ট্রাম্পকে ডিভোর্স দেয়ার অপেক্ষায় ফার্স্ট লেডি!

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের সাথে বনিবনা হচ্ছিল না ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার। বনিবনা না হওয়ার কারণে নিউইয়র্ক থেকে প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসে যেতে কালক্ষেপণ করেন ট্রাম্পের তৃতীয় স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প।

মার্কিন নির্বাচনে হেরে এমনিতেই মন ভালো নেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এরই মধ্যে শোনা গেল তার বৈবাহিক জীবন নিয়ে চরম হতাশাজনক এক খবর। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল জানাচ্ছে, ট্রাম্পকে তালাক দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন মেলানিয়া।

 

এর আগে ২০১৬ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প। এমন একটা কথা সে সময় বেশ জোরেশোরেই শোনা গেছে। ট্রাম্প নির্বাচনে জিততে পারেন- এটা ছিল মেলানিয়ার কাছে অভাবনীয়।

মুখ খুললেন তিন দিন:

অন্যদিকে ট্রাম্পের হেরে যাওয়ার তিনদিন পর মুখ খোলেন মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। স্বামী ট্রাম্পকে পরাজয় মেনে নেয়ার আহ্বান জানান মেলানিয়া।

হোয়াইট হাউস থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিটি মুহূর্ত অপেক্ষা করছেন মেলানিয়া। তারপরই ট্রাম্পকে তালাক দেবেন বলে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ বেরিয়েছে। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ট্রাম্পকে তালাক দিলে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।

রাষ্ট্রযন্ত্রের কলকাঠি নাড়ার শঙ্কা:

মার্কিন রাষ্ট্রযন্ত্রের কলকাঠি নেড়ে মেলানিয়াকে শাস্তি এবং শিক্ষা দেয়ার পথ হয়তো বের করতে পারেন ট্রাম্প এমন আশঙ্কা করছেন মেলানিয়া। তাই হোয়াইট হাউস থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী ওমারোসা ম্যানিগোল্ট নিউম্যান।

‘ট্রাম্প-মেলানিয়া দম্পতির ১৫ বছরের বৈবাহিক জীবন কার্যত শেষ হয়ে গেছে।’ এমন দাবি করেন ওমারোসা। এর পিছনে তিনিই যথেষ্ট কারণ দেখেছেন বলে তার দাবির সঠিক যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি।

সম্পর্ক বাণিজ্যিক ভিত্তিক লেনদেন:

এদিকে আরেক সাবেক সহযোগী স্টেফাইন ওকঅফ বলেন, হোয়াইট হাউসে শোবার ঘরে ট্রাম্প দম্পতি থাকেন। তাদের দাম্পত্য জীবনকে ‘এক ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেনভিত্তিক’ সম্পর্ক হিসেবেও অভিহিত করেন ওকঅফ।

ফ্লাশব্যাক:

২০১৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের দিনটিতে হোয়াইট হাউসে পৌঁছে মেলানিয়াকে পেছনে ফেলে ট্রাম্পের হনহন করে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য হয়তো কেউ ভোলেননি। সে সময় অপ্রস্তুত মেলানিয়াকে স্বাগত জানিয়ে হোয়াইট হাউসে নিয়ে ঢুকেছিলেন বারাক ওবামা।

এ ছাড়া নিউইয়র্ক থেকে হোয়াইট হাউসে এসে উঠতে পাঁচ মাস সময় নিয়েছিলেন মেলানিয়া। প্রকাশ্যে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প এবং মেলানিয়ার ছেলে ব্যারনের স্কুল শেষ করতে এ সময় লেগেছে।

কিন্তু ওকঅফ বলেন, আসলে সে সময় দর-কষাকষি করেছেন মেলানিয়া। বিয়ে ভেঙে গেলেও ব্যারন যেন ট্রাম্পের সম্পদের সমান অধিকার পায়, তাই নিয়ে চুক্তি করেছেন তিনি।

তাই চুপ হয়ে গেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী মেপেলেস:

ট্রাম্পের দুর্বলতা তুলে ধরে অথবা সমালোচনা করে কোনো স্মৃতিকথা লিখতে কিংবা সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না। ট্রাম্প এমনই এক চুক্তি করেছিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী মারালা মেপেলসের সঙ্গে। মেপেলেস তাই চুপ হয়ে গেছেন।

যে পথে হাঁটছেন মেলানিয়া:

এদিকে মার্কিন আইনজীবী ক্রিস্টিনা প্রিভাইট জানান, ট্রাম্প দ্বিতীয় স্ত্রী মেপেলসের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিলেন তার মতই এমনই এক চুক্তির পথে হয়তো হাঁটতে পারেন মেলানিয়া।

সবকিছু নির্ভর করছে মেলানিয়া ট্রাম্পের মানসিকতার ওপর।এখন সময়ই বলে দেবে ট্রাম্পকে ছেড়ে আসলেই মেলানিয়া আলাদা চলে যাবেন নাকি তিনি ট্রাম্পের সাথে জীবন যাপন করবেন।

তোয়াক্কা করছেন না স্ত্রী ও মেয়ে জামাতাকে:

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা ছাড়ার জন্য প্রস্তুত পুরো আমেরিকার প্রশাসন তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতো সহজেই মেনে নিতে পারছে না তার পরাজয়। তাই তিনি আইনের আশ্রয় নিতে যাচ্ছেন।

পরাজয়ের তিনদিন পর তাকে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ও প্রথম সংসারের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প এর জামাতা ঝর্নার পরাজয় মেনে নেয়ার জন্য তার শ্বশুর প্রেসিডেন্টকে তাগিদ দিয়েছেন তবে তাদের কথা মতো পরাজয় মেনে আমেরিকার রীতি অনুযায়ী এখনো জো বাইডেন কে স্বাগত জানান নি ট্রাম্প।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল, নিউইয়র্ক টাইম, এনবিসি নিউজ

লেখক: হুমাইরা জাহান সাদিয়া

 

 

আরো দেখুন

Leave a Comment