ঢাকার জলাবদ্ধতা ও নাগরিক দায়বদ্ধতা

ঢাকার জলাবদ্ধতা ও নাগরিক দায়বদ্ধতা

সাদি সালমান: বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হওয়া কালশী খাল দীর্ঘদিন ছিল স্রোতহীন। সামান্য বৃষ্টিতেই এ খালটির দুই পারে সৃষ্টি হয় মারাত্মক জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা কেন হয় তা কি আমরা কখনো ভেবেছি?

সম্প্রতি মিরপুরের কালশী আর গোদাগাড়ী খাল থেকে ২০০ ট্রাক কেবল ডাবের খোসাই তোলা হয়েছিল। এর বাইরে শতাধিক জাজিম/তোষক, সোফা সেট, ভাঙ্গা কমোডের অংশবিশেষ, টেলিভিশন, ভাঙ্গা ফ্রিজসহ,আরো অসংখ্য জিনিসপত্রও উদ্ধার করা হয়েছিল।

প্রতি বছর বর্ষায় বৃষ্টিতে দেশের বড় নগরীগুলো যখন তলিয়ে যায় তখন আমরা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপর সব দোষ চাপিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করি।

অথচ বাকি বছর জুড়ে যদি নিজেদের নাগরিক দায়িত্বগুলো পালন করতাম তাহলে কি এই জলাবদ্ধতা হতো?

যদি পানি নিষ্কাশনের খাল আর বড় ড্রেনে জিনিসপত্র না ফেলতাম দূষণে আর দখলে জলাধারগুলো ভরাট না করতাম, অবৈধভাবে ভরাটের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ঠেকাতে পারতাম।

তাহলে কি প্রতি বছর আমাদের শহরের রাস্তাগুলো নদী হয়ে যেত?

বিশেষ পরিকল্পনায় কমেছে জলাবদ্ধতা:

একটু বৃষ্টি হলেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে জমে যায় হাঁটু পানি। এই অভিযোগ অনেক পুরানো। গত এক দশক ধরে এ নিয়ে রাজধানীতে জনদুর্ভোগের সীমা নেই।

তবে দুই সিটি করপোরেশনের গৃহীত কিছু উদ্যোগ এবারের মৌসুমে ভোগান্তি কমাবে বলে দাবি করছিলেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও দুই মেয়র। তারই প্রতিফলন ঘটেছে জুনের প্রথম সপ্তাহের ভারী বর্ষণে।

ঢাকার রাজপথে জলাবদ্ধতা

বিগত বছরগুলোতে যেখানে ৫০ মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টি হলেই ডুবে যেত রাজধানী, সেখানে এ বছর মৌসুমের শুরুতেই ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হলেও তেমনটা ডুবেনি।

সিটি করপোরেশন বলছে, ওয়াসা থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর দুই সিটির নিজস্ব অর্থায়নেই খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। এ কাজে দুই সিটির প্রায় দুইশ’ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

খালগুলো থেকে প্রায় কয়েক লাখ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। যার কারণে উন্নতি হয়েছে রাজধানী বাসীর ভোগান্তির। জলাবদ্ধতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

জানা যায়, গত কয়েক বছরে ঢাকার শান্তিনগর এলাকা ছিল জলাবদ্ধতার মূল কেন্দ্র। কিন্তু এবার বর্ষায় তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। আশপাশের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা হলেও শান্তিনগরে তেমনটা হয়নি।

জলাবদ্ধপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়ে শঙ্কা থাকলেও ৫ জুনের ভারী বর্ষণের কিছুক্ষণ পরই মিরপুর ১০, সাংবাদিক কলোনি, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পূর্ব মনিপুর, দক্ষিণ মনিপুর, ধানমন্ডি ২৭ এলাকা থেকে আধাঘণ্টার কম সময়ে পানি নেমে যেতে দেখা যায়।

পানি জমলেও জলাবদ্ধতা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতেও এসব এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা ছিল। এই সমস্যা নিরসনে এলাকাভিত্তিক ছোট ছোট পরিকল্পনা বস্তবায়ন করছে সিটি করপোরেশন।

যদিও নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলাকাভিত্তিক নয়, বরং সমন্বিত ও দীর্ঘ মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই এই ‘অভিশাপ’ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যাবে।

চরম অসচেতনতা আর অপরিণামদর্শীতায় নিজেদের জন্য কুয়ো আমরা নিজেরাই খুঁড়ি। এরপর সব দায় জনপ্রতিনিধিদের উপর চাপিয়ে দিই?

তাই আসুন নাগরিক কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করি। জলাবদ্ধতা মুক্ত নগরী গড়তে ভূমিকা রাখি। এতে সকলের জন্যই মঙ্গল হবে। জলাবদ্ধতা মুক্ত হবো রাজধানী ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *