প্রসঙ্গ করোনাভাইরাস; চীনে আইফোনের হালচাল ও অন্যান্য

ফোনে করোনার প্রভাব

চীনে সীমিত সময়ের জন্য ২৯ টি স্টোর চালু করেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি-২০২০ থেকে চীনে ৪২টি স্টোরের মধ্যে ২৯টি সীমিত সময়ের জন্য খোলা রাখছে অ্যাপল।

দেশটিতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে ১ ফেব্রুয়ারি-২০২০ থেকে চীনে অবস্থিত স্টোর, কারখানা, অফিস ও যোগাযোগ কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে অ্যাপল।

অ্যাপল চীনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কুইবাওতে অবস্থিত ‘অ্যাপল সেভেন ট্রেজার্স’ও ‘অ্যাপল হংকং প্লাজা’এর মতো অন্যান্য আউটলেটগুলো বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ সময়সূচি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, অ্যাপল চীনের স্টোরগুলো পুনরায় চালু করছে ও যতটা সম্ভব নিরাপদে থেকে কাজ চালিয়ে যাবে। চীনে অ্যাপলের সব করপোরেট অফিস ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলো খোলা রয়েছে।

অনলাইনে স্টোরগুলো চালু থাকায় শিগগিরই এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করবে বলে জানায় অ্যাপল। তাছাড়া চীনের বাইরেও পণ্য ও পরিসেবা সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না।

চীনে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মহামারী আকারে দেখা দেয়ায় কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে দেশটিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অ্যাপল কর্তৃপক্ষ।

অ্যাপলের এখনো বৃহৎ বাজার চীন:

বৈশ্বিক জায়ান্টটির পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনো বৃহৎ বাজার চীন। তবে গত সপ্তাহে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বছরের প্রথম পান্তিকে( জানুয়ারি-মার্চ) অ্যাপলের পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে কিছুটা শ্লথগতি রয়েছে বলে জানায় অ্যাপল।

গত মাসে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলার রাজস্ব আয়ের যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, তা পূরণ সম্ভব হবে না বলে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছিল মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল।

আইফোন উৎপাদন ও বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও বিশ্বব্যাপী আইফোন সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক খাতে বেশ ভালোই প্রভাব ফেলেছে করোনাভাইরাস।

যদিও আইফোন উৎপাদনের অংশীদারি সাইটগুলো হুবেই প্রদেশের বাইরে অবস্থিত এবং সব স্টোর, অফিসগুলো আবার চালু হয়ে গেলে ধীরে ধীরে এ স্থবির অবস্থা থেকে বের হতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছে অ্যাপল-সংশ্লিষ্টরা।

প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করছে চীন:

সরকারি হিসাবে ইতোমধ্যেই দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু চীনের উহান শহরেই আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটি প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করছে।

এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কের মধ্য গত সপ্তাহে দেশটিতে অ্যাপেলের তিনটি শোরুম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে চীনের অনেক কোম্পানি তার কর্মীদের বাসায় থেকে কাজ করতে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ভ্রমণ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সপ্তাহব্যাপী চন্দ্র নববর্ষের ছুটির পর স্বাভাবিকভাবে চীনে ব্যবসার কার্যক্রম শুরু হবে।

চীনের ওপর নির্ভরশীল অ্যাপল:

স্মার্টফোন বিক্রি ও উৎপাদনে ব্যাপক মাত্রায় চীনের ওপর নির্ভরশীল অ্যাপল। তাদের অনেক কারখানা দেশটির হুবেই প্রদেশে অবস্থিত। এগুলোর মধ্য এবি ইনবেভ ও জেনারেল মোটরস কোম্পানিও সেখানে অবস্থিত। তবে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে সেখানে সাময়িকভাবে ফোন উৎপাদন বন্ধ আছে।

এদিকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় কর্মীদের কথা মাথায় রেখে চীনে সাময়িক সময়ের জন্য সব অফিস বন্ধ করে দিচ্ছে মার্কিন বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি গুগল। এর আগে চীনে একটি স্টোর বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপল।

একই সঙ্গে চীন ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু গুগল নয়, আরও অনেক প্রতিষ্ঠানই চীনে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে আনছে বা সাময়িক সময়ের জন্য সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে।

করোনায় চীনে ভোক্তা সংখ্যা কমেছে অ্যাপলের:

উহান ও চীনের অন্যান্য শহরে যেখানে নিজেদের কর্মীরা রয়েছে তাদের মধ্যে কেয়ার কিট সরবরাহ করছে অ্যাপল। অ্যাপল জানিয়েছে, চীনে তাদের ভোক্তা সংখ্যা কমে গেছে। লোকজন এখন বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না।

এছাড়া কর্মীদের এই ভাইরাসে আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকায় তারা স্টোর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

অপ্রয়োজনে চীন ভ্রমণে ফেসবুকের নিষেধাজ্ঞা:

অপরদিকে অপ্রয়োজনে চীন ভ্রমণে কর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিজেদের কর্মীদের ভাইরাসের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে যেসব কর্মী বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন তাদের বাড়িতে বসেই কাজ করতে বলেছে ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র বলেন, আমাদের কর্মীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি।

চীনের বাজারে অ্যাপলের অতীত হালচাল:

কিছুতেই চীনের স্মার্টফোন বাজারটা ঠিক আয়ত্তে আনতে পারছে না অ্যাপল। চীনে আইফোন ছিল চতুর্থ অবস্থানে। সম্প্রতি চীনা ব্র্যান্ডগুলোর কাছে সে স্থানটিও খুইয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে আইফোন।

বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে আইফোন বিক্রি ১৮.২ শতাংশ কমে ৪ কোটি ৩৮ লাখে নেমে এসেছে। প্রথম অবস্থানটা হুওয়ায়ের, চীনের বাজারে এরপর অপো দ্বিতীয় ও ভিভো রয়েছে তৃতীয় স্থানে।

চীনাদের আইফোনপ্রীতি দেখে একসময় ধরেই নেওয়া হয়েছিল, চীনের বাজারে অ্যাপলের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। তবে চীনের স্থানীয় ব্র্যান্ডের ফোনগুলো বেশ ভালো লড়াই করতে পেরেছে বলা যায়। সম্ভবত আইফোনের উচ্চমূল্য ও স্থানীয় ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জনপ্রিয়তাই এর পেছনের কারণ।

আইফোন বিক্রিতে ভাটা:

২০১৭ সাল থেকেই আইফোন বিক্রি কমছে চীনের বাজারে। যদিও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক এই ক্ষতির পেছনে কারণ হিসেবে মুদ্রামানের কথা বলেছেন। তবে চীনা বাজারটি যে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, সেটাও উল্লেখ করেন তিনি।

ক্যানালিস অবশ্য অ্যাপলকে পুরোপুরি হতাশ করেনি। এর গবেষক জেসি ডিং বলেছেন, অনেক চীনা তাঁদের পুরোনো আইফোনই ব্যবহার করছেন এবং তাঁরা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে নতুন ‘আইফোনের জন্য অপেক্ষা করছেন। সে কারণেই হয়তো ওই বছর আশানুরূপ আইফোন বিক্রি হয়নি।

নতুন এই আইফোনের দাম যদিও এক হাজার ডলারের বেশি হবে, তবে পর্দার বাইরের ফাঁকা জায়গা না থাকা ও পর্দায় ভার্চ্যুয়াল বোতাম থাকার সুবিধা দুটি গ্রাহকদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীন-মার্কিন বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাব:

২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে চীন-মার্কিন বাণিজ্য উত্তেজনায় এবার অ্যাপল পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে চীনা নাগরিকরা। মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল হুয়াওয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর চীনে ‘অ্যাপল বিরোধী’ চেতনার ঝড় বইছে।

বাজফিড নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অনলাইন ফিড এখন দখল করে নিয়েছে ‘বয়কট অ্যাপল’। এজন্য তারা বেছে নিয়েছে উইবো-কে। অ্যাপলের প্রতি অবজ্ঞা করে সেখানে তারা নিজেদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলছেন, যেখানে হুয়াওয়ে প্রযুক্তি অ্যাপলের সমকক্ষ সেখানে কেন একজন চীনা অ্যাপল কেনেছেন? এভাবেই তারা নিজেদের প্রতি বিতশ্রদ্ধা ও খোদ ব্যক্ত করছেন।

হুয়াওয়ের লোগো ব্যবহার করে কেউ কেউ সেখানে লিখছেন, হুয়াওয়ের ফাংশন অ্যাপল আইফোনের চেয়ে কম নয় বরং আরো ভালো। তবে কেন আমরা এখনো অ্যাপল ব্যবহার করছি?

চীনের অপর এক নাগরিক উইবোতে লিখেছেন, হুয়াওয়ে যে অবস্থান ধরে রেখেছে সেটা প্রসংশার। এমন কৌশলেই থাকা উচিত। আমরা বরং অ্যাপলকে ছাড়াবো।

অপরদিকে চীন সরকার হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র তা তাদের সরকারের  পক্ষ  থেকে করা হচ্ছে না। এটা একান্তই দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিষয়। তবে সরকারিভাবে তা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

যে কারণে চীনে গিয়ে পণ্য উৎপাদন করে অ্যাপল:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের জায়ান্ট কোম্পানি অ্যাপল কেন চীনে গিয়ে তার পণ্য উৎপাদন করে? সবাই জানেন, কারণ চীনে পণ্য উৎপাদনের খরচ কম। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উৎপাদিত সকল পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়ার পরও অনড় অ্যাপল। কিন্তু কেন?

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, চীনা পণ্যের ওপর আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরও অ্যাপল নিজ অবস্থান অনড় রয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে চীনে সপ্তাহে একজন দক্ষ কর্মীর বেতন পড়ে মাত্র ১০০ ডলার।

আমেরিকায় তা ভাবাও যায় না। চীনে অ্যাপলের স্মার্টফোন কালেক্টকারী কর্মকর্তার বেতন মাত্র ৪০০ ডলার। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন বেতন হলো ৮২৪-১৪০০ ডলার।

চীনে উৎপাদন খরচ ও দ্রুতই প্রয়োজনীয় কর্মী সংগ্রহ করা যায় যা আমেরিকাতে কঠিন। আমেরিকার তুলনায় চীনে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় পণ্যের দামও কম হয়।

অ্যাপলের রপ্তানি পরিচালনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনে এক রাতের মধ্যে তিন হাজার কর্মী সংগ্রহ করা সম্ভব। আমেরিকায় এমন কোনো কোম্পানি নেই যা এতো কর্মী যোগাড় করতে পারে।

মার্কিন কোন কোম্পানি রাতারাতি এত কর্মী জোগাড় ও কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট বাসস্থানে স্থানান্তরিত করতে পারা একেবারেই অসম্ভব। আমেরিকার তুলনায় চীনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, উৎপাদন সামগ্রী সেখানেই প্রস্তুত করা হয়।

অ্যাপলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, যদি এক হাজার চামড়ার টুকরা প্রয়োজন হয় তবে রাস্তার অপর পাশেই এগুলো প্রস্তুতকরণের কারখানা রয়েছে। যদি ১০ লাখ স্ক্রু প্রয়োজন হয় তবে তা অপর এলাকায় পাওয়া যাবে।

এছাড়া অন্য পন্থায় ৩ ঘন্টার মধ্যেই এগুলো পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব সুবিধার কারণেই চড়া শুল্কের হুমকির পরও চীনকে প্রাধান্য দিচ্ছে অ্যাপল।

বৈশ্বিক বাজারে ২০১৯ সালে বিভিন্ন ফোনের অবস্থান:

২০১৯ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ( এপ্রিল- জুন) এ তিন মাসে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রি ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার ইনকরপোরেশনের এ তথ্য দিয়েছে।

গার্টনারের তথ্য অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৬ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। কম দামের স্মার্টফোন মডেলগুলোয় প্রিমিয়াম ফোনের ফিচার হিসেবে একাধিক লেন্স, বেজেলহীন ডিসপ্লে, বড় ব্যাটারিসুবিধা যুক্ত হওয়ায় প্রিমিয়াম ফোনের বিক্রি কমছে।

সে তুলনায় বাড়ছে মিড রেঞ্জ ও লো এন্ডের স্মার্টফোনের চাহিদা। স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের মধ্যে চীনের হুয়াওয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাজার দখলে এগিয়ে রয়েছে।

১. বৈশ্বিক বাজার দখল ধরে রেখেছে স্যামসাং:

স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের দখল ধরে রেখেছে। গার্টনারের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে ৭ কোটি ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি করে বাজারের ২০ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে রাখে স্যামসাং।

গত বছরের একই সময়ে ৭ কোটি ২০ লাখ ইউনিট ফোন বিক্রি করে বাজারে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ দখল করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ‘এ’ সিরিজ এ ক্ষেত্রে ভালো করেছে।

 এ সময় অবশ্য স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ এস১০ মডেলের চাহিদা কমতে শুরু করেছে। বছরজুড়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা স্যামসাংয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করছেন গার্টনারের বিশ্লেষকেরা।

২. প্রবৃদ্ধি ভালো চীনের হুয়াওয়ের :

স্মার্টফোন বাজারের দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছেন চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। এপ্রিল থেকে জুন মাসে ৫ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি করে বাজারের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত বছরের একই সময়ে ৪ কোটি ৯৮ লাখ ইউনিট ফোন বিক্রি করে বাজারের ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ দখল করেছিল হুয়াওয়ে। সে তুলনায় এ বছর হুয়াওয়ের প্রবৃদ্ধি ভালো।

৩. আইফোন নির্মাতা অ্যাপলের অবস্থান যেমন :

বাজারের তিন নম্বর অবস্থানে রয়েছে আইফোন নির্মাতা প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। কয়েক বছর ধরে আইফোনের বিকিনিকি হ্রাস পেয়েছে। অবশ্য চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে আইফোন বিক্রির হার বেড়েছে।

বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রি করে বাজারের সাড়ে ১০ শতাংশ দখল করে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরে এ সময় অ্যাপলের দখলে ছিল বাজারের ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।

৪. সুনাম বেড়েছে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমির:

বর্তমানে স্মার্টফোন বাজারের চার নম্বরে রয়েছে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি। গত প্রান্তিকে ৩ কোটি ৩১ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গার্টনারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে শাওমির।

গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ কোটি ২৮ লাখ ইউনিট ফোন বিক্রি করে শাওমি। গত বছর শাওমির বাজার দখল ছিল ৮ শতাংশ, যা এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৯ শতাংশ হয়েছে।

৫. পঞ্চম স্থানে রয়েছে অপো:

স্মার্টফোনের বাজারের ৫ নম্বর স্থানটি আরেকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২ কোটি ৮১ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে অপো।

গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় এ বছরে স্মার্টফোন বিক্রি কিছুটা কমেছে প্রতিষ্ঠানটির। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২ কোটি ৮৫ লাখ ফোন বিক্রি করেছিল অপো। অপোর বাজার দখল ৭ দশমিক ৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, বাজফিড নিউজ, ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিস, গার্টনার ইনকরপোরেশন ও ক্যানালিস

আরো দেখুন

Leave a Comment