কৃষকের মুখে হাসি ফিরছে সূর্যমুখী চাষে!

কৃষকের মুখে হাসি ফিরছে সূর্যমুখী চাষে!

ক্রমাগত লোকসানের কারণে অতীতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে কৃষকরা খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। তবে প্রত্যাশিত লাভের মুখ দেখায় গত অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরে তিন গুণ বেশি সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছে কৃষকরা।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা তার মধ্যে একটি উপজেলা। এ উপজেলায় গেল কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর সূর্যমুখী ফুল চাষের ভাল ফলন পাওয়ায় ফুল চাষিদের মুখে হাসি ফিরছে।

পাশাপাশি শখের সূর্যমুখী ফুল ক্ষেত এখন স্থানীয়দের কাছে বিনোদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সূচের মতো সূর্যমুখী ফুল দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীরা।

প্রকৃতি প্রেমীরা কালীগঞ্জের সূর্যমুখী খেতে এসে প্রতিদিনের সেলফি তুলছেন ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভিডিও করছেন এমনকি কেউ কেউ হাত দিয়ে স্পর্শ করে সূর্যমুখীর সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

এদিকে ফুল চাষ কারীদের পরিবেশের বন্ধু ও মহৎ মানুষ বলে অভিহিত করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস।

এ প্রসঙ্গে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিম বলেন, ফুল চাষ করে যারা তারা পরিবেশের বন্ধু এবং মহৎ মানুষ। একমাত্র যাদের মন-মানসিকতা ইতিবাচক ধারায় ফুল চাষে মনোনিবেশ করে থাকেন।

তার মতে, কৃষকদের আগ্রহ ও ভাল ফলনের কারণে আগামীতে কালীগঞ্জ উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ আরও বৃদ্ধি করা হবে। তৈলজাত এ ফসলটি মানুষের প্রশান্তির খোরাক হিসেবেও মন্দ না।’

উপজেলার কালীগঞ্জ পৌরসভা, নাগরী, তুমলিয়া, বক্তারপুর, জাঙ্গালীয়া, মোক্তারপুর, জামালপুর ও বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের সবখানে এই তৈলজাত ফসলটির চাষ হচ্ছে।

এর মধ্যে বারি সূর্যমুখী-৩ ও আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ বেশি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার এ উপজেলায় আট হেক্টর জমিতে এ ফসলটির চাষ হচ্ছে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মত অন্যান্য জেলা ও উপজেলায়ও সূর্যমুখী বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। গত কয়েক বছর ধরে বরগুনা, নোয়াখালী,ফরিদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সূর্যমুখী বাম্পার ফলন হয়েছে তাতে স্বাবলম্বী হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সাথে তেল ও বিনোদন দুটোই পাবেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন কৃষকরা। এতে উৎসাহিত হবে দেশের অন্যান্য উপজেলার কৃষকরা।

লেখক: এম. এস. রুকন ( গাজীপুর)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *