থাই গ্লাসের বর্ণিল ব্যবহার

থাই গ্লাস

সাদিয়া সরকার: এক সময় বসবাসের জন্য মানুষ মাটির ঘর ব্যবহার করতো। এরপর টিন ও কাঠের ঘরে বসবাস শুরু করে। তারও পরে ইট সুড়কি বা ইট সিমেন্টের তৈরি বাড়িতে বসবাস শুরু করে মানুষ।

আলো বাতাসের জন্য বসত বাড়িতে প্রথমে কাঠের তৈরি দরজা-জানালার ব্যবহার শুরু হয়। এরপর আসে স্টিলের তৈরি দরজা-জানালা। ধীরে ধীরে মানুষ সৌখিন হতে থাকে।

এর পর বাসা বাড়িতে বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দরজা ও জানালায় গ্লাসের ব্যবহার শুরু করে। আধুনিক মানুষরা আজকাল গ্লাসের টি-টেবিল থেকে শুরু করে রিসেপশন টেবিল, কনফারেন্স টেবিল, ডাইনিং টেবিল, গ্লাসের সেন্টার টেবিল এমন কি অফিসের ওয়ার্ক স্টেশন ও গা্সেলাও ব্যবহার করে থাকে।

এর মধ্যে থাই গ্লাসের ব্যবহার হালে জনপ্রিয় আনুষঙ্গিক। থাই গ্লাসের ব্যবহার এক সময় ব্যপকভাবে জানালায় ব্যবহার হলেও তা এখন শুধু জানালায় সীমাবদ্ধ নেই। ঘরের দরজা পার্টিশান থেকে শুরু করে সিঁড়িও গ্লাসের ব্যবহার হয়।

দেওয়ালের পরিবর্তে থাই গ্লাসের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। মূলত রুমের সাজসজ্জায় সহজেই পরিবর্তন করাসহ অফিস বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরণ মোতাবেক রুমের আকার সহজেই ছোট বড় করে নিজের মতো সাজানো যায়।

থাই গ্লাস

সৌন্দর্য্যরে পাশাপাশি যে কোনো সময় গ্লাসের পার্টিশান খোলা যায়। থাই আ্যালুমেনিয়াম মজবুত, দৃষ্টিনন্দন ও হালকা হওয়ায় শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এর ব্যবহার বাড়ছে।

থাই আ্যালুমেনিয়ামের ফ্রেমে বাহারী রঙের ও ধরনের গ্লাস যুক্ত হয়ে আমাদের প্রচলিত ভাষায় তা থাই গ্লাস বলে পরিচিত। উল্লেখ্য থাই আ্যালুমেনিয়াম তৈরির মূল কাঁচামাল থাইল্যান্ড থেকে আমদানী করা হয়। এবারের আয়োজন থাই গ্লাস নিয়ে।

প্রযুক্তির বদৌলতে দিন বদলের সাথে সাথে বদল হচ্ছে মানুষের চাহিদা ও রুচি। আধুনিক মানুষের বসবাসের জন্য বাসা বাড়ি ও অফিসের সৌন্দর্য্যে বিভিন্ন ধরনের গ্লাসের কাজের সংযোজন এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

এই গ্লাসের কাজের বড় একটা অংশ জুরে রয়েছে থাই আ্যালুমেনিয়াম এর ব্যবহার। থাই গ্লাসের কাজে গ্লাস, অ্যালুমেনিয়াম ফ্রেম, লক, চাকা, রাবার, ডোর ক্লোজার ও ক্ষেত্র বিশেষে সিলিকন গাম আনুষঙ্গিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

থাই গ্লাসের বহুবিদ ব্যবহার:

 দেওয়ালের পরিবর্তে থাই গ্লাস ব্যবহার হয় অহরহ
 ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাজসজ্জায় থাই গ্লাস ব্যবহৃত হয়
 কাজের সুবিধার্থে সহজে রুমের পার্টিশান পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা যায়
 ভবনের স্থায়ী কাঠামো ঠিক রেখে রুমের আকার ছোট বা বড় করা যায়
 বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শপিংমলের সৌন্দর্য্যরে বড় অংশ
 সিড়িঁতেও আজকাল টেম্পারিং করে গ্লাসের ব্যবহার করা হয়

গ্লাসের আতিঁপাতিঁ:

বসত বাড়ি, অফিস, শপিংমল কিংবা করপোরেট অফিস এর দরজা-জানালা, রুম পার্টিশান এমন কী বাইরের পার্টিশান যা কার্টেইন ওয়াল নামে পরিচিত এগুলোর কাজে গ্লাসের ব্যবহার বেড়েই চলেছে।

এসব কাজে দেশি ও বিদেশি দুই ধরনের গ্লাসই ব্যবহৃত হয়। যার সিংহ ভাগই দেশীয় প্রতিষ্ঠান নাসির গ্লাস ও পিএইচপি গ্লাস যোগান দিয়ে থাকে। এছাড়া জাপান চীনসহ অন্য দেশ থেকে গ্লাস আমদানী করা হয়।

নিচে বিভিন্ন ধরনের গ্লাসের দাম দেওয়া হলো। তবে দেশীয় কোম্পানি নাসির গ্লাস ও পিএইচপির দাম প্রায় কাছাকাছি। তাই এ দুই কোম্পানির গ্লাসের দাম নিচে ছকে দেওয়া হলো –

নাসির ও পিএইচপি কোম্পানির গ্লাসের দরদাম:

ক্রমিক নং——— পুরুত্ব———ধরণ——- দাম (প্রতি বর্গফুট)
১————- ৩ মিলি মিটার—ক্লিয়ার গ্লাস—- ৪০-৪৫ টাকা
২————- ৪ মিলি মিটার—ক্লিয়ার গ্লাস—- ৫০-৫৫ টাকা
৩ ————-৫ মিলি মিটার—ক্লিয়ার গ্লাস—- ৬৫-৭০ টাকা
৪ ————-৬ মিলি মিটার—ক্লিয়ার গ্লাস—- ৯০-৯৫ টাকা
৫ ————-৮ মিলি মিটার—ক্লিয়ার গ্লাস—- ১২০-১২৫ টাকা
৬ ————-১০ মিলি মিটার—ক্লিয়ার গ্লাস—-১৪০-১৫০ টাকা
৭ ————-১৬ মিলি মিটার—ক্লিয়ার গ্লাস—- ২১০-২২০ টাকা
৮ ————- ২০ মিলি মিটার—ক্লিয়ার গ্লাস—-২৫০-২৮০ টাকা

বর্তমানে কার্টেইন ওয়াল ও জানালায় মার্কারী গ্লাসের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। মার্কারী গ্লাসের সুবিধা হলো ভবনের ভেতর দিক হতে বাইরে দেখা গেলেও বাইরে থেকে ভেতরের কিছুই দেখা যায় না।

আমাদের দেশে বিভিন্ন রঙের মার্কারী গ্লাস পাওয়া যায়। যেমন-গ্রীণ, ব্লু, নেভী ব্লু, ওয়াশ ব্লু ও গোল্ডেন। দেশের বাজারে পুরুত্ব ভেদে তিন রকম মার্কারী গ্লাস পাওয়া যায়। যেমন- ৫ মিলি, ৫.৫ মিলি, ৬মিলি। তবে ৬ মিলি গ্লাসের ব্যবহারই বেশি।

বাজারে নাসির গ্লাস ও চীন থেকে আমদানী করা মার্কারী গ্লাসের দরদাম নিচে দেওয়া হলো-
ক্রমিক——পুরুত্ব——ধরণ———-দাম (প্রতি বর্গফুট)
১——-৬ মিলি মিটার–গ্রীণ মার্কারী—১০৪-১১০ টাকা
২——-৬ মিলি মিটার– ব্লু মার্কারী—১০৪-১১০ টাকা
৩——-৬ মিলি মিটার–নেভী ব্লু মার্কারী—১০৪-১১০ টাকা
৪——-৬ মিলি মিটার–ওয়াশ ব্লু মার্কারী—১১৫-১২০ টাকা
৫——-৬ মিলি মিটার–গোল্ডেন মার্কারী—১৫০-১৭০ টাকা

বলে রাখা ভালো, ৩ মিলি থেকে ১০ মিলি পর্যন্ত পুরুত্বের গ্লাস সাধারনত অধিকাংশ দোকানেই পাওয়া যায়। তবে ১৬ ও ২০ মিলি মিটারের গ্লাসের ব্যবহার কম হওয়ায় আগে থেকে অর্ডার করতে হয়। এছাড়া ১৬ ও ২০ মিলির গ্লাস টেম্পার ছাড়া ব্যবহার করা যায় না।

১০ মিলি টেম্পারিং গ্লাস স্টান্ডার্ড দরজার সাইজ অনুযায়ী রেডিমেট পাওয়া যায়, যা সাধারণত ৭০০০ থেকে ৯৫০০ টাকায় বিকিনিকি হয়। তবে আনুসাঙ্গিক মালামালসহ মিস্ত্রির ফিটিং চার্জ সহ ১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা এই গ্লাসের জন্য ব্যয় হয়।

সাজসজ্জার পাশাপাশি ২০ মিলির গ্লাস সিঁড়ি বানানোর কাজেও ব্যবহার হয়। তবে সেক্ষেত্রে ২০ মিলি টেম্পার গ্লাস ডাবল পেষ্টিং করে সিড়িঁর কাজে ব্যবহার করতে হয়।

এছাড়াও প্রচলিত কাজের ভাষায় কাটিং ওয়াল বা কার্টেইন ওয়াল বা ভবনের বাইরের দেয়াল যা গ্লাসের তৈরি তা বিভিন্ন কোম্পানি বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালামালসহ প্রতি বর্গফুট ৪০০ থেকে ২৪০০ পর্যন্ত নিয়ে কাজ করে থাকে।

এখানে বলে রাখা ভালো কার্টেইন ওয়াল এ সাধারণত বিভিন্ন রঙের মার্কারি গ্লাস ব্যবহার করা হয়। মার্কারী গ্লাসের মধ্যে গোল্ডেন মার্কারী গ্লাস সবচেয়ে বেশি দামে বিকিনিকি হয়। বিলাসবুহল বাড়িতে বা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির অফিস ডেকোরেশনের কাজে গ্লাসের কার্টেইন ওয়াল ব্যবহার করা হয়।

অ্যালুমেনিয়ামের ফ্রেমের বিষয়াদি:

দেশি ও বিদেশি দুই ধরনের কোম্পানির থাই অ্যালুমেনিয়ামের ফ্রেম পাওয়া যায় বাজারে। বর্তমানে বাংলাদেশের দুইটি কম্পানি স্থানীয় বাজারের চাহিদার অনেকটাই যোগান দিচ্ছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ থাই আ্যালুমেনিয়াম অন্যটি ঢাকা থাই লিমিটেড বা এ্যালকো থাই আ্যালুমেনিয়াম।

এ্যালকো থাই আ্যালুমেনিয়াম কয়েকটি ব্যান্ড-এ তাদের পন্য বাজারজাত করছে যেমন, এলকো, এলকো প্লাস, ম্যাক্স, ম্যাক্স প্রো। আর বাংলাদেশ থাই অ্যালুমেনিয়াম বিটিএ ব্যান্ড-নামে পণ্য বাজারজাত করছে। আর বিদেশি সর্বাধিক জনপ্রিয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে কাই, চুংহুয়া ও নিক্কি। বর্তমানে চুংহুয়া কেম্পানির থাই আ্যালুমেনিয়ামের দাম সবচেয়ে বেশি।

থাই এ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের রঙের হেরফের:

থাই এ্যালুমেনিয়াম

থাই গ্লাস ফিটিংয়ের জন্য গ্লাস ও ডেকরেশন এর সাথে মিল রেখে বিভিন্ন রঙের থাই অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায়। যেমন- কফি কালার, কালো কালার ও এসেস বা সিলভার কালার। ক্লিয়ার পলিশ, পাউডার কোটেড, ম্যাট অনেক ধরনের পাওয়া যায়।

মিস্ত্রি খরচসহ কম্লিট থাই অ্যালুমিনিয়াম গ্লাসের আনুমানিক দরদাম:

কাজের ধরণ
কাজের পরিমাণ
কাজের মূল্য

গ্লাস পার্টিশন প্রতি বর্গফুট ২০০-২৩০ টাকা
নেটসহ (জানালা) প্রতি বর্গফুট ২৮০-৩০০ টাকা
এল টেক নেট সহ (জানালা) প্রতি বর্গফুট ৩১০-৩২০ টাকা
কাই নেট সহ (জানালা) প্রতি বর্গফুট ৩৩০-৩৫০ টাকা
চুংহুয়া নেট সহ (জানালা) প্রতি বর্গফুট ৩৫০-৩৯০ টাকা

উপরের আনুমানিক মূল্যতালিকা ক্লিয়ার গ্লাসের জন্য তবে পার্টিশন বা জানালায় মার্কারি গ্লাস হলে উল্লেখিত টাকার সাথে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ টাকা অতিরিক্ত যোগ হবে এবং এই মূল্য ঢাকা সিটি জন্য প্রযোজ্য।

এছাড়া ঘরে যে কোন পুরাতন থাই জানালা,পার্টিসান, গ্লাস ডোর, সিলিং ইত্যাদি কাজ আলোচনার মাধ্যমে বাজার মূল্যে ঠিক হয়। কাজের মূল্য অবস্থান ভেদে পরির্বতন হতে পারে।

থাই গ্লাস ফিটিংয়ের আনুষঙ্গিক রাবার:

থাই গ্লাসের কাজে আনুষঙ্গিক হিসেবে রাবার ব্যবহার করা হয়। থাই এ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের মাঝে গ্লাস সুন্দর ও মজবুত ভাবে আটকে রাখতে রাবার ব্যবহার করা হয়। চায়না ও থাইল্যান্ড হতেই বেশিরভাগ থাই গ্লাসের রাবার আমদানী করা হয়।

থাই গ্লাস ফিটিং রাবার

বিভিন্ন ধরনের বারার বাজারে পাওয়া যায়। রঙের দিক থেকে সাদা, কালো, নীল ও সবুজ এ চার রঙের রাবার বাজারে পাওয়া যায়। ১০০ ফিটের রোল সাধারনত ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়।

মজবুত ফিটিংয়ের জন্য সিলিকন গাম:

আধুনিক অফিস মানেই গ্লাসপার্টিশন ও গ্লাস কার্টেইন ওয়াল এর বহুল ব্যবহার। আর এই থাই গ্লাসের পার্টিশনের কাজে ও কার্টেন ওয়াল ফিটিংয়ের জন্য বিভিন্ন মানের ও রঙের সিলিকন গাম ব্যবহার করা হয়।

সাধারন পার্টিশনের কাজে যে সিলিকন গাম ব্যবহৃত হয় তা ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা মূল্যে বাজারে পাওয়া যায়। তবে  কার্টেন ওয়াল ফিটিংয়ের জন্য বেশ ভালো মানের সিলিকন গাম ব্যবহার করতে হয় যা বাইরের আবহাওয়ায় ও বেশ অনেক বছর টেকশই হয়। ব্রান্ড ও মান ভেদে ২৮০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় এ সিলিকন গাম বাজারে পাওয়া যায়।

থাইয়ের কাজে লকের টুকিটাকি:

থাইয়ের গ্লাসের দরজা বা জানালা আটকে রাখতে লক বা তালা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চোর বা অনিরাপত্তা থেকে তালা ঘর বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ রাখে। থাইয়ের জানালায় সাধারনত সিঙ্গেল লক লাগানো হয় যা কেবল ভিতর দিক থেকে লাগানো থাকে।

থাই লকতবে থাইয়ের স্ট্যাডিং দরজা ডাবল লক বা দুই দিক থেকে লক লাগানো থাকে। অধিকাংশ লক ই চায়না, থাইল্যান্ড বা ভারত থেকে আমদানী করা। কোয়ারিটি ভেদে যা ৭০টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। আবার গ্লাসের টেম্পার ডোর এর লক এর দরদাম একটু বেশি। বিভিন্ন ধরনের লক রয়েছে টেম্পার ডোরের জন্য যা ৮০০ টাকা থেকে ১৫০০টাকা পর্যন্ত দামে বিকিকিনি হয়।

থাইয়ের কাজে চাকার আদ্যেপান্ত:

থাই এর দরজা-জানালা জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে খুব অল্প জায়গায় তা ¯øাইডিং করে ব্যবহার করা যায়। আর এই স্রাইডিং এর জন্য অন্তত্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ চাকা। জানালা বা পার্টিসান এক দিক থেকে আরেক দিকে সরাতে হয় চাকার সাহায্যে। বাজারে রেগুলার, গেটন ও ডাবল এ তিন ধরনের চাকা পাওয়া যায়।

রেগুলার লক:

পাল্লার ওজনের হিসেবে মিস্ত্রিরা চাকা নির্বাচন করেন। সাভাবিক ওজনের পাল্লায় বা ছোট জানালার জন্য রেগুলার বা স্বাভাবিক চাকা ব্যবহৃত হয়। রেগুলার চাকা ৩০-৩৫ টাকা বিক্রি হয়।

গেটন লক:

মাঝারি সাইজের পার্টিশান রুমের ভেতর গেটন চাকা ব্যবহৃত হয়। গেটন চাকা সাধারণ ৪৫-৬০ টাকায় বাজারে বিক্রি হয়।

ডাবল লক:

ডাবল চাকার স্থায়ীত্ব রেগুলার ও গেটনের চেয়ে অনেক বেশি হয়। স্থায়ীত্ব বেশি হওয়ার কারণে এই চাকার দামও অনেক বেশি। ডাবল চাকার দাম ৮০-৯৫ টাকা। তবে বিদেশি কিছু চাকার ১০০-১১০ টাকা বিক্রি হয়। নিচে ছকের মাধ্যমে চাকার দাম দেওয়া হলো-

বিভিন্ন রকম চাকার দাম:

ক্রমিক নং—–চাকার নাম—–দাম
১———রেগুলার লক–৩০-৩৫ টাকা
২——–গেটন লক—–৪৫-৬০ টাকা
৩——–ডাবল লক—–৮০-৯৫ টাকা

থাই গ্লাস

এছাড়াও হ্যাংগিং ডোর বা ঝুলন্ত স্ট্যাডিং থাই পাল্লায় বেশ মজবুত চাকা ব্যবহার করতে হয়। গুগতমান ও কোম্পানি ভেদে যা ১৩০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে আমাদের দেশেই উন্নত মানের চাকা তৈরি হয়। এদের মধ্যে বেঙ্গল কোম্পানি অন্যতম। গুণে ও মানে বিদেশি চাকার মতোই বেঙ্গলের চাকা।

যে কারণে কাঠের বদলে থাই গ্লাসের জানালা ব্যবহার করা হয়:

১. ঘরে এসি লাগাতে পারবেন
২.ঘরে তাপমাত্র কম থাকবে
৩. গ্লাসের কারণে ঘরে বেশি রোদেও তাপ প্রবেশ করতে পারে না
৪.ঘরের লোকজন কি করছে তা বাহির থেকে দেখতে পারবে না
৫.এই জানালা লাগালে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
কাঠের জানালা থাই এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এছাড়া থাই গ্লাসের জানালার বাইরের দিকে পাতলা সাদা নেট লাগানোর সুবিধা হলো যদিও একটু খরচ বেশি পরে তবে জানালাটি নিরাপদ থাকে।

প্রাপ্তিস্থান:

দেশের প্রায় সব স্থানেই থাই গ্লাস ও এর আনুষঙ্গিক পাওয়া যায়। ঢাকার মধ্যে মহাখালী, খিলগাঁও,ফার্মগেট, হাতিরপুল ও রামপুরায় থাই গ্লাস ও এর আনুষঙ্গিক পাওয়া যায়।

আরো দেখুন

Leave a Comment