জিডি ও এফআইআরের মধ্যে পার্থক্য কী?

জিডি ও এফআইআরের মধ্যে পার্থক্য কী?

বাংলাদেশসহ আশেপাশের সব দেশে আইনের দুটি ভাষা হচ্ছে জিডি ও এফআইআর। আইনের এই ভাষাটি বহুল পরিচিত। তবে অনেকে জিডি ও এফআইআরকে এক করে ফেলে।

আজকে আমরা জানবো এ দুটি আইনের ভাষার মধ্যে পার্থক্য কী?

জিডি ইংরেজি শব্দ যার পুরো নাম হচ্ছে জেনারেল ডায়রি বা সাধারণ ডায়রি ও এফআইআর -ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট বা এজাহার। এ দুটি বিষয় নিয়ে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। চলুন আইনের এই দুইটি ভাষার পার্থক্য কি জেনে নিই।

জিডি ও এফআইআর সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকায় অনেকে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। জিডি ও এজাহার আলাদা বিষয়। জিডি হচ্ছে কোন বিষয় সম্পর্কে থানায় জানানো আর এজাহার হচ্ছে মামলা করার প্রথম ধাপ।

অপরাধমূলক কোনো কিছু ঘটার পর সে বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার জন্য থানায় যে সংবাদ দেওয়া বা জানানো হয়, তাকে এজাহার বা এফআইআর বলে। প্রকৃতপক্ষে, এজাহারের মাধ্যমে থানায় মামলা করা হয়।

অন্যদিকে কোনো ব্যক্তি যখন নিজের জীবন কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তার অভাববোধ করেন সেক্ষেত্রে থানায় জিডি করা যায়। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে আদালত এই জিডি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করবে।

এছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যেমন পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, চেকবই, লাইসেন্স, শিক্ষাসংক্রান্ত সনদ, দলিল ইত্যাদি হারিয়ে গেলে জিডি করতে হয়।

অপরাধমূলক কোনো কিছু ঘটার পর সে বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার জন্য থানায় যে সংবাদ দেওয়া বা জানানো হয়, তাকে এজাহার বা এফআইআর বলে। এজাহারের মাধ্যমে থানায় মামলা করা হয়। অর্থাৎ মামলার প্রথম ধাপ হলো এজাহার।

এজাহার মৌখিক এবং লিখিত উভয়ই হতে পারে। মৌখিকভাবে এজাহার দেওয়া হলেও সেটি লেখার পর এজাহারকারীর স্বাক্ষর বা টিপ সই নিতে হবে। লেখার পর দায়িত্বরত কর্মকর্তা এজাহারকারীকে পড়ে শুনানোর পর নির্ধারিত ফরম অনুসারে রক্ষিত একটি বইতে লিপিবদ্ধ করবেন।

এজাহারকে মূলত কোনো মৌলিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে এজাহারের যথেষ্ট মূল্য আছে।

জিডি প্রকৃতিগতভাবে এবং আইনগতভাবে দুই ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণ জিডি যা কোনো অপরাধের বিষয়বস্তু সংক্রান্ত হয়ে থাকে; আর বিশেষ জিডি যেটি সাধারণত আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে হয়ে থাকে।

যেমন কোনো সনদ, দলিল, মোবাইল, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে গেলে করা হয়ে থাকে।

পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল ১৯৪৩ এর ৩৭৭ প্রবিধান এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ এবং ১৫৫ ধারায় জিডি তথা সাধারণ ডায়রির বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নিরাপত্তার অভাববোধ করলে মূলত থানায় গিয়ে জিডির মাধ্যমে বিষয়টি থানাকে অবহিত করা হয়।

আর এজাহারের ক্ষেত্রে পিআরবি বা পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল ১৯৪৩ এর ২৪৩ প্রবিধান এবং ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় এজাহারের বিষয়বস্তু গুলো অনুসরণ করা হয়। এজাহার হলো জিআর মামলার মূলভিত্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *