খাবার খাওয়া নিয়ে যত ভুল ধারণা

খাবার খাওয়া নিয়ে যত ভুল ধারণা

সুস্বাস্থ্য এর জন্য মানুষ খাবার খায়। মেনে চলে বিভিন্ন প্রকারের স্বাস্থ্য বিধি। তবে এসব সঠিকভাবে কাজ করে না। প্রতিদিন ১০ গ্লাস পানি খাওয়া, বেশি করে সালাদ খাওয়া, কার্বহাউড্রেট ও কোলেস্টেরল জাতীয় খাদ্য কম খাওয়াকেই সেরা ডায়েট বলে মনে করা হয়। কিন্তু এ সকল নিয়ম মানা হলেও সঠিক ওজন ও স্বাস্থ্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রধান কারণ হলো খাদ্য ও খাদ্যাভাস সম্পর্কে ভুল ধারণা।

কেউ কেউ একদমই ফ্যাটমুক্ত সালাদ ড্রেসার ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। মনে করা হয়, এভাবে সালাদ তৈরি করলে অধিক উপকার। তবে সালাদের উপকরণগুলো পুষ্টির খুব ভালো উৎস হলেও সামান্য পরিমাণ ফ্যাট যদি এতে মেশানো যায় তবে উপকার অধিক হয়। তবে সালাদে পনির বা মেয়োনেজ মেশানো যাবে না। এর বদলে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল, বাদাম ও বীজ মেশালে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

আচারকে প্রো-বায়োটিক ও কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য মনে করলে কিছুটা ভুলই করা হবে। আচার তৈরির সময় তা লবণে এপিঠ-ওপিঠ করে তারপর ডুবানো তৈলে কাঁচের বা প্লাস্টিকের বয়ামে রাখা হয়। এতে ক্যালরি থাকে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এর বদলে অল্প লবণ দেয়া ধনেপাতা ও পুদিনা পাতার চাটনি স্বাস্থের জন্য ভালো।

একটি সময় মনে করা হতো, দিনের যে কোন এক বেলার খাবার না খেলে সহজে শরীর ওজন হ্রাস করা যায় কিন্তু তা পুরোটাই ভুল। এতে করে যে কেবল বেশি ক্ষুধা লাগে তাই না, পরে একবারে বেশি খাদ্য খেতে হয় তার অহরহ দৃষ্টান্ত রয়েছে।

সুস্বাস্থ্য এর জন্য অনেকেই ভিটামিন সম্পূরক খেয়ে থাকেন। আর এগুলোর মধ্যে মাল্টি ভিটামিন সম্পূরকে ঠিক সেসব ভিটামিনই থাকে যা সারাদিনে মানব দেহের জন্য দরকার। কিন্তু ভিটামিন বাদেও দেহে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাবার উপাদানের দরকার। তাই সম্পূরকের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ সঠিক খাদ্যাভাস মেনে চলতে হবে। তাতে সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে।

দেহের ওজন ঠিক রাখার সর্বজন পরিচিত অভ্যাস হলো সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ঈষদুষ্ণ পানিতে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে গ্রহণ করা। তবে হালে বাজারের মধু খাঁটি তো নয়ই বরং চিনিতে পরিপূর্ণ। তা্লই এ মধু গ্গুরহণ করলে ভালোর চেয়ে বিপরীত ফল পাওয়ার শঙ্কাই অধিক। কিন্তু খাঁটি মধু পেলেও গ্রীষ্মকালে খাওয়া সঠিক নয়। তাতে শরীর অত্যাধিক উত্তপ্ত হবে। ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে কেবল লেবুর রস মিশিয়ে গ্রহণ করাই উত্তম। কারণ এর ফলে দেহের ভেতরে থাকা সকল টক্সিন ধীরে ধীরে বেরবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *