জাপানে রফতানি হচ্ছে ওলকচুর চিপস, অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা

Chips of crunchy

দেশে এতদিন ওলকচুর প্রচুর উৎপাদন হলেও তেমন রফতানি হয়নি। এছাড়া দেশেও কৃষি এই পণ্যটির চাহিদাও তেমন নেই। জাপানে রফতানির মাধ্যমে এ পণ্যটির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জাপানের পাশাপাশি অন্য দেশেও পণ্যটির বাজারজাত করতে পারলে দেশের রফতানিতে নতুন মাইলফলক তৈরি করবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

দেশে উৎপাদিত এক টন ওলকচুর তৈরিকৃত চিপস প্রথম ২০১৮ সালে জাপানে রফতানি করা হয়। ওলকচুর মান ভালো হওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ জুন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দ্বিতীয়বার জাপানে আরো এক টন এ চিপস রফতানি করা হয়।

জাপানের ওসাকায় অবস্থিত এশিয়া পার্টনারশিপ কোম্পানি লিমিটেডের কাছে চিপসগুলো রফতানি করে ঢাকার সিএনএফ এজেন্ট দাই ইচি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি রফতারিকারক কোম্পানি।

জানা যায়, জাপানিদের কাছে এ খাদ্যপণ্যটি বেশ জনপ্রিয়। পরপর দুই বছর জাপানের ওসাকায় ওলকচুর তৈরিকৃত চিপস রফতানিতে জনপ্রিয়তা বেড়েছে পণ্যটির।

চলতি অর্থবছরে তারা আরো বেশি ওলকচুর চিপস নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানের বিভিন্ন কোম্পানি। এছাড়া ওল কচুর চিপসের চাহিদা এশিয়া ও ইউরোপসহ বিশ্বের আরো অনেক দেশে রয়েছে।

দাই ইচি ইন্টারন্যাশনাল পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ওলকচু সংগ্রহের পর ঢাকায় এ চিপস তৈরি করে পরে রফতানি করে। পরিপক্ব ওলকচু পরিষ্কার করে খোসা ছাড়ানোর পর পাতলা করে কেটে গরম বাতাসে শুকিয়ে তারপার তৈরি করা হয় পুষ্টিমান চিপস।

প্রতি পাঁচ কেজি কাঁচা ওলকচু থেকে এক কেজি পরিমাণে কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। বাংলাদেশ থেকে যে ওলকচুর চিপস রফতানি করা হচ্ছে, তার কেজিপ্রতি দাম পড়ছে ৩ মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৫০ টাকা।

জাপানে উৎপাদিত ওলকচু চিপস দেশটিতে বিকিনিকি হয় ৪-৫ মার্কিন ডলার। ভালো মান ও তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় সূর্যদয়ের দেশ জাপানের ব্যবসায়িকরা বাংলাদেশ থেকে আরো অধিক পরিমাণে ওল কচুর চিপস নিতে উদ্গীব হয়ে আছেন।

ওলকচু বানানো খাবারে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, লিপিড, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, কপার, জিংক, ফ্যাটি। এছাড়াও ফলিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস হচ্ছে বাংলাদেশে অজনপ্রিয় ওল কচুতে।

তাছাড়া ওলকচু কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি ও ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।

জাপানে ওল কচু চাষ হয় সুমদ্রপৃষ্ঠ থেকে হাজার ফুট উচুতে। সেই জাতটি ওভাল আকৃতির। আর আমাদের দেশে উৎপাদিত ওল কচুতে ৯৭ ভাগ জল ও ৩ ভাগ আঠালো পদার্থ থাকে।

জাপানিরা ঐতিহ্যগতভাবে ওল কচু খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে আসছে প্রায় ৫০০ বছর ধরে। দেশটির লোকেরা ওলকচু-জাতীয় খাদ্য মানব দেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পুষ্টিমানে ব্যবহার করছে অহরহ।

আরো দেখুন

Leave a Comment