২০২০ সালে জাপানের সর্বনিম্ন শিশুর জন্মের হার।

তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ হয়েও শিশুর জন্মহার বাড়াতে প্রাণপণ চেষ্টা করেও সফল হতে পারছে না জাপান।

সূর্যোদয়ের এই দেশটিতে কয়েক বছর পর পর সামান্য পরিমাণ বাড়লেও আবার কয়েক বছর পরেই রেকর্ডসংখ্যক কমে যায় নবজাতক শিশুর জন্মহার।

১২০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ২০২০ সালে জাপানের সবচেয়ে কম শিশু জন্মগ্রহণ করার শঙ্কা রয়েছে বলে সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি জাপানের ইংরেজি সংবাদ মাধ্যম কায়দো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর আশঙ্কা করা হচ্ছে নতুন শিশুর সংখ্যা ৮,৪৫,০০০ কমে যাবে যা সরকারি হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে কম।

বিয়ে করতে দেরি করা। Journals Monitorএর আগে ২০১৯ সালে জাপানে ৮,৬৫,২৩৯ জন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে যা ১২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম নবজাতক শিশুর জন্ম গ্রহণের রেকর্ড ছিল।

২০২০ সালে ২০১৯ সালের রেকর্ড ভেঙে আরো কম শিশু জন্মগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে দেশটির সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই শিশু জন্ম গ্রহণের তথ্য প্রকাশ করবে যা পঞ্চম বারের মতো সবচেয়ে কম শিশু জন্মগ্রহণ।

জাপানের স্বাস্থ্য শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো জাপানে ১ মিলিয়ন শিশু জন্মগ্রহণ করে। নবজাতক শিশুর কম জন্মগ্রহণ করার মূল কারণ হচ্ছে জাপানে অনেকে অবিবাহিত থেকে যাচ্ছে অথবা বিলম্বে বিয়ে করছে।

জাপানে শিশুর জন্মহার বাড়াতে সরকার কাজ করছে এরই অংশ হিসেবে আসন্ন বছরগুলোতে জাতীয় পেনশন, মেডিকেল ও নার্সিং কেয়ার পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে জাপানের সরকার।

অর্থনৈতিক মন্দার কারণে প্রতিনিয়ত জাপানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এর মূল কারণ হচ্ছে করোনা মহামারী। আগামী বছর নতুন জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা আরও কমে যাবে বলেও ধারণা করছে সরকার।

জাপান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও দেশটির নাগরিকদের মধ্যে সময় মতো বিয়ে করা ও সন্তান গ্রহণে আগ্রহ কম দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে দেশটিতে জীবনযাপন করা খুবই ব্যয়বহুল।

মৌলিক খরচ মেটানোর পরে অতিরিক্ত খরচ জুগিয়ে বিয়ে করা জাপানিদের পক্ষে অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে উঠে না অথবা যেহেতু জীবন নিজের মতো পরিচালনা করতে হয় তাই অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হতে অনেক দেরি হয়।

তাই বিবাহ করতে দেরি হয় আর তাতে সন্তান জন্ম দিতে তারা অক্ষম হয় এই কারণেই জাপানে দিনদিন নবজাতক শিশুর জন্মহার কমে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: কায়দো নিউজ ও জাপান টাইমস

আরো দেখুন

Leave a Comment