চাকরি ছেড়ে ব্যবসা ধরে কোটিপতি তরুণী

২০১০ সালে ভারতের মুম্বাইয়ের নার্সি মনজি ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পড়াশোনার সময় হতেই ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন শিনীল তিলওয়ানি।

পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভালো বেতনের চাকরি ত্যাগ করে নিজের ব্যবসা চালু করে এখন কোটিপতি শিনীল তিলওয়ানি।

মেয়েকে দিয়ে বড় চাকরি করানোর ভাসনা ছিল ইঞ্জিনিয়ার-এমবিএ করা পিতার। মুম্বাইয়ের নামীদামী এমবিএ কলেজে মেয়েকে ভর্তিও করান তবে মেয়ের ইচ্ছা ছিল অন্য কিছু।

বিভিন্ন স্কিন কেয়ার ও বিউটি কেয়ার পণ্য বিক্রি করতেন শিনীল তিলওয়ানি। ইচ্ছা ছিল এগুলো নিয়েই অগ্রসর হবেন জীবনে তবে বাবা-মা তার ব্যবসায় একটা বড় বাধা।

এমবিএ পাশ করার পর ২০১৫ সালে আমদাবাদের অরবিন্দ লিমিটেডের একটি কাপড় উত্পাদনকারী কোম্পানিতে যোগ দেন শিনীল তিলওয়ানি। ভাল কাজের পুরস্কার হিসেবে খুব তাড়াতাড়ি প্রমোশনও পান শিনীল তিলওয়ানি।

শিনীল তিলওয়ানির পিতা-মাতা তাকে নিয়ে ভীষণ গর্বও করতেন তবে একেবারেই কাজ নিয়ে খুশি ছিলেন না শিনীল তিলওয়ানি। তার বিউটি প্রোডাক্ট বিক্রির ব্যবসাও ডুবতে শুরু করেছিল তত দিনে।

শিনীল তিলওয়ানি সিদ্ধান্ত নিলেন চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মন দেবেন। হাতে তার চার মাসের খরচ চালানোর মতো অর্থকড়ি রেখেছিলেন তবে পিতা-মাতা কিছুতেই তার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি।

পিতা-মাতার বিপরীতে গিয়ে চাকরি ছেড়ে পুরোদমে নিজের পুরনো বিউটি প্রডাক্টের ব্যবসাই শুরু করে দেন শিনীল তিলওয়ানি। গোড়ার দিকে তার ব্যবসা একদমই বাজে যায়।

শিনীল তিলওয়ানি

ক্রমান্বয়ে শিনীল তিলওয়ানির পরিশ্রমে ব্যবসার প্রসারণ ঘটতে থাকে। মুম্বাইয়ের এক বিখ্যাত ধনী পরিবার তার প্রোডাক্টের নমুনা দেখতে আগ্রহী হয়। নমুনা ব্যবহার করে ভীষণ খুশি হয়ে শিনীল তিলওয়ানির থেকে অনেক পণ্য ক্রয় করে নেন তারা।

এভাবে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে শিনীল তিলওয়ানি পণ্যের খ্যাতি। এ রকম আরও ১০-১২টি পরিবার তার গ্রাহক হতে থাকে। ভাল চলার পরও এ ব্যবসা নিয়ে শিনীল তিলওয়ানি অতটা খুশি ছিলেন না।

তার অন্য কিছু করার ইচ্ছা জাগে। মুম্বাই বিমানবন্দরে একটি আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্টসের দোকান তার ভাগ্য বদলে দেয়। ওই দোকানে কাঠের একটি হাতি চা হাজার টাকায় বিক্রি করছিল দোকানকার।

এই একই হাতি শিনীল তিলওয়ানি দেখেছিলেন তার ব্যবসায় সহযোগী এক ব্যক্তির বাড়িতে। ওই ব্যক্তি শিনীল তিলওয়ানির পণ্যের জন্য প্যাকিং বাক্স তৈরি করতেন। তিনি এ রকম হাতিও তৈরি করতেন। প্রতি হাতির দাম নিতেন গোটা ২২ টাকা মাত্র।

ব্যবসায়িক বুদ্ধির জোরে সাথে সাথে শিনীল তিলওয়ানি তার ব্যবসার পরবর্তী ধাপটা চিহ্নিত করলেন। ওই ব্যক্তির কাছেই অর্ডার দিয়ে এ রকম ঘর সাজানোর নানা জিনিসপত্র বানিয়ে বিকিনিকি শুরু করেন।

২০১৬ সালে শিনীল তিলওয়ানির দোকান হাউস অফ আর্টিসনস্ খুলে ফেলেন। গোটা ১২ হাজার টাকায় চালু করা সেই ব্যবসা এই কয়েক বছরের মধ্যেই দুই কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়। যা রীতিমতো অবাক হওয়ার মতো।

আরো দেখুন

Leave a Comment