রাজপথের সেই ছাত্রলীগ নেতারা কে কী করছেন

ছাত্রলীগ সাবেক নেতারা

আরাবি ফেরদৌসী: দেখতে দেখতে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এ ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন মোদ্দা কথা বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।

তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রভাষা উর্দুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেই সেদিন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রলীগের যাত্রা শুরু হয়। জাতির পিতা এই সংগঠন নিয়ে বলেছিলেন, `ছাত্রলীগের ইতিহাসই বাঙালির ইতিহাস।`

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ছাত্রলীগের পথচলা শুরু হয় ইতিহাসের এমন এক সন্ধিক্ষণে যখন দ্বিজাতি-তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয় বিশ্ব মানচিত্রে।`শিক্ষা,  শান্তি, প্রগতি` নীতি নিয়ে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, `৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, `৬৬-এর ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন, `৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, `৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, `৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং `৯৬-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ সব প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। অনেক চড়াই উৎরাই এর মধ্যে দিয়ে সাত দশক অতিক্রম করেছে।

দীর্ঘ বছরের এই পথচলায় অসংখ্য নেতা- কর্মী- সমর্থক- শুভাকাঙ্খী যোগ হয়েছে এই মিছিলে। এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় সংগঠনের যারা হাল ধরেছেন, অনেকেই এখন আর রাজনীতির সঙ্গে নেই। অনেকেই আবার দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বমহিমায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী। স্বাধীনতার পর নানা মান অভিমান নিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। নূরে আলম সিদ্দিকী বর্তমানে রাজনীতির মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের লোগো

নূরে আলম সিদ্দিকীর সময়ে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাজাহান সিরাজ। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ছাত্রলীগে ভাঙন দেখা দেয়। ‘মুজিববাদী’ হিসেবে পরচিতি অংশ নিয়ে থেকে যান নূরে আলম সিদ্দিকী। আর শাজাহান সিরাজের অংশটি ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী’পন্থী হিসেবে পরিচিত হয়। এই অংশটি পরবর্তী সময়ে জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগ নামে আত্মপ্রকাশ করে।

শাজাহান সিরাজ জাসদের টিকিট নিয়ে তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর যোগ দেন বিএনপিতে। অষ্টম সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দল ও রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রীয় রয়েছেন তিনি।

১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির পদে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ শহীদুল ইসলাম। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে এরশাদ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। আর বর্তমানে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পদে আছেন।

শেখ শহীদুল ইসলামের সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এম এ রশিদ। বর্তমানে তিনি সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে জড়িত।

১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মনিরুল হক চৌধুরী। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মনিরুল হক চৌধুরীর সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিউল আলম প্রধান। হত্যা মামলা মাথায় নিয়ে তিনি পদ ও দল থেকে বহিষ্কার হন। বিএনপি জোটের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সভাপতি থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি।

নানক
সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানক

১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে দায়িত্বে ছিলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একই সাথে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ওবায়দুল কাদেরের সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বাহালুল মজনুন চুন্নু সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে নেই। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচনে আওয়ামী প্যানেলের নির্বাচনী দেখভালের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন।

১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি হন ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তিনি ২০০৮ সালে ঢাকা-৭ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এমবিবিএস সম্পন্ন করা মোস্তফা জামাল চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ নিয়েই বর্তমানে ব্যস্ত থাকেন।

১৯৮৭ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, ১৯৯২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন। ১৯৮৮, ১৯৯৭ ও ১৯৯৯ সালে বিএমএর নির্বাচিত মহাসচিব ছিলেন। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ)। সর্বশেষ ২০২০ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য মনোনীত হন।

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সময়ে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই। বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল মান্নান। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় সারিয়াকান্দি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই ছাত্রনেতা বর্তমানে একজন কৃষিবিদ হিসেবে পরিচিত।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন

মান্নানের মেয়াদকালে সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নবম সংসদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও দশম সংসদে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি। সর্বশেষ ২০২০ সালে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত হন।

১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধের পর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে তিনিই প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন। এর আগে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচনে গণফোরাম থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের সময়ে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা আব্দুর রহমান নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০২০ সালে আওয়ামী লীগের আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত হন। রাজনীতিতে সক্রিয়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন ফরিদপুরের এ নেতা।

১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন হাবিবুর রহমান হাবিব। পরে ছাত্রলীগের রাজনীতি ছেড়ে যোগ দেন বিএনপিতে। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতিতে সক্রিয়তার পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন টকতে অংশ গ্রহণ করছেন। সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলার জন্য তিনি গণমাধ্যমে সরব রয়েছেন।

হাবিবুর রহমান হাবিবের সময়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অসীম কুমার উকিল। নেত্রকোণা-৩ আসন থেকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এক সময়ের ছাত্রলীগ সভাপতি বর্তমানে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব

অসীম কুমার উকিল রাজনীতিতে সক্রিয় ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে অসীম কুমার উকিলের উত্থান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ছিলেন।বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক।

তাছাড়া তার স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা অপু উকিল বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বে থাকা মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী বর্তমানে অনেকটাই রাজনীতি থেকে নীরব রয়েছেন। নেই আওয়ামী লীগের কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদেও।

মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী সময়ে ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইকবালুর রহিম। দশম সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর সদর থেকে সংসদ সদস্য হয়ে বর্তমান সংসদের হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন।

তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। তার বাবা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এনায়েতুর রহিম তার বড় ভাই। শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেত্রী থাকা অবস্থায় দিনাজপুর এলাকায় দলীয় কাজে গেলে তাদের বাসায় উঠতেন।

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এ কে এম এনামুল হক শামীম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এই ছাত্রনেতা বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শামীম ১৯৯৪-১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এর সভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। শামীম বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক মামলায় তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২২ শরীয়তপুর-২ আসন হতে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

শামীমের সভাপতি থাকাকালীন সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন ইসহাক আলী পান্না। একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন তিনি।

১৯৯৮ থেকে ২০০২ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে ছিলেন বাহাদুর বেপারি। তিনি পাওয়ার প্ল্যান্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া একজন টকশো ব্যক্তিত্ব হিসেবে রয়েছে তার পরিচিতি।

বাহাদুর বেপারির সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অজয় কর খোকন। দশম সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি তিনি। পরে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ালে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়।

২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে ছিলেন লিয়াকত শিকদার। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন ব্যবসায়ী।

লিয়াকত শিকদারের সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নজরুল ইসলাম বাবু। নবম ও দশম সংসদের নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনীতি ছাড়াও জড়িত আছেন ব্যবসায়।

২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। একই সময়ে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। তারা দুজনই আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। রোটন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তার হিসেবে কর্মরত আছেন।

২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। সোহাগের গ্রামের বাড়ি বাগের হাটের শরণ খোলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন সোহাগ। বদিউজ্জামান সোহাগ রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এখনো আওয়ামী লীগের দায়িত্বে আসতে পারেননি।

সোহাগের সভাপতি থাকাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সিদ্দিকী নাজমুল আলম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি চাকরির পাশাপাশি পড়াশুনা করছেন। সিদ্দিকী নাজমুল আলমের গ্রামের বাড়ি জামালপুর। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান সোহাগ। সোহাগ মাদারীপুরের সে বর্তমান রাজনীতির সঙ্গে পাশাপাশি ব্যবসা করছেন।

সাইফুর রহমান সোহাগের সময়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এইচ এম জাকির হোসেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই।

সাইফুর রহমান ও জাকির হোসাইন দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী ছিলেন। সাইফুরের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর, আর জাকিরের বাড়ি মৌলভীবাজারে। সাইফুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের এবং জাকির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স  করেছেন।

২০১৮-২০১৯ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন রিজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী পরিবারের সন্তান শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র। তিনি আইন বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।

শোভনের দাদা মরহুম শামসুল হক চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক ছিলেন। কুড়িগ্রাম-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ১৯৭৩ ও ১৯৭৯। ১৯৭৫ পরবর্তী ১৯৭৭ সালে দেশ ও দলের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে জাতীয় নির্বাচন করেন।

শোভনের বাবা নুরুন্নবী চৌধুরী ১৯৮১ সালে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা ছাত্রলীগ এর সভাপতি ও ১৯৯১ সালে থানা যুবলীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন । ২০০১ সালে থানা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক (২০০১-২০১০) ও ২০১১ সালে পুনঃরায় থানা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক হন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানও।

রিজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সময়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন গোলাম রাব্বানী। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রাব্বানীর বাড়ি মাদারীপুর। নানান দুনীর্তির অভিযোগে এক বছরের মাথায় শোভন-রাব্বানীর কমিটি বিপুপ্ত করে দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

২০১৯- বর্তমান পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্ত্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন আল নাহিয়ান জয়। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আলী খানের ছেলে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাবার হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন।

বরিশাল জিলা স্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেয়া জয় উপজেলা ছাত্রলীগেও সম্পৃক্ত ছিলেন। একপর্যায়ে ঢাকায় লেখাপড়া করার সুবাধে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অবস্থান করে নেন তিনি। এসএসসি পাস করে ঢাকা কমার্স কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন জয়। তার দক্ষ নেতৃত্বের কারণেই এই কলেজে ছাত্রলীগের কার্যক্রম অনেকটা এগিয়ে যায়।

উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন জয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপরই তার ডাক আসে কেন্দ্রীয় কমিটিতে। সোহাগ-জাকির কমিটিতে আইনবিষয়ক সম্পাদক পদে নিজের অবস্থান তৈরি করে নেন জয়।

আল নাহিয়ান খান জয়ের সময়ের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন লেখক ভট্টাচার্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র লেখক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। লেখক ভট্টাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের স্নাতকোত্তর ছাত্র।

যশোরের মনিরামপুরের ছেলে লেখক ওই এলাকার এমপি ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ভাতিজা। ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও জগন্নাথ হল শাখার আগের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন লেখক।

আরো দেখুন

Leave a Comment