জাপানের ঐতিহ্যবাহী সাপ্পোরো স্নো ফেস্টিভাল

জাপানের ঐতিহ্যবাহী সাপ্পোরো স্নো ফেস্টিভাল

শীতকাল এলেই ঘুরতে পছন্দ করেন বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ জাপানের নাগরিকরা।একই অভ্যাস রয়েছেন তাদের প্রতিবেশী দেশ চীনের নাগরিকদেরও।

অধিকাংশ চীনা নাগরিকের আশেপাশের দেশ সহ অন্যান্য দেশে শীতকালে ঘুরতে বের হন। চীনাদের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের ভ্রমণ হচ্ছে সাপ্পোরো স্নো ফেস্টিভাল।

জাপানের শীতকালীন ইভেন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান বার্ষিক উৎসব হলো সাপ্পোরো স্নো ফেস্টিভাল। জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ হোকাইডোতে বার্ষিক এ সাপ্পোরো স্নো ফেস্টিভালটির আয়োজন করা হয় প্রতি বছরের জানুয়ারি- ফ্রেব্রুয়ারির মধ্যে।

জাপানে ১৯৫০ সালে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটির আয়োজন করা হয়। উৎসবটির শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে আয়োজকরা।

সাপ্পোরো স্নো ফেস্টিভাল এর আয়োজকদের বরাত দিয়ে জাপানের একাধিক গণমাধ্যমক ঐতিহ্যবাহী শীতকালীন উৎসবটির আয়োজন বাতিল করার সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাতে মন ভেঙ্গে গেছে ভ্রমণ পিপাসুদের।

হোকাইডো নগরীর কেন্দ্রস্থলে তুষার ও বরফের মূর্তিগুলোর বৈশিষ্ট্যযুক্ত আয়োজনের পরিবর্তে এই ইভেন্ট সম্পর্কিত ঐতিহাসিক তথ্য ও শহরের শীতকালীন সৌন্দয্যের দিকে মনোনিবেশ করবে তারা।

এছাড়া আরো আয়োজকরা জানিয়েছেন, ক্রিসমাস লাইট দিয়ে বুলেভার্ডটি দীর্ঘ সময়ের জন্য আলোকিত করা হবে। তুষারের পরিবর্তে নগরীরর কেন্দ্রস্থলে আলোক সজ্জিত করা লজ্জাজনক, তবে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এই আয়োজন উদযাপন করতে সাধারণত প্রতি বছর প্রায় ২ মিলিয়ন দেশী ও বিদেশী দর্শনার্থীর আগমন ঘটে এখানে। আর এ উৎসব ঘিরে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ৬২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লেনদেন হয়।

উৎসবে প্রায়শই বড় আকারের তুষার ও ভাস্কায সাজানো হয়। যার উচ্চতা প্রায় ১৫ মিটার। এর মধ্য দিয়ে জাপানের গ্রাউন্ড সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য ও অন্য বিখ্যাত চরিত্রগুলোকে প্রকাশ করা হয় ।

এর বাইরে বিদেশী স্থাপত্য নিদর্শনও তৈরি করা হয় শীতকালীন এ আয়োজনে তবে করোনার কারণে তা এ বছর দেখতে পারবে না দর্শনার্থীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত পড়েছে।

যদিও চলতি বছর ফেব্রুয়ারির ৪-১১ তারিখে এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তবে করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে চীনের সরকার বিদেশে গ্রুপ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর দর্শনার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

গত বছর (২০১৯ সালে) প্রায় ২২ লাখ দর্শনার্থী সাপ্পোরো স্নো ফেস্টিভালে এসেছিল আর ২০২০ সালে এর সংখ্যা ৭ লাখের কিছু বেশি। যা ২০১৯ সালের তুলনায় অনেক কম। আর ২০২১ সালে এই ঐতিহ্যবাহী ফেস্টিভালটির আয়োজন বাতিল করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: কায়দো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *