করোনার ডজনখানেক ভ্যাকসিন পাইপলাইনে

করোনার ডজনখানেক ভ্যাকসিন পাইপলাইনে

করোনাভাইরাসের বিস্তৃতির গতি দেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার পরপরই বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন পরীক্ষার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা করোনার ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পাইপলাইনে রয়েছে এমন অন্তত ডজনখানেক ভ্যাকসিন।

 

ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু:

১৬ মার্চ-২০২০ থেকে মানবদেহে নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম একজন নারী স্বেচ্ছাসেবী ভ্যাকসিনটি নিয়েছেন।ওয়াশিংটনের সিয়াটলে ওয়াশিংটন হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রম শুরু করেছে। ম্যাসাচুসেট ভিত্তিক জৈব প্রযুক্তি কোম্পানি মর্ডান ইনকরপোরেশন যৌথভাবে এটি তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) এর পক্ষে জানানো হয়, এ ভ্যাকসিন সত্যিই কাজ করবে কিনা ও এটি কতোটা নিরাপদ তা যাচাইয়ে মানবদেহে কয়েক ধাপের পরীক্ষার কেবল শুরু এটি। প্রাথমিকভাবে এর কাজ শুরু করলেও আরো অনেক সময় লাগবে এর ফলাফল জানার জন্য।

 

যে নাম দেওয়া হলো ভ্যাকসিনের:

এনআইএইচ উদ্ভাবিত এ ভ্যাকসিনের নাম দেওয়া হয়েছে এমআরএনএ-১২৭৩ (mRNA-1273)। ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য ১২ থেকে ১৮ মাস অপেক্ষা করতে হবে। মানবদেহে পরীক্ষা চালানোর জন্য এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালস নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় মানবদেহে এপ্রিলে পরীক্ষা শুরু করবে তারা।

মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি ফাইজার ইনকরপোরেশন (Pfizer Inc) ও জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক এসই যৌথভাবে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। বায়োএনটেকের এমআরএনএ ভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করবে তারা। ১৭ মার্চ-২০২০ কোম্পানির পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিগগিরই কাজ শুরু করবে ও এ ভ্যাকসিন চীনের বাইরে বিতরণ করা হবে বলে দুই কোম্পানির যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়। তবে যৌথভাবে কাজ করার জন্য বিশ্ববাসী ইতিবাচক ফল পাবে বলে আশা করছেন সংশিষ্টরা।

 

আমেরিকা-জার্মানির যৌথ উদ্যোগ:

১৫ মার্চ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউরভ্যাক নামে একটি জার্মান ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে মার্কিন প্রশাসন। এ কোম্পানি একটি পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এর মধ্যে টানপোড়েন শুরু হয়েছে আমেরিকা ও জার্মানির মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন জার্মানির গবেষকররা আমেরিকায় গিয়ে গবেষণা করুক। তবে জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মেরকেল সরকার মার্কিন প্রশাসনকে এ ধরনের প্ররোচনা দেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সাফ ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ফাইজার ও বারোএটেক ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা ও তৈরির কাজে উভয়ের অবকাঠামো ব্যবহার করবে। তারা জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশেই তাদের ল্যাবে সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে।

১৬ মার্চ ২০২০ বায়োএনটেক চীনা সাংহাই ফোসান ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করেছে। করোনার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন চীনে প্রয়োগের অধিকার পেতে এ চুক্তি হয়েছে। আগামী এপ্রিলের শেষ নাগাদ এটি মানবদেহে পরীক্ষা শুরু হতে পারে।

ফাইজার ও বায়োএনটেক এর আগে এমআরএনএ ভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন তৈরি করেছে।

 

ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে চীনেও:

চীনেও করোনার ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এখনো তারা কেউ মানবদেহে পরীক্ষা চালানোর মতো পর্যায়ে যেতে পারেনি। চীন জানুয়ারিতে করোনার জিন সিক্যুয়েন্স উন্মুক্ত করে দেয়ার ফলে এ ভাইরাসের টেস্টিং কিট ও ভ্যাকসিন তৈরিতে বেশ কাজে লেগেছে।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে করোনা ভাইরান। গত আড়াই মাসে বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কিছুটা কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে এর প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

বিশ্বে করোনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৪ জন। অপরদিকে ৮২ হাজার ৭৬২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৯৮ হাজার ৪১২ জন। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *