গালি দিয়ে মানুষ এত সুখ পায় কেন?

গালি দিয়ে মানুষ এত সুখ পায় কেন?

রাহিমা নিশি: রাস্তায় গাড়িকে আচমকা বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করে চলে গেল আরেকটা গাড়ি, অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি কিংবা পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে পা আটকে হোঁচট খেলে তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই সবচেয়ে নম্র-ভদ্র লোকটির মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি।

প্রশ্ন হচ্ছে বিব্রতকর সেই মুহূর্তগুলোতে সবাই তখন শুধু গালি-ই দেই কেন? তারা কী ইচ্ছে করেই গালি দিচ্ছে? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এ রকম পরিস্থিতিতে মানুষ প্রায় সহজাত প্রবৃত্তির মতই বেছে নেয় একটা বা একগুচ্ছ অশ্লীল শব্দ, আর সেগুলো মুখ দিয়ে উগরে দেবার সাথে সাথেই মানুষ আরাম বোধ করে থাকে। যার সবগুলোই নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক।

আনন্দ, চরম বিস্ময়, বা গভীর দুঃখ, বেদনা, বা ক্রোধ- যে কোন রকম পরিস্থিতিতেই মানুষ গালি দিয়ে থাকে।

গালি দেয়াটা মানুষের আবেগের সাথে এত গভীরভাবে সম্পর্কিত যে ওই শব্দগুলো উচ্চারণের জন্য যে মাংসপেশীর নড়াচড়ার দরকার হয়, তা একাধিক জায়গায় ধারণ করা থাকে। যাতে দরকার মতো ব্যবহারের জন্য ‘ব্যাকআপ’ থাকে।

মনোবিজ্ঞানীরা জানান, কোন কষ্ট বোধ হলে অনেকে গালি দিয়ে থাকে যা কষ্ট ও যন্ত্রণা সহায়ক। অনেক সময় ভদ্র শব্দে গালির মত আবেগ প্রকাশ করা যায় না।

সাধারণ শব্দ ব্যবহারের তুলনায় গালি দেবার সময় মানুষের হৃৎপিন্ডের গতি বেড়ে যায় বলে গবেষকরা দেখেছেন। এর ফলে সবার মধ্যেই একধরনের আবেগগত প্রতিক্রিয়া হয়।

যন্ত্রণার লাঘবে সহায়ক গালি:

কীল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানীরা জানান, কোন কষ্ট বোধ হলে অনেকে গালি দিয়ে থাকে যা কষ্ট ও যন্ত্রণা সহায়ক। অনেক সময় ভদ্র শব্দে গালির মত আবেগ প্রকাশ করা যায় না।

সাধারণ শব্দ ব্যবহারের তুলনায় গালি দেবার সময় মানুষের হৃৎপিন্ডের গতি বেড়ে যায় বলে গবেষকরা দেখেছেন। আমরা জানি যে গালিটা এক ধরনের আবেগপূর্ণ ভাষা, এবং এরকম ভাষায় কথা বলার সময় একধরনের আবেগগত প্রতিক্রিয়া হয়।

বিভিন্ন ভাষায় গালাগালি:

স্প্যানিশ ভাষা গালাগালির জন্য খুবই সৃষ্টিশীল এক ভাষা। যখন কেউ ভীষণ রেগে যায় তখন রাগান্বিত ব্যক্তি অনেক ব্যকরণ মেনে পুরো বাক্য বলছে তবে তার সবগুলো শব্দই আসলে গালি।

মাল্টায় সবচেয়ে অপমানজনক শব্দ হচ্ছে “বীর্য”। এটা একটা অদ্ভুত ব্যাপার, কারণ অন্য কোন ভাষায় এ শব্দটিকে গালি হিসেবে ব্যবহার করলে লোকে পাগল বলবে।

রুশ ভাষা হচ্ছে গালি দেবার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট ভাষা। গালি দেয় না এমন একজন রাশিয়ান লোক কল্পনা করাই দুষ্কর। গালাগালির সংস্কৃতি রুশ সাহিত্যের গভীরে প্রোথিত।

ম্যান্ডারিন চীনা ভাষায় কিছু মজার গালাগালি আছে। যার অর্থ হচ্ছে আপনার ১৮ প্রজন্ম আগের পূর্বপুরুষদের প্রতি খারাপ কিছু করা।

আরেকটা চীনা গালি আছে যা কচ্ছপের ডিমের সাথে সম্পর্কিত। মা-কচ্ছপদের বহু প্রেমিক থাকে। তাই কাউকে যদি ”কচ্ছপের ডিম” বলা হয়, এর অর্থ হচ্ছে – তার বাবাকে তার কোন ঠিক নেই।

গালি দেয় প্রাণীরাও:

শুধু মানুষই যে গালি দেয় তা নয়। শিম্পাঞ্জীদের নিয়ে কিছু দারুণ সমীক্ষা হয়েছে যাতে কিছু শিম্পাঞ্জীকে লালনপালন করা হয় এবং পারিবারিক পরিবেশে রাখা হয়। গবেষকরা আভাস পাচ্ছেন যে প্রাণীরাও গালি দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *