ঘাসের ওপর বসবাসের অনুভূতি দেয় ঘাস কার্পেট

ঘাস কার্পেট

বাসার ভেতর বিস্তৃত ঘাসের মাঠ। চোখ জুড়ানো সবুজায়ন। পায়ের স্পর্শেও ঘাসের ছোঁয়া। ভাবুন তো অনুভূতিটা কেমন? হ্যাঁ। সবুজপ্রেমীদের চক্ষু শীতলের এমন সৌখিন ব্যবস্থার নাম ঘাস কার্পেট।Artificial grass

দিন দিন মানুষের সৌখিনতা বাড়ছে। একটা সময় মানুষের মৌলিক চাহিদার বাইরে ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে। থেমে নেই মানুষের সৌখিনতা। শখ পূরণ করতে মানুষ কত কিছুই না করছে। থাকার জায়গাটা মানুষ চায় তার মনের মতো করে সাজিয়ে নিতে। তারই অংশ হিসেবে ঘাস কার্পেটের ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে বাসা-বাড়িতে ও অফিস আদালতে। ঘরে ঘাসের অনুভূতি পেতেই হালে ঘাস ডিজাইন কার্পেট ও ঘাস কার্পেট ব্যবহার করা হয়।

ঘাস কার্পেটের রকমফের:

ঘাস ডিজাইন ও ঘাস কার্পেটের উপাদান মূলত পাট, রেক্সিন, প্লাস্টিক, পাতলা রাবার ও সিনথেটিক। শীতকালে উজ্জ্বল ও উষ্ণ রং যেমন– লাল, সবুজ, নীল, খয়েরি, বেগুনি ইত্যাদি রংয়ের কার্পেট ও শতরঞ্জি ব্যবহার করলে ঘর উজ্জ্বল দেখায়। আর গরমে কমলা, কফি, ধূসর, কফি ও কমলার সংমিশ্রণের লেয়ারযুক্ত ঘাস কার্পেটের জুড়ি মেলা ভাড়।

Artificial grass at balcony

রং বেরঙের ঘাস ডিজাইন কার্পেট:

প্রথমে সবুজ তারপর টিয়া রঙ পাশাপাশি গাঢ় সবুজের যেমন ঘাস ডিজাইন কার্পেট রয়েছে তেমনি ধূসর ও বাদামী রঙের ঘাস ডিজাইন কার্পেটও রয়েছে। এছাড়াও কমলা ও কফিসহ চোখ ধাঁধাঁনো বাহারি রঙের ঘাস ডিজাইন কার্পেট রয়েছে। রয়েছে ধূসর, কফি ও কমলার সংমিশ্রণের ঘাস ডিজাইন কার্পেট। আরো আছে খয়েরি, ধূসর ও কফির সমন্বিত রঙের কার্পেট।

আছে সিম্পল লাল ও সাদা লেয়ারের ঘাস ডিজাইন কার্পেটও। একেকজনের পছন্দ একেক রকম। কেউ সিম্পল সাদাকালো লেয়ারের ঘাস ডিজাইন কার্পেট পছন্দ করেন আবার কেউ চোখ ধাঁধাঁনো বাহারি রঙের বড় সাইজের বেগুনি, ধূসরসহ কমলা রঙের মিশ্র লেয়ারের ঘাস ডিজাইন কার্পেট পছন্দ করেন।

Grass carpet

ঘাস ডিজাইন কার্পেটের ভিন্নতা:

ঘাস ডিজাইন কার্পেটের ভিন্নতাও রয়েছে। কয়েকটি লেয়ারযুক্ত এসব কার্পেট একদম নরম তুলতুলে ঘাসের মতো। আবার অনেক ঘাস কার্পেটের ফাঁকে ফাঁকে জরি জরি থাকে যা দেখতে ভারি সুন্দর লাগে। চোখ আটেকে যায় কার্পেটের ফাঁকে ফাঁকে জরির সৌন্দয্যে। কম বয়সী নারী ও শিশুদের কাছে জরিযুক্ত এই ঘাস ডিজাইন কার্পেটই বেশি পছন্দের।

ঘাস ডিজাইনের কার্পেটের দরদাম:

ঘাস ডিজাইনের কার্পেটের সাইজের উপর দাম বাড়ে কমে। সাইজ বড় হলে দাম বাড়ে আবার ছোট সাইজ হলে দাম কমে। সাধারণ মানের ঘাস কার্পেট ২১০০-২১৫০ টাকা আর একটু উন্নত ডিজাইনের ঘাস কার্পেট ৩৬০০-৩৭০০ টাকায় বিকিনিকি হয়।

কৃত্তিম সবুজ ঘাস লন

ঘাস ডিজাইনের কার্পেটের দাম নির্ভর করে এমএম এর ওপর। এমএম বলতে মিলি মিটার যা দিয়ে মোটা ও চিকন বুঝায়। ১০ এমএম থেকে শুরু করে ৫০ এমএম পর্যন্ত ঘাস ডিজাইনের কার্পেট রয়েছে। প্রতি স্কয়ার ফিট ১২০ হতে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

নিচে ছকের মাধ্যমে এমএম ও এর দাম তুলে ধরা হলো-

ক্রমিক নং—–মিলি মিটার—— দাম (প্রতি স্কয়ার ফিট)
১ — ১০ এমএম—৮০-১০০ টাকা
২ — ২০ এমএম—১২০-১২৫ টাকা
৩ — ২৫ এমএম—১২৫-১৩০ টাকা
৪ — ৩০ এমএম—১৩৫- ১৪০ টাকা
৫ — ৩৫ এমএম—১৪৫-১৫০ টাকা
৬ — ৪০ এমএম—১৭০-১৮০ টাকা
৭ — ৫০ এমএম—১৯০-২০০ টাকা

Grass carpet

ঘাস ডিজাইন কার্পেটের ব্যবহার:

> বাসা বাড়ির ছাদে
> বাসা বাড়ির আউট ডোরে
> বাসা বাড়ির বেলকুনিতে
> বাসা বাড়ির মেঝেতে
> অফিসের ছাদে
> অফিসের আউটডোরে
> অফিসের বেলকুনিতে
> অফিসের মেঝেতে
> দোকানের মেঝেতে
> শপিংমলের ভেতরের মেঝেতে

ঘাস কার্পেট:

ঘাস ডিজাইনের কার্পেটের মতো ঘাস কার্পেটও দেখতে একেবারে ঘাসের মতো তবে ঘাস না। এটি রাবার প্লাস্টিকর, পিভিসি, পিপি, পিই, মনোফিলামেন্ট পিই এবং পিপি ও পিই মিশ্রন উপাদান দ্বারা তৈরি। ঘাস কার্পেট সাধারণত খুবই সবুজ রঙের হয়। কৃত্রিম হলেও মনে হবে প্রাকৃতিক। এই ঘাসের উপর হাটলে প্রাকৃতিক ঘাসের মতো অনভুতি পাওয়া যায়।

 

ঘাস কার্পেটের ব্যবহার:

> ঘরের মাঝে ম্যাট হিসেবে ব্যবহার করা যায়
> বাসা বাড়ির ওয়ালে ব্যবহার করা যায়
> বিভিন্ন দোকান-পাটে ব্যবহার করা যায়
> দোকান পাটের মেঝে ও ওয়ালে ব্যবহার করা যায়
> ইনডোরে ব্যবহার করা যায়
> ল্যাস্ক্রেপ গার্ডেনে ব্যবহার করা যায়
> বেলকুনিতে ব্যবহার করা যায়
> অফিসের ওয়ালে ব্যবহার করা যায়
> হোটেল ও রেস্টুরেন্টের লনে ব্যবহার করা যায়
> আউটডোরে ব্যবহার করা যায়
> ইন্টেরিয়রে ব্যবহার করা যায়
> অ্যাকুরিয়ামে ব্যবহার করা যায়
> অফিসের যে কোনো কক্ষে ব্যবহার করা যায়
> ডেকোরেশনের কাজে ব্যবহার করা যায়
> যে কোনো ধরনের মেঝেতে ব্যবহার করা যায়
> বিবাহোৎসবে ব্যবহার করা যায়

ঘাস কার্পেটের বিশেষ ব্যবহার:

>ফুটবল ইনডোর স্টেডিয়ামে
>বাস্কেটবল ইনডোর স্টেডিয়ামে
>টেনিস ইনডোরে স্টেডিয়ামে কৃত্তিম ঘাস ব্যবহার করা হয়
>হোটেল, কক্ষ, প্রদর্শনী হল, অফিস ভবন, বাণিজ্যিক দোকানের মতো অনেক জায়গায় কৃত্রিম ঘাস কার্পেট সজ্জিত পরিবেশ দেখা যায়।

ঘাস কার্পেটের ব্যবহারের সুবিধা:

>পরিবেশকে সুন্দর করে ও শব্দকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে
>কৃত্রিম ঘাস কার্পেট উচ্চ-ঘনত্বে তৈরি হওয়ায় শব্দ হ্রাসের পাশাপাশি শীতকালে ঠান্ডা নিরোধকের কাজ করে
>কৃত্রিম ঘাস কার্পেট উল কার্পেটের চেয়ে বেশি সাশ্রয়ী
>এটি মাটিতেও ব্যবহার করা যায়।
>স্লিপ কাটে না।
>বাইরের দৃশ্যকে প্রাকৃতিক দেখানোর সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে গ্রাস কার্পেট।
>প্রয়োজন মোতাবেক বিভিন্ন আকারের ও রঙের ঘাস কার্পেট বাজারে পাওয়া যায়।
>প্রাকৃতিক ঘাসের তুলনায় এটিকে খুব কম রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়।
>কার্পেটগুলোতে অগ্নি নির্বাপক লেপন দেওয়া হয়।
>এটি বাচ্চাদের জন্য তৈরি খেলার মাঠগুলোর জন্যও ভাল কারণ প্রাকৃতিক ঘাসে উপস্থিত থাকতে পারে এমন নোংরা কাপড় বা পোকামাকড়ের কোনও সুযোগ নেই ঘাস কার্পেটে।
>স্লিপ কাটে না তাই বয়স্ক ও শিশুদের জন্য খুবই নিরাপদ।
>বৃষ্টি বা তুষারে যে কোনো প্রভাব ছাড়াই সকল মৌসুমের ব্যবহার উপযোগী।
>টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী।
>তাপে ও অধিক ভারীবস্তুুর ব্যবহারেও টিকে থাকতে পারে।
>এটি দেখতে প্রাকৃতিক ঘাসের মতো।
>এটি পরিবেশ বান্ধব।
>ইনডোর ও আউটডোর উভয়ই ব্যবহার করা যায়।
>এটি বাড়ির অভ্যন্তরে কার্পেট হিসাবে, ল্যান্ডস্কেপিং গার্ডেনের জন্য, বেলকুনির সাজাতে ব্যবহার করা হয়

 

ঘাসকার্পেটেরে বৈশিষ্ট:

>জীবাণুমুক্ত, রঙ বিবর্ণরোধী ও স্থিতিস্থাপক
>প্রাকৃতিক ঘাসের মতো দেখায়
>প্রাকৃতিক ঘাসের মতো অনুভূতিশীল
>দীর্ঘস্থায়ী ৫-৮ বছর পর্যন্ত
>প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি হয়
>ক্ষতিকারক উপকরণমুক্ত
>শিশু ও পোষা প্রাণী সুলভ
>সহজে স্থাপন করা যায়
>রক্ষণাবেক্ষণ সহজ
>খরা, তুষারপাত বা দুর্যোগপূর্ণ সব অঞ্চলেই ব্যবহার উপযোগী
>দীর্ঘ ব্যাপ্তিযোগ্যতা
>পানি ও সার দেওয়ার ঝামেলা নেই
>ঘাস কাটা ও সেচ দেওয়ার কোনো দরকার নেই
>বেঁকে যায় না ও টেকসই
>চোখে আরামদায়ক, কোনও ঝলকানি নেই।

ঘাস কার্পেট 

ঘাসকার্পেটবেচাকেনা ও দরদাম:

ঘাস কার্পেট স্কয়ার বর্গফুটে বিক্রি হয়। ঘাস কার্পেট রোলের প্রস্থ ২ থেকে ৪ মিটার হয়। এক রোলে ১০০, ২০০ ও ৫০০ বর্গফুট করে ঘাস কার্পেট থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাহকরা যার ততটুকু দরকার নিতে পারেন।

রঙ সাধারণ সুবজটাই সবাই বেশি ব্যবহার হয় বাংলাদেশে। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ভেদে ভিন্ন ভিন্ন দামে এটি বিক্রি হয়। ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬’-৭’’প্রস্থের প্রতি বর্গফিট ৩৪০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

৪৫-৪৮ এমএম এর ৬.৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২ ফুট প্রস্থের ( ৭৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২৪ ইঞ্চি প্রস্থ ) এর ঘাস কার্পেট বিক্রি হয় ১৪৫০-১৫০০ টাকায়।

এছাড়া ৬.৫ ফুট দৈর্ঘ্যর ও ৬ ফুট প্রস্থের ঘাস কার্পেট বিক্রি হয় ২৫০০-৩০০০ টাকায়। আর ৬.৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৫ ফুট প্রস্থের ঘাস কার্পেট বিক্রি হয় ২৫৫০-২৭৫০ টাকায়। ৬.৫ ফুট দের্ঘ্যর ও ৩ ফুট প্রস্থের ঘাস কার্পেট ২০০০-২৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

৬.৫ ফুট দৈর্ঘ্যর ও ২ ফুট প্রস্থের ঘাস কার্পেট বিক্রি হয় ১১৫০-১২৫০ টাকায়। প্রাকৃতিক দৃশ্য ও অনুভূতির জন্য এটিতে থাকে চারটি রঙ। বেলকুনি, লন ও ডোরে সমানভাবে এটি ব্যবহৃত হয়।

৬.৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৫ ফুট প্রস্থের ঘাস কার্পেট বেশি বেলকুনিতে ব্যবহৃত হয়, ৬.৫ ফুট দৈর্ঘ্যর ও ৬ ফুট প্রস্থের ঘাস কার্পেট বেশি ল্যান্ডস্ক্রেপ গার্ডেনে ব্যবহৃত হয়, ৬.৫ ফুট দৈর্ঘ্যর ও ৩ ফুট প্রস্থের ঘাস কার্পেট ম্যাট হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়।

যে দেশ থেকে আসে:

ম্যাক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও চীনের ঘাস ডিজাইন ও ঘাস কার্পেট বিশ্বব্যাপি বেচাকেনা হয়। তবে বাংলাদেশে বেশির ভাগ চীনা ও ভারতীয় ঘাস ডিজাইন ও ঘাস কার্পেট ব্যবহৃত হয়।

ঘাস কার্পেটের যত্মাত্তি:

>ওয়াটার প্রুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুফ হওয়ায় পানি দিয়ে ধোয়া যায়
>ব্যাকুয়াম ক্লিয়ার দিয়ে ওয়াশ করানো যায়

প্রাপ্তি স্থান:

মহাখালী, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, ফার্মগেট, পুরাণ ঢাকা, মিরপুর, রামপুরা, কাওরান বাজার, মালিবাগসহ দেশের সব জায়গার বড় বড় মার্কেট ও শপিংমলে পাওয়া যায়।

লেখক: মোহাম্মদ রবিউল্লাহ

আরো দেখুন

Leave a Comment