চার পথে আয়ের পথ দেখালেন রবার্ট টি কিয়োসাকি

আয়ের পথ

বিখ্যাত অর্থনীতির মোটিভেশনাল লেখক ও বিনিয়োগকারী রবার্ট টি কিয়োসাকি চারটি আয়ের পথ দেখিয়েছেন। যারা বেকার আছেন তারা চারভাবে আয়ের পথ বেছে নিতে পারেন। যার যার যোগ্যাতা অনুযায়ী এর যে কোনো একটি পথ বেছে নিতে তিনি তার দ্য বিজনেস স্কুল বইয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

লেখক রবার্ট টি কিয়োসাকি এই চার পথের আয়ের জন্য ESBI ফর্মূলা ব্যবহার করেছেন। ESBI মূলত আয়ের উৎসের আদি অক্ষরসমূহ। নিচে ESBI ফর্মূলার বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

ESBI এর পূর্ণ রুপ হচ্ছে-

  • E-Employ
  • S-Self Employ
  • B-Business Owner
  • I-Investor

বেছে নিতে পারেন যে কোন একটি:

আয়ের জন্য এই চার মাধ্যমের যে কোনো একটি মাধ্যম যে কোনো ব্যক্তি বেছে নিতে পারেন। ব্যক্তির মন মানসিকতা ও জীবনধারার উপর এই পছন্দ নির্ভর করে। তবে এগুলো বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির পারিবারিক অবস্থাও নির্ভর করে।
অসচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করলে প্রথমেই Investor হওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে উপরের তিনটির যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে। আবার Business Owner হওয়ার জন্যও বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন যা নতুন অবস্থায় অনেকের জন্য কঠিন। তাই নিজের বিবেক, পারিবারিক অবস্থান ও মন-মানসিকতা অনুযায়ী এর যে কোনো একটি বা একাধিক পথও আয়ের জন্য নির্বাচন করে নিতে পারেন।

এক, E-Employ:

আয়ের সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ পথ হচ্ছে Employ হওয়া। পড়াশোনা জানা বা না জানা যে কেউ এই পথ বেছে নিতে পারেন। যে কোনো ব্যক্তি তার দিনের বা রাতের নির্দিষ্ট একটি সময় দিয়ে মাস শেষে বেতন নিয়ে যাবেন। এটাই সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ বেছে নেয়। জীবন ধারনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হচ্ছে কর্মী হওয়া। ”Employ বা চাকরি” করার সংখ্যাই বেশি।

দুই, S-Self Employ:

Employ হওয়ার চেয়ে একটু কঠিন Self Employ হওয়া। কারণ Self Employ হতে হলে নিজেকে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রচুর সময় দিতে হয়। এক্ষেত্রে লাভ বা ক্ষতির জন্য কাউকে দায়ী করা যায় না। ”Self Employ” বলতে হতে পারে দোকানদার বা আড়ৎদার। যত বেশি সময় দেবে তত বেশি আয় হবে আবার তার বিপরীত চিত্র দেখা যেতে পারে।
স্থান ও পরিবেশের উপর নির্ভর করে এই পথে আয়। এটি পেশাজীবী হিসেবেও পরিচিত। দোকানদার, আড়ৎদার ছাড়াও আইনজীবী, প্রকৌশলী, চিকিৎসকরা Self Employ এর অন্তভূক্ত।

তিন, B-Business Owner:

Business Owner মূলত বড় ব্যবসায়ীদেরকে বুঝানো হয়। একাধিক ব্যক্তি মিলে ”Business Owner” হতে পারেন। যারা নিজের জীবনকে ভালোভাবে উপভোগ করতে চান তারাই Business Owner হোন। আয়েশী জীবনের জন্য আয়েশি বিনিয়োগ করতে হয়। তবে এ আয়ের পথ এ মোটা অংকের যোগান দিতে হয়। এখানে ব্যবসায়ের লাভ বা লোকাসান Business Owner বা ব্যবসায়ীক অংশীদাদেরকে সমানভাবে বহন করতে হয়।

সাধারণ এই Business Owner রা ১/২ বছরের মধ্যে সফলতার মুখ দেখেন। তারা যদি সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেন সফলতা তাদের অনিবায। তবে ব্যবসায়ীক পার্টনারদের মধ্যে যদি বনিবনা না হয় এ ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে। Business Owner এর উদ্যোগ সফল হতে হলে নেতৃত্বকে মেনে নিতে হয়।

চার, I-Investor:

”Investor বা বিনিয়োগ” করে আয় করা হচ্ছে সবচেয়ে আরামদায়ক ও সহজ পথ। তবে ধনীর ঘরের দুলালরাই কোনো কাজ কর্ম না করে বিনিয়োগ করে আয়ের সহজ এ পথ বেছে নেন। নির্দিষ্ট সময় পর মোটা অংকের টাকা আয় করতে পারেন। তবে মোটা অংকের টাকা আয়ের জন্য মোটা অংকের বিনিয়োগও করতে হয়।

এর একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। যে কোম্পানিতে বা যে ব্যক্তির সাথে বিনিয়োগ করা হবে তা যদি দূরদর্শী সম্পন্ন না হয় তবে হিতে বিপরীত হতে পারে। খোয়া যেতে পারে বিনিয়োগের পুরো অর্থ। তাই বুঝে শুনে বিনিয়োগ না করলে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি থাকে।

রবার্ট টি কিয়োসাকি বেকারদের জন্য এই চারটি পথ বাতলে দিয়েছেন। তবে যারা চাকরি করেন বা ব্যবসা করেন তারাও এই পথে যুক্ত হতে পারেন। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অনেক মানুষ পরিবার চালানোর জন্য একাধিক পথেও আয় করছেন।

রবার্ট টি কিয়োসাকির পরিচয়:

জাপানি বংশোদ্ভূত লেখক রবার্ট তরু কিয়োসাকি বেড়ে উঠেছেন আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে। নাম ‘রবার্ট টি. কিয়োসাকি’নামেই পরিচিত। শৈশবকাল শেষ করে পড়াশোনার জন্য তিনি পাড়ি জমান নিউ ইয়র্কে। একজন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার পর ইউএস. মেরিন কর্পসে যোগ দেন।

এরপর পেশাজীবন তাকে নিয়ে যায় ভিয়েতনামে, মেরিন কর্পসের একজন অফিসার ও হেলিকপ্টার গানশিপের পাইলট হিসেবে। ভিয়েতনাম থেকে ফিরেই যাত্রা শুরু হয় এক যুদ্ধফেরত ব্যবসায়ীর।

১৯৭৭ সালে তিনি গড়ে তোলেন তার নিজের কোম্পানি, যা একইসাথে তাকে এনে দেয় অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সফলতা। পরবর্তী সময়ে, ১৯৯৪ সালে তিনি ও তার সহধর্মিনী কিম কিয়োসাকি মিলে জন্ম দেন রিচ ড্যাড কোম্পানির।

তারা এই কোম্পানিটির লক্ষ্য স্থির করেন- ‘মানবতার স্বার্থে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার উত্থাপন’। রবার্ট কিয়োসাকির সেরা বই ধরা হয় ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’কে। সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয়, ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক বই হিসেবে বিখ্যাত। লাখো মানুষের টাকা সম্পর্কিত ধারণাকে তিনি এই বইটির মাধ্যমে বদলে দিতে পেরেছেন।

এছাড়াও ২০০৫ সালে প্রকাশিত ‘বিফোর ইউ কুইট ইওর জব’ বইটিও নতুন উদ্যোক্তাদের নজর কেড়েছে। রবার্ট কিয়োসাকি এর বই সমগ্র সাধারণত মোটিভেশনাল ঘরানার, তিনি নিজেও একজন সফল মোটিভেশনাল স্পিকার। মূলত পেশায় তিনি একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও কলামিস্ট।

কিয়োসাকি এর বই সমূহ এর মধ্যে রিচ ড্যাড সিরিজেরই ১৫টি বই প্রকাশিত হয়েছে। সবমিলিয়ে বিক্রিত কপির সংখ্যা ২৬ মিলিয়ন ও বইটি প্রায় ৫১টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

আরো দেখুন

Leave a Comment