খাবারের টেবিলে আবার মিলছে হারানো সব দেশী মাছ

রুকাইয়া জাহান মিম: বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় দেশে প্রচুর পরিমাণ ছোট মাছ পাওয়া যায় এসব মাছে আছে প্রচুর পুষ্টি প্রতিবেলায় ভাতের সাথে মাছ কাকে বলে মাছে ভাতে বাঙ্গালী বলা হয়।

তবে বিগত কয়েক দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মুক্ত জলাশয় ভরাট, সেচ দিয়ে মাছ আহরণসহ কৃষিকাজে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক জলাশয়ের ছোট প্রজাতির অনেক মাছ ।

বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছগুলো হলো-মলা, ডেলা, পুঁটি, কাচকি, বাইম, চান্দা, পাবদা, গুলশা, টেংরা বৈরালি, রাজপুঁটি, খলিশা, ভাগনা, কৈ, শিং, মাগুর, গুজি, আইড়, ফলি, মহাশোল, বালাচাটা ও গুতুম।

বিলুপ্প্রায় সব মাছকে বাঙালীর খাবারের টেবিলে ফিরিয়ে আনতে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। দেশীয় মাছ সংরক্ষণে গবেষণায় জোর দেয় বর্তমান সরকার।

এসব প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে চাষীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া, নদ নদী ও খাল বিলে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠাসহ মাছ সংরক্ষণের নানা উদ্যোগের ফলে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছের প্রাপ্যতা বেড়ে যায়।

ফলে বাঙালীর খাবারের টেবিলে আবার ফিরে এসেছে নদ নদী হাওড় বাঁওড় ও খাল বিলের হারিয়ে যাওয়া সুস্বাদু হরেক প্রজাতির ছোট মাছ। দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।

দেশের মিঠা পানির ২৬০ প্রজাতির মধ্যে ১৪৩টি ছোট মাছ। এর মধ্যে ৬৪ প্রজাতি বিলুপ্তপ্রায়। তবে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন ও বাণিজ্যিকভাবে চাষের ফলে বিলুপ্তপ্রায় ২৩টি জাত পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা।

পাবদা, গুলশা, টেংরা, কৈ, শিং, মাগুর, গুজি, আইড়, চিতল, ফলি, মহাশোল, বৈরালি, রাজপুঁটি, মেনি, বালাচাটা, গুতুম, ভাগনা, খলিশা, বাটা, সরপুঁটি, কালি বাউশ, গজার ও গনিয়া বিলুপ্তপ্রায় এ ২৩টি প্রজাতির ব্যাপক চাষ হচ্ছে।

গত এক দশক আগেও বাজারে ছোট মাছের প্রাপ্যতায় ছিল নানা সঙ্কট। ছোট মাছ পাওয়া গেলেও দাম ছিল নাগালের বাইরে।

দেশীয়প্রজাতির পোনা উৎপাদনে বর্তমানে চার শতাধিক হ্যাচারি কাজ করছে। সংরক্ষণসহ নানা কারণে নদ নদী হাওড় বাঁওড় ও খাল বিলেও মিলছে এসব মাছ।

দেশজুড়ে বর্তমানে দেশীয় এসব মাছ ব্যাপক চাষ হচ্ছে। চাষীদের মধ্যেও এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আগ্রহী চাষীদের বছরজুড়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

বৈরালি মাছকে ২০১৫ সালে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। চলতি বছরের মার্চে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বৈরালি মাছের পোনা উৎপাদনে সাফল্য অর্জিত হয়। ফলে হারিয়ে যাওয়া এই মাছের আবার স্বাদ পাবে বাঙালীরা।

খাবারের প্লেটে এসব দেশি মাছ পাওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা  ইনস্টিটিউট। তাদের নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার জন্য চিরাচরিত বাংলার দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

।্ক্ক্ক্ক্ক্ক্ক্ক্ক্্্ক্ক্ক্ক্্ক্ক্ক্ক্ক্ক্ক্ক্ক্্্ক্ক্ক

 

 

আরো দেখুন

Leave a Comment