করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কী দ্বিতীয়বার হতে পারে?

করোনার ভ্যাকসিন

পৃথিবীর দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে মহামারী করোনাভাইরাস। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা মানবজাতির মধ্যে। করোনাভাইরাসের কারণে সবখানে হাহাকার ধ্বনিত হচ্ছে। এর মধ্যেই নেট দুনিয়ায় একটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে দ্বিতীয়বার শরীরে করোনা সংক্রমণ হতে পারে কি নআ?

অতীত ইতিহাস যা বলে:

যে কোনো ভাইরাসজনিত রোগের পরে শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয় ফলে দ্বিতীয়বার শরীরে ভাইরাস সংক্রমিত হয় না। এটা চিকিসা বিজ্ঞান স্বীকৃত।

তবে করোনা ভাইরাসের বিষয়টি ব্যতিক্রম। এ বিষয়ে স্পষ্ট জানা যায়নি। তবে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয়বার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন ইতিমধ্যে হয়েছে।

 

দৃষ্টান্ত দিবালা ও তার বান্ধবী:

শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর থেকেই কোয়ারেন্টিনে ছিলেন আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার পাওলো দিবালা। কিছুদিন আগে করোনামুক্ত হয়েছেন তিনি। তিন দিন পরেই আবারও কোভিড-১৯ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন পাওলো দিবালা ও তাঁর বান্ধবী ওরিয়ানা সাবাতিনি।

দ্বিতীয়বারের মতো কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ার খবর জানিয়েছেন দিবালার বান্ধবী সাবাতিনি। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ‘দ্য সান’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা স্বীকার করেছেন সাবাতিনি।

জানা যায়, ২১ মার্চ পাওলো দিবালা ও তার সঙ্গীর শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। কোভিড-১৯ পরীক্ষায় দুজনের ফলাফলই পজিটিভ আসে। দুজনেই ১৫ দিনের কোয়ারেন্টিন কাটিয়ে আবারও পরীক্ষা করালে ফল নেগেটিভ এসেছিল।

খুশির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হানা দিল দুঃস্বপ্ন। তৃতীয়বারের পরীক্ষায় আবারও পজিটিভ হয়েছেন দিবালা ও তাঁর বান্ধবী। শরীরে করোনা নেই ভেবে চিন্তাহীন ভাবে থাকা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাবাতিনি।

উপনীত হওয়া যাচ্ছে না সিদ্ধান্তে:

এর আগে কারো শরীরে দ্বিতীয়বার করোনার সংক্রমণের দৃষ্টান্ত দেখা যায়নি। তাই দিবালা ও তার বান্ধবীর শরীরে দ্বিতীয়বারের মতো করোনা পজিটিভ হওয়ার পরেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাচ্ছে না যে করোনা দ্বিতীয়বারও সংক্রমণ ঘটায়।

সাবাতিনির ভাষায়, আমি জানি না কী কী করলে ফলাফল পজিটিভ হয় বা নেগেটিভ হয়। আমি জানি না আমাদের ফল নেগেটিভ কেন আসল, পজিটিভই বা কেন আসল। আমার মনে হয় কেউ যদি মনে করেন তিনি করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে গিয়েছেন, শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর আরেকবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার দরকার।’

আগে ভেবেছিলাম আমরা দিবালার সতীর্থ দানিয়েলে রুগানি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছি। কিন্তু এবার আমি কোনো কিছু বুঝতে পারছি না। ১৫ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ করার পর এই ভাইরাসের আর থাকার কথা না। সবাইকে বলব অন্তত ১৫ দিনের জন্য হলেও ঘরে থাকুন।’

তবে আশার কথা এই যে, সুস্থ আছেন দিবালা এবং তাঁর বান্ধবী।

গোটা মানবজাতি প্রাণপণ চেষ্টা:

করোনাভাইরাস কীভাবে আটকানো যায়, সে ব্যাপারে গোটা মানবজাতি প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দিবালা ও তার বান্ধবীর দ্বিতীয়বারের মতো পজিটিভ হওয়া এটাই প্রমাণ করে, যে এই ভাইরাসটা সম্পর্কে সংশিষ্টদের জানার ঘাতটি রয়েছে। তাই প্রথমবার সুস্থ হলেও অবাদে ও নিচিন্তে বিচরণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশিষ্টরা।
করোনার হালচাল:

করোনাভাইরাস মহামারীতে অচল গোটা বিশ্ব। হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা। বিশ্বের অন্তত ১৩১টি দেশে চলছে লকডাউন। থেমে নেই মৃত্যুর মিছিল, প্রতি মুহুর্তেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

করোনায় প্রাণহানি ও অসুস্থদের পরিসংখ্যান রাখা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ওমিটারের তথ্য অনুযায়ী সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গোটা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ জন।

মারা গেছে ৬৯ হাজার ৪৫১ জন। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ইউরোপ ও আমেরিকার। বেশিরভাগ মৃত্যু হয়েছে এ দুই মহাদেশে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও স্পেনে প্রতিদিন মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হচ্ছে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ ৬২ হাজারের বেশি।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে প্রথম ছড়ায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। দেশটিতে দ্বিতীয় দফায় তা ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরো দেখুন

Leave a Comment