্মকর্তারা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও ঢালাওভাবে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেছে। সামাজিক মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে ইঁদুর-হরিণ মিশ্রণের আজব প্রাণীর। ভিডিওতে দেখা যায়, বনে পড়ে থাকা শুকনো পাতার ফাঁকে খাবারের সন্ধান করছে।

ইঁদুর-হরিণ নামের এই প্রাণীর বসবাস ভিয়েতনাম ছাড়া আর কোথায় আছে কিনা তার খোঁজে নেমেছেন প্রাণিবিজ্ঞানীরা।

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রদেশ ইউনানের সংরক্ষিত বনে বিপন্ন প্রজাতির একদল মাউস ডিয়ার দেখা গেছে বলে ২০১৮ সালে চীনা গণমাধ্যমে খবর পাওয়া যায়।

এর আগে ২০১৫ সালে থাইল্যান্ডের বোর্নিও ও সুমাত্রার জঙ্গল থেকে কয়েকটি ইঁদুর-হরিণ একটি ডাচ চিড়িয়াখানায় আনা হয় বলে চীনা গণমাধ্যম ‍সূত্রে জানা যায়।

একাই বনে হাঁটছে হরিণ ইঁদুর

চীনা বন কর্মকর্তারা দাবি করেন, ওই বছরের বসন্তে একটি চীনা গবেষকদল প্রথমবারের মতো শিশংবান্নার জঙ্গলে বিপন্ন প্রজাতির খুদে এসব প্রাণীর দেখা পান। তারা উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকে এদের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেন।

চীনের চায়না পিপলস ডেইলির এক রিপোর্টে জানানো হয়, গবেষকরা আসলেই ইঁদুর-হরিণের দেখা পেয়েছিলেন সেটি নিশ্চিত হতে তাদের কয়েক মাস লেগে যায়। ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, এসব প্রাণীর আকৃতি অনেকটাই ইঁদুরের মতো এবং তাদের পায়ে খুরও আছে যা এই প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই পড়ে।

দলবেঁধে জঙ্গলে খাবার সংগ্রহ করছে

ইঁদুর-হরিণকে চীন সরকার প্রথম সারির বিপন্ন প্রাণী হিসেবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে। মূলত দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার জঙ্গলে এই খুদে প্রাণীটির দেখা মিলে। চীনে শুধু এই সংরক্ষিত বনে এদের ছোট একটি দল রয়েছে। কয়েক দশক পরপর তাদের দেখা মেলে। এদের ওজন হয় দাঁড়ায় সর্বোচ্চ প্রায় ৫ পাউন্ড (৩.৫ কেজি)।

দুর্লভ এই প্রাণীর পায়ের আকার হয় একটি পেনসিলের সমান সেই সঙ্গে খুরযুক্ত। অন্য প্রাণীর শাবকের মতোই তারা মায়ের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। তবে এরা খুবই চৌকস ও চঞ্চল প্রকৃতির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *