গোপনে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন বিপ্লবী ‘চে গুয়েভারা’

কিউবার বিপ্লবী নেতা চে গুয়েভারা। তিনি শুধু কিউবাতেই বিপ্লব করে ক্ষান্ত হননি। নিজ দেশ আর্জেন্টিনা, প্রতিবেশি বলিভিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সূচনা করে পশ্চিমা পুজিবাদীদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলেন ।

তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো ১৯৫৯ সালে তিনি নারায়নগঞ্জের আদমজী জুট মিলে এসে ঘুরে গেছেন। কথা বলেছিলেন সেখানকার শ্রমিকদের সঙ্গে। সম্প্রতি বেশ কিছু নথি ঘেটে এসব তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে সমাজতন্ত্রের লড়াইকে বেগবান করতে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ১৯৫৯ সালে কিউবার হয়ে এশিয়ার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ সফরে বের হয়েছিলেন চেগুয়েভারা। তিন মাসের সেই সফরে ঘুরতে ঘুরতে জুলাই মাসে এসেছিলেন বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান)।

তিনি বাংলাদেশে আদমজী পাটকলে শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তবে সেই সব শ্রমিকরা জানত না তিনি আসলে কে। আদমজী জুট মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছায়দুল হক ছাদু ১৯৫৯ সালে ছিলেন সাধারণ শ্রমিক। চে গুয়েভারার সঙ্গে স্বাক্ষাতের সেই ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি।

ছাদু জানান, চে গুয়েভারা ১৯৫৯ সালের জুলাই মাসে আদমজী পাটকলে আসেন। সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কারে করে। তার সঙ্গে ছিলো কয়েকজন সঙ্গী। ৩০ মিনিটের মতো চের সঙ্গে আলাপ হয় শ্রমিকদের। সেই সফরে ৩ নম্বর মিলের তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন চে গুয়েভারা।

চে এর সহযোদ্ধা ও স্ত্রী অ্যালাইদা তার স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছিলেন, ‘চেগুয়েভারার সফরের সময়টা ছিল ১৯৫৯ সালের ১২ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর। এ সফরে চে গিয়েছিলেন মিসর, সিরিয়া, ভারত, বার্মা (মিয়ানমার), শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান), পাকিস্তান (তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান), যুগোস্লাভিয়া, থাইল্যান্ড, গ্রিস, সিঙ্গাপুর, সুদান ও মরক্কো।’

তবে চে গুয়েভারার বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিয়ানমার ভ্রমণ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি দলিল প্রকাশ হয়নি। বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ-পাকিস্তান এখন আলাদা রাষ্ট্র হলেও তৎকালীন সময়ে একটি রাষ্ট্র ছিল। তখন পাকিস্তান সরকার ছিলো আমেরিকার ঘনিষ্ট মিত্র। ধারণা করা হচ্ছে এসব কারণেই সফরটি গোপন রাখা হয়েছিল।

আরো দেখুন

Leave a Comment